<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255</id><updated>2012-02-16T01:27:37.088-06:00</updated><category term='উপন্যাস'/><category term='বিবিধ'/><category term='গল্প'/><category term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><category term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>মুহম্মদ জুবায়ের</title><subtitle type='html'></subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><link rel='next' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default?start-index=101&amp;max-results=100'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>119</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-1180147030880319196</id><published>2008-08-22T07:25:00.000-05:00</published><updated>2008-08-22T07:27:44.829-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>দুই মাস যখন দুই দিনে নেমে আসে</title><content type='html'>কাল তিন তিনবার ভুল রাস্তায় চলে গেলাম। আক্ষরিক অর্থেই ‘এ পথে আমি যে গেছি বারবার’ বলার মতো দুশো মাইলের পথ। ইন্টারস্টেট-৩৫ ধরে সরাসরি ড্রাইভ, কোনো ঘোরপ্যাঁচ নেই। তবে হাইওয়ে মাঝেমধ্যে বিভক্ত হয়ে যায় অন্য নানা ঠিকানার দিকে। ভুল হলে অন্য শহরে পৌঁছে যাওয়া, নিদেনপক্ষে একটা চক্কর খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যায়। ডালাস থেকে অস্টিন গিয়েছি, তখন সব ঠিকঠাক। ফেরার পথে ভুল রাস্তায় গিয়ে গোলমাল, চক্কর খেতে হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়েটা বড়ো হয়েই গেলো, চলে যাবে পড়তে অস্টিনে। জুন মাসের মাঝামাঝি খবর জানার পর মনে হলো, দুই মাস সময় এখনো আছে । অথচ কোথা দিয়ে কীভাবে সময়টা চলে গেলো! এই দুই মাসে আমরা অনেক কথা বলবো; জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ’ কনসার্টের ডিভিডি এবং হ্যারিসনের মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধুদের আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর জর্জ’-এর ডিভিডি কিনে রাখা আছে দীর্ঘদিন, এখনো সেলোফেন-আবৃত, কথা ছিলো একসঙ্গে বসে দেখবো। সময়গুলি কোথায় গেলো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরশু আমাদের চারজনের পরিবার গেলাম অস্টিনে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেয়ের পরিচয়-পর্ব (orientation) হলো। ক্লাস শুরু হতে এক সপ্তাহ দেরি, কিন্তু আবার তাকে নিয়ে অস্টিনে আসতে হবে শনিবার, তিনদিন পর। নতুন শহরে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে সে উঠবে সেদিন, গোছগাছ করে ক্লাসের জন্যে তৈরি হওয়ার সময় পাবে দিন তিনেক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাল দুপুরের দিকে তার অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে যাওয়া হলো। মেয়ে রুমমেট ঠিক করেছে এক প্যালেস্টাইনি মেয়ে ফারাহকে। ফারাহ-র বাবা গতমাসে নিজে এসে ঘুরে ঘুরে সব ঠিকঠাক করে গেছেন। ভদ্রলোকের পছন্দের ওপর কোনো কথা চলে না, অ্যাপার্টমেন্ট এবং কাছাকাছি এলাকা দেখে যে কোনো বাবা-মা নিশ্চিন্ত বোধ করতে পারে। বস্তুত, সকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের রাস্তাঘাট-বাড়িঘর দেখে আমার একটু ফাঁপড় লাগছিলো। বেশ পুরনো, ঘিঞ্জিমতো সব, ডাউনটাউন এলাকায় যেমন হয়। তখনো সঠিক ধারণা নেই, ওদের অ্যাপার্টমেন্ট ঠিক কোথায়, কেমন জায়গা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইল কয়েকের দূরত্বে অ্যাপার্টমেন্ট দেখে মেয়ে নিজেও মহা উচ্ছ্বসিত। নিজের প্রথম ঠিকানা বলে কথা, বাবা-মায়ের ছায়ার বাইরে তার স্বাধীনতার ঠিকানা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফেরার পথে মেয়েকে বলি আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল-জীবনের গল্প। নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট দূরের কথা, নিজের বিছানার স্বপ্ন দেখাও কঠিন সূর্যসেন হলের ৪৪৮ নম্বর কক্ষের মেঝেতে শায়িত হয়ে। প্রথম বছরের প্রায় পুরোটাই সেভাবে কেটেছিলো। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে মেয়ে তাকিয়ে থাকে, কল্পনাশক্তিও তাকে ছবিটা দেখতে সাহায্য করে বলে মনে হয় না। না হোক, কোনো ক্ষতি নেই। তার এখন সামনে তাকানোর সময়, তাকে স্বপ্ন দেখতে হবে আগামীর, পিতামাতার অতীতের জঞ্জালে তার কোনো প্রয়োজন না থাকাই উচিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দীর্ঘ যাত্রায় যেমন হয়, একসময় কথা থামে। ছেলেমেয়েরা এরকম যাত্রায় সচরাচর পালা করে প্যাসেঞ্জার সীটে বসে ডি জে হয়ে গান বাজায়। এখন মেয়ে সেই ভূমিকায়, তার নিজের ও ছোটো ভাইটির পছন্দের গান বাজায়। ওদের বয়সের ব্যবধান আট বছরের, একটা সময় ছিলো তাদের মধ্যে বনিবনা প্রায় ছিলোই না – তাদের দুই পৃথিবীর দূরত্ব এতোটাই বেশি তখন। বছর দুয়েক ধরে সেটা পাল্টাতে শুরু করেছে। দুইজনে মিলে কতোসব বকবক করে, একত্রে বসে গান শোনে। মেয়ে নিজের গরজে প্রতি সপ্তাহে ভাইকে নিয়ে যায় সিনেমা দেখতে। বোনের ফিরতে দেরি হলে ছেলে ‘আপু কখন আসবে? ফোন করি?’ জিজ্ঞেস করতে থাকে। ঠিক এই সময়েই তাদের বিচ্ছিন্ন হতে হবে ভাবলে কষ্ট হয়। এই সময় কি আর তাদের জীবনে ফিরে আসবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন ছেলেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপু চলে গেলে তোমার খারাপ লাগবে?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলে নিঃশব্দে কাঁধ ঝাঁকায়, সে জানে না। হয়তো সত্যিই জানে না। তার জীবন এরকম চলে যাওয়ার ঘটনা কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। অবিলম্বে জানবে, জীবন তাকে আরো অনেক অভিজ্ঞানে অভিজ্ঞ করে তুলবে ক্রমশ। এইসব ছোটোবড়ো নানা ধরনের দুঃখ-কষ্ট থেকে কে কবে রেহাই পেয়েছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিডি-তে বেজে যাওয়া গান কানে আসে, মরমে পশে না। গাড়ি চালাচ্ছি, বারবার অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছি। আচমকা মনে হয়, আর মোটে কয়েকদিন পরে যখন অস্টিন থেকে ফিরবো, তখন মেয়ে পাশে বসে থাকবে না। তাকে ছেড়ে আসতে হবে তার নতুন ঠিকানায়। ভেতরটা কেন কে জানে খুব শূন্য লাগতে থাকে। খুব দূরের পথ নয়, চাইলেই যাওয়া-আসা হবে। কিন্তু তবু সে তো দূরেরই একজন হয়ে উঠবে দিনদিন। এখন বলছে, প্রতি সপ্তাহে না হলেও অন্তত দুই সপ্তাহ পরপর সে আসবে। হয়তো আসবে, কিন্তু দুই ক্রমশ তিন বা চার সপ্তাহ হয়ে যাবে, একসময় আরো আরো দীর্ঘ। জীবন এরকমই, নিজেকে দিয়েই জানি, আমার পিতামাতাও আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে এই বোধ নিয়ে চোখ মুছে গৃহকর্মে মন দিয়েছিলেন। এখন আমার পালা। যা কিছু নিয়েছি তা ফিরিয়ে দিতেই হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রথম দুইবার ভুল পথে গিয়ে আর কেউ টের পাওয়ার আগেই চুপচাপ ফিরতে সক্ষম হই। ধরা পড়লাম শেষবার ডালাস শহরে ঢোকার পর। ছেলেমেয়ের মা টের পেয়ে যায়, ‘কী হলো তোমার?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী করে বলি, এই বাবাটি নিজেকে অনেক শক্ত মনের মানুষ ভাবলেও হয়তো ততোটা শক্ত সে নয়। কিন্তু আর কারো তা জানার দরকার নেই। চোখের কী দোষ? Must be the clouds in my eyes!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;em&gt;২১ অগাস্ট ২০০৮&lt;/em&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-1180147030880319196?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/17801' title='দুই মাস যখন দুই দিনে নেমে আসে'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/1180147030880319196/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=1180147030880319196' title='5 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1180147030880319196'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1180147030880319196'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/08/blog-post_22.html' title='দুই মাস যখন দুই দিনে নেমে আসে'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>5</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6881549062442596605</id><published>2008-08-12T07:46:00.002-05:00</published><updated>2008-08-12T07:49:34.399-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>বাঙালির সময়</title><content type='html'>‘ন’টার গাড়ি ক’টায় ছাড়ে?’ এই রসিকতাটি অথবা এর কাছাকাছি কোনো কোনো শ্লেষ-মেশানো বাক্য বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে চালু আছে দীর্ঘকাল ধরে। একদিন ঠিক সময়ে ট্রেন স্টেশনে এলে যাত্রীরা বিস্মিত, কারণ এই ট্রেনটি কখনোই সময়মতো আসে না। সত্যভাষী স্টেশনমাস্টার জানালেন, এটার আসার কথা ছিলো গতকাল। এই রসিকতাও পুরনো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোনো কাজ – তা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক অথবা রাষ্ট্রীয় যা-ই হোক – যথাসময়ে সম্পন্ন হবে না, এরকমই আমাদের অভিজ্ঞতা। আমরা স্টেশনে পৌঁছিবার পূর্বেই ট্রেন ছাড়িয়া যাইবে। ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা যাইবে। ট্রেন-বাস-লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা শুরু করবে, বিদ্যুতের বিলটি আসবে পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সময়জ্ঞান বা সময়ানুবর্তিতা বিষয়ে বাঙালির খুব সুনাম নেই। আর এ সম্পর্কে সবচেয়ে প্রচলিত ‘আরে, বাঙালির সময়!’ কথাটি বলার একচ্ছত্র অধিকার আমরা বাঙালিরাই নিয়ে রেখেছি। এই বাক্যটি আমরা সবাই কমবেশি কখনো না কখনো বলেছি। ঠাট্টাচ্ছলে, ক্ষোভে, নিন্দাসূচকভাবে, বিরক্তি প্রকাশের জন্যে, এমনকি নিদারুণ তিক্ততায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বস্তুত, নিজেদের দেশ বা জাতিগত পরিচয় নিয়ে বাঙালির মতো নিন্দাসূচক উক্তি সম্ভবত পৃথিবীর আর কোনো জাতি করে না। এটিকে আত্মসমালোচনা বলে চিহ্নিত করা মুশকিল। কারণ, আত্মসমালোচনা করা হয় একটি সম্ভাব্য উত্তরণ বা সমাধানের আশা ও আগ্রহ থেকে। আমাদের ক্ষেত্রে তার কোনোরকম লক্ষণ দেখা যায় না। আমরা বলার জন্যেই বলি, সংশোধিত হওয়ার আগ্রহ আমাদের কম। এই বিষয়ে প্রত্যেকেরই যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু করণীয় আছে যা আখেরে সমষ্টির অভ্যাসে পরিণত হতে পারে, সেখানে আমরা উদাসীন থাকতে সচ্ছন্দ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="color:#ff0000;"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;০২&lt;/span&gt; &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;দেশে তো বটেই, পরবাসে বছরের পর বছর বসবাস করেও আমরা সময় নিয়ে হেলাফেলার চর্চাটি দিব্যি চালু রেখেছি। রুটিরুজির মামলা জড়িত বলে কর্মস্থলে আমরা ঠিকই পৌঁছে যাই নির্ধারিত সময়ে, সেখানে সময়জ্ঞানটি টনটনে। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে এবং সামাজিকতায় আবার নির্ভুলভাবে বাঙালি সময় উদযাপন করি। সাতটার অনুষ্ঠান ন’টার আগে শুরু হয় না। সন্ধ্যা ছ’টায় হয়তো কিছু আমন্ত্রিত মানুষজনের আসার কথা। নিমন্ত্রিত এবং নিমন্ত্রণকারী উভয়পক্ষই জানেন তা আটটার আগে ঘটা সম্ভব নয়। নিমন্ত্রিত কেউ সময়মতো এলে দেখবেন গৃহের বাসিন্দারাই তখনো প্রস্তুত নন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার নিজের একটি চরম অভিজ্ঞতার কথা বলি। কয়েক বছর আগে এক তরুণ দম্পতি তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে জনা পঞ্চাশেক অতিথিকে আমন্ত্রণ করেছেন বাসায়। সময় দেওয়া ছিলো সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। স্বীকার করে নিই, আমরা নিজেরাও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইনি। বাঙালি তো! অতিথিরা সবাই এলেন ন’টার মধ্যে। গৃহকর্তা হাসিমুখে সবাইকে অভ্যর্থনা করে বসাচ্ছেন, নরম পানীয় সরবরাহ করছেন, ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলছেন। গৃহকর্ত্রীর দেখা নেই। কৌতূহলী মহিলাদের প্রশ্নের মুখে গৃহকর্তা জানান, গৃহিনী ওপরতলায় আছেন, তৈরি হয়ে নামবেন একটু পরে। তাঁর সুসজ্জিত হয়ে অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি যখন শেষমেশ ঘটলো তখন ঘড়িতে এগারোটা। আহার-পর্ব ততোক্ষণে শেষ, গৃহকর্তা রেস্টুরেন্ট থেকে কেটার করে আনা খাবার নিজেই পরিবেশন ও তদারক করেছেন। অতিথিদের কেউ কেউ বিদায়ও নিয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যতিক্রমের কথাও বলা দরকার। একবার এক ভদ্রলোক তাঁর মেয়ের বিয়ের ছাপানো কার্ড পাঠিয়েছেন ডাকে। নির্ধারিত দিনের এক সপ্তাহ আগে ফোন করে আমন্ত্রিতদের প্রত্যেককে বিনীতভাবে জানালেন, অনুষ্ঠানটি ঘড়ি ধরে ঠিক সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে এবং কারো পক্ষে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে না এলেও চলবে, তাঁরা কিছু মনে করবেন না। কিন্তু অধিকাংশ অতিথি অভ্যাসবশে যথারীতি বিলম্বে উপস্থিত হয়ে গৃহকর্তার অসন্তোষের কারণ ঘটিয়েছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটি ঘটনার কথা শুনেছি। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতদের বারবার বলে দেওয়া হয়েছিলো নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে। অনেকে অনুরোধটি রক্ষা করলেও প্রায় অর্ধেক সংখ্যক অতিথি যথার্থ বাঙালি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন নির্ধারিত সময়ের প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পরে। ইতোমধ্যে আহারপর্ব শেষ হয়ে গেছে এবং গৃহকর্তা অবশিষ্ট খাবার তুলে রেখে বা ফেলে দিয়ে টেবিল পরিষ্কার করে ফেলেছেন। লেট লতিফরা এদিক-ওদিক তাকিয়ে কোনো আহার্যবস্তু দেখতে না পেয়ে কিছু বিস্মিত। একজন মুখ ফুটে শেষমেশ গৃহকর্তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের একটু ফেরার তাড়া আছে, খাবার কখন দেওয়া হবে? বিরক্তি ও হতাশা চেপে রেখে গৃহকর্তা নির্বিকার মুখে জানালেন, খাওয়া-দাওয়া তো হয়ে গেছে। আপনি খাননি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;০৩&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;সময়ের আগেই কাজ করে ফেলা কি বাঙালির চরিত্রে নেই? আছে, নিশ্চয়ই আছে। তবে এই করিৎকর্মারা একটি বিশেষ শ্রেণীর এবং আমাদের জনসংখ্যার একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। এঁরা বণিক শ্রেণীভুক্ত, যাঁদের আমরা ব্যবসায়ী বলে জানি, আদর-সমীহ করে বিজনেসম্যান বলি। বাংলাদেশে রোজার মাস উপলক্ষে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়া একটি বাৎসরিক ঘটনা, ব্যবসায়ীরা রোজার কয়েক সপ্তাহ আগেই দাম বাড়ানোর কাজটি শুরু করেন। মানুষকে অভ্যস্ত করে নেওয়া আর কি! সরকার তখন মাথা চুলকে ভাবতে থাকে, এদের কী করে সামলানো যায়। কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যায় না, মাথা চুলকাতে চুলকাতেই মৌসুম শেষ। ভোক্তা মানুষের পকেট কাটার কাজটি ততোদিনে সম্পন্ন হয়ে গেছে। আবার হয়তো পেট্রলের দাম বাড়লো, সেই বর্ধিত দামের পেট্রল পাম্পে আসার জন্যে অপেক্ষা করে কে? তার আগেই দাম উঠে গেলো। এই ধরনের উদাহরণ অফুরন্ত। প্রতিদিনই ঘটে বাংলাদেশে। ভুক্তভোগীরা জানেন, নতুন করে বলার অনাবশ্যক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;০৪&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;বাঙালির সময়জ্ঞান নেই, এই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অনায়াসে দাঁড়ানো যায় এবং ধারণাটি ভুল প্রমাণসাপেক্ষে উল্টোটাই প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে সময় বিষয়ে আমাদের এই ঢিলেঢালা মনোভাবটি মূলত শহরকেন্দ্রিক। অর্থাৎ, বলা চলে এটি এক ধরনের নাগরিক মনোভঙ্গি ও আচরণ। আমরা নিজেরা অপেক্ষা করতে পছন্দ করি বা না করি, অন্যকে অপেক্ষা করিয়ে রাখতে আমাদের বাধে না। কর্মস্থলে নিয়ম করে অনিয়মিত থাকি, সময়ের কাজটি ফেলে রাখি ‘থাক না পরে করলে ক্ষতি কী’ ভেবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অথচ বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের পেশা প্রধানত কৃষিকাজ। কৃষকরা ‘থাক, পরে করবো’ বলে যদি তাঁদের চাষবাসের কাজগুলি সময়মতো না করতেন তাহলে কী হতো? বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থে ভাতে মারা পড়তো। কৃষকরা সময়মতো জমিতে হালচাষ করেন, বীজ বপন করেন, শস্যের ও জমির পরিচর্যা করেন, সেচকার্য করেন, ফসল তোলেন – সবই নিয়ম করে, নির্ধারিত সময়ে। কৃষকরা সারা বাংলাদেশের মানুষের মুখে অন্নের যোগান দিয়ে আসছেন যুগ যুগ ধরে। কখনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। উপর্যুপরি প্রাকৃতিক সংকট ও দুর্যোগ তাঁদের টলাতে পারেনি, কর্তব্যকর্ম থেকে নিবৃত্ত করেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্যদিকে ছোটোবড়ো শহরাঞ্চলেও এক শ্রেণীর মানুষ আছেন, যাঁরা সময়ের কাজটি সময়ে সম্পন্ন করে থাকেন। শিল্প-কারখানায় কাজ করা মানুষগুলিও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হন, কলের চাকা চালু রাখেন। এর সঙ্গে রুটি-রুজির সম্পর্ক আছে নিশ্চিত, কিন্তু চেয়ার-টেবিলে বসা শহুরে কর্মজীবীদের অধিকাংশের সঙ্গে কর্তব্যকর্ম বিষয়ে এঁদের সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কৃষক-শ্রমিকরা বা শ্রমজীবী মানুষরা বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু, তাঁরা তো দেখতে পাচ্ছি সময়জ্ঞানে নাগরিক বাঙালি নন কোনো অর্থেই। সুতরাং বাঙালির সময়জ্ঞান নেই, এই ধারণার সঙ্গে আমরা একমত হবো কেন?&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6881549062442596605?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6881549062442596605/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6881549062442596605' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6881549062442596605'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6881549062442596605'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/08/blog-post.html' title='বাঙালির সময়'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6101357826029962746</id><published>2008-07-30T11:23:00.000-05:00</published><updated>2008-07-30T11:25:06.544-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>আমার কম্পুকানা প্রজন্ম</title><content type='html'>ঢাকায় এক বন্ধুকে ইমেল করেছি একটা দরকারি প্রশ্ন করে। অপেক্ষায় সপ্তাহ কেটে যায়, উত্তর আসে না। অগত্যা ফোন করি। বন্ধু ঘুমচোখে হ্যালো বলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দোস্ত, তোকে একটা ইমেল পাঠিয়েছি সপ্তাহখানেক আগে। পেয়েছিস?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই নাকি? না রে দোস্ত, খুব ব্যস্ত ছিলাম। ইমেল খোলা হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটাই প্রথম বা শেষ নয়, দেশে আমার অনেক বন্ধু আছেন, যাঁদের সঙ্গে এই ধরনের কথোপকথন নিয়মিতই হয়। এঁরা কমপিউটার-বিমুখ অথবা কম্পুকানা প্রজন্মের প্রতিনিধি। এঁদের প্রায় সবারই কর্মস্থলে কমপিউটার ব্যবহার অনেকটা বাধ্যতামূলক। হয়তো নেহাত ছক-বাঁধা কাজগুলি তাঁরা করেন মোটামুটি যান্ত্রিকভাবে, নাক-চোখ-মুখ বন্ধ করে, কোনোমতে শেষ হলেই বাঁচোয়া। কারো কারো বাড়িতেও আছে, তবে তা হয় ছেলেমেয়েদের প্রয়োজনে অথবা স্রেফ শোভাবর্ধনের জন্যে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইমেল পাঠিয়ে কয়েকদিন অপেক্ষার পর ফোন করে ইমেল খুলতে বলাটা হাস্যকর বটে। দুঃখেরও। তাহলে আর ইমেল করা কেন? সময় নষ্ট না করে ফোনটাই করা যতো দিনকয়েক আগে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আগেভাগেই বলে রাখি, আমি নিজে কম্পুকানাদের দলে যদিও কর্মসূত্রে সর্বক্ষণ কম্পু নাড়াচাড়া করতে হয়, ঘরেও অনেকটা সময় কম্পুতেই যায়। কিন্তু সে বিষয়ে আমার বিদ্যা বা দক্ষতা নিচের দিকে। আমার জানার পরিধি ততোটুকুই, যা হলে কোনোমতে কাজ চলে যায়। এর বাইরে আরো কিছু জানা বা শেখা দরকারি মনে হলেও সেই বাসনা নিবারণের মহৌষধ, কী দরকার! এই তো বেশ চলে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কমপিউটারে টাইপিং স্পীড দেখে আমার দশ বছর বয়সী পুত্র হাসাহাসি করে। বলে, এই স্পীড নিয়ে তুমি কাজ করো কী করে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি হাসি আর মনে মনে বলি, চুপ। একদম চুপ, কেউ যেন না শোনে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বস্তুত আমি এমন এক প্রাচীন এবং প্রযুক্তির বিচারে অক্ষম-অসহায় প্রজন্মের মানুষ যাঁদের কমপিউটার সম্পর্কে এক ধরনের জড়তা ও ভীতি আছে। জড়তার ধরণ, ‘আমি কি পারবো? না পারলে খুব লজ্জার কথা।’ ভীতিটা হলো, ‘টেপাটিপি করতে গিয়ে যদি কম্পু নষ্ট হয়!’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতি-সতর্কতা ও অর্থহীন ভীতি আমার প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষকে কম্পুকানা করে রেখে দিয়েছে। এঁরা একান্ত বাধ্য না হলে কমপিউটারের আশেপাশে ক্কচিৎ-কদাচিৎ ভেড়েন, অন্যথায় সম্পূর্ণ সংস্রবহীন থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে কমপিউটার ও আনুষঙ্গিক অনেক প্রযুক্তি আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা এবং সেসব আমাদের জীবনধারণ ও জীবনাচরণের অংশ হয়ে গেছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করে এবং তা ব্যবহার করে অনায়াস দক্ষতায়। সমস্যা শুধু অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের নিয়ে, যাঁরা আমার প্রজন্মের মানুষ। অথচ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কমপিউটার না জানা মানুষকে অশিক্ষিত গণ্য করা হবে বলে ধারণা করি। আমার বন্ধু ও সমবয়সীরাও তা জানেন এবং স্বীকার করেন, কিন্তু বিচিত্র উপায়ে চোখ ফিরিয়ে রাখতেও তাঁরা সক্ষম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কম্পুতে বাংলা লেখা সম্ভব জেনে এঁদের কেউ কেউ আজও বিস্মিত হন। যাঁরা অল্পবিস্তর কম্পু ব্যবহার করেন, তাঁরা শেখার আগ্রহ দেখান। সেই আগ্রহ স্থায়ী হয় না। তাঁদের কিছুতেই বোঝাতে পারি না, আমরা যারা দুরূহ বিজয় কীবোর্ড শিখেছিলাম, সে তুলনায় আজকাল কম্পুতে বাংলা কতো সহজ হয়ে গেছে, রোমান হরফ ব্যবহার করেও বাংলা লেখা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যতিক্রম দেখিনি, তা নয়। আমার এক বন্ধুর অধ্যাপক পিতা আমেরিকা এলেন বেড়াতে। ঐ স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস করে কমপিউটার শিখে ফিরে গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কমপিউটারে আমার কিছু আগ্রহ জন্মায় আশির দশকের শেষে। হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার ইত্যাদি একদম প্রাথমিক বিষয়গুলি শেখার জন্যে ক্লাস করতে গেলাম, সব মাথার ওপর দিয়ে গেলো। একজন পরামর্শ দিলেন, কমপিউটার কিনে বাড়িতে নিজে হাতেকলমে শেখা সবচেয়ে ভালো। প্রথমটা কিনলাম ৯০-এর অগাস্টে, স্পষ্ট মনে আছে। যন্ত্রটি ছিলো আইবিএম পিএস-টু, সিপিইউ-মনিটর একত্রে। আর কী ওজন তার! একটা আইবিএম প্রিন্টারসহ দাম পড়লো এক হাজার ডলার, হোক না অন্যের ব্যবহার করা পুরনো জিনিস। অপারেটিং সিস্টেম ডস, যতোদূর মনে পড়ে উইন্ডোজ তখন এসে গেছে, কিন্তু এই কমপিউটারে চলবে না। সেই শুরু আমার কম্পু-কম্পু খেলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমেরিকা ও কানাডায় বসবাসকারী আমার সমবয়সী কিছু বন্ধুবান্ধব ছোটোখাটো কম্পু-প্রশ্ন নিয়ে আমাকে মাঝেমধ্যে ফোন করেন। দুরূহ কিছু হলে আমি নেই, কিন্তু এইসব প্রাথমিক স্তরের জিনিসগুলি বিষয়ে সমাধান বাতলে দিতে পারলেও আমাকে তাঁরা বিশেষ প্রতিভাবান মনে করেন। বিশ্বাসই করেন না যে আমার বা তাঁদের ছেলেমেয়েরাও এই সমাধান দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একবার এক বন্ধু তাঁর কম্পুতে একটা প্রোগ্রাম ডাউনলোড করে ইনস্টল করবেন। ফোনে তাঁকে আমি কী করতে হবে ধাপে ধাপে বলে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে তিনি আটকে গেলেন। ভীষণ গিট্ঠু। আমি যতো সহজ করে বলার চেষ্টা করি, তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না। অধৈর্য তিনি প্রায় হাল ছেড়ে দিতে উদ্যত। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁকে বললাম, আপনার মেয়েকে ফোনটা ধরিয়ে দিন, সে এক মিনিটে বুঝে যাবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুবই অনিচ্ছায় তিনি বিশ্বিবদ্যালয়ে-পড়ুয়া মেয়েকে ডাকলেন এবং আমার অনুমান ঠিক, মেয়ে এক মিনিটে সমাধান করে ফেললো। তার কাছে এটা ডালভাত। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্ধুকে বললাম, বলেছিলাম না ও ঠিক পারবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্ধু গম্ভীর গলায় জবাব দিলেন, দেখতে হবে না কার মেয়ে!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6101357826029962746?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/17207' title='আমার কম্পুকানা প্রজন্ম'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6101357826029962746/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6101357826029962746' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6101357826029962746'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6101357826029962746'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/07/blog-post_30.html' title='আমার কম্পুকানা প্রজন্ম'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-5657006438697731715</id><published>2008-07-27T12:03:00.000-05:00</published><updated>2008-07-27T12:05:49.559-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>স্বপ্ন-জাগরণের মাঝখানে</title><content type='html'>পিতৃপুরুষের গ্রামের বাড়ি দোগাছি থেকে ফোন। কান্না-জড়ানো গলায় খোকা ভাই জানালেন, দাদা এইমাত্র মারা গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী বলবো, কী করবো বুঝতে না পেরে হতভম্বের মতো ফোন ধরে আছি। ভাবছি, সবাইকে খবরটা কীভাবে দেওয়া উচিত। ফোনে খোকা ভাই কীসব যেন বলে যাচ্ছেন, আমার মস্তিষ্কে তার কিছুই প্রবেশ করে না। না শোক, না দুঃখবোধ – কিছুই টের পাই না। শুধু মনে হয়, দাদা মারা গেলেন!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘুম ভেঙে যায়। ভোর হতে এখনো ঢের বাকি। বিছানায় উঠে বসি। বুঝি, স্বপ্ন দেখছিলাম। তখনো মনে মনে ভাবছি, দাদা মারা গেলেন!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিছানা থেকে নামি। বাথরুমে যাই ঘুমচোখে। ফিরে ঘুমিয়ে পড়ার আগেও ভাবছি, দাদা মারা গেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকালে অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই মনে আসে, দাদা মারা গেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দাঁত মাজা শেষে চোখেমুখে পানি দিয়ে ঘোর কাটে। মনে পড়ে, দাদা মারা গেছেন আজ নয়, প্রায় তিরিশ বছর আগে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অক্টোবর ১৩, ২০০৫&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-5657006438697731715?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/17131' title='স্বপ্ন-জাগরণের মাঝখানে'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/5657006438697731715/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=5657006438697731715' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5657006438697731715'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5657006438697731715'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/07/blog-post_27.html' title='স্বপ্ন-জাগরণের মাঝখানে'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-5905134787742531457</id><published>2008-07-21T12:15:00.006-05:00</published><updated>2008-12-13T01:02:02.343-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>একে একে নিভিছে দেউটি - এবারে কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SITExi550RI/AAAAAAAAAEI/J7sUnBubUME/s1600-h/Mahmudul+Haque.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5225517823118922002" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SITExi550RI/AAAAAAAAAEI/J7sUnBubUME/s320/Mahmudul+Haque.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div&gt;এইমাত্র পাওয়া খবর, কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক আর নেই। কয়েক ঘণ্টা আগে আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হৃদরোগের চিকিৎসাশেষে মাহমুদুল হক মাত্র তিন-চারদিন আগে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছিলেন আপাত-সুস্থ হয়ে, নিজে পায়ে হাঁটতে সক্ষম অবস্থায়। কিন্তু জীবন কী অনিত্য!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজকের অনেক পাঠকের কাছে মাহমুদুল হক খুব পরিচিত নন। বরাবর কম লিখতেন, ইদানিং প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন লেখালেখি। ষাটের দশকের এই দিশারী লেখকের কাছে আমরা &lt;strong&gt;জীবন আমার বোন&lt;/strong&gt;, &lt;strong&gt;নিরাপদ তন্দ্রা&lt;/strong&gt;-র মতো অসামান্য উপন্যাস পেয়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভালো কোনো খবর আজকাল আর পাওয়া হয় না। কীভাবে যেন যাবতীয় দুঃসংবাদ আমার কাছে দ্রুত এসে পড়ে। ব্যক্তিগত পরিচয় মাহমুদুল হকের সঙ্গে আমার ছিলো না, তবু ব্যতিক্রম হলো না।&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;----------------------------------&lt;br /&gt;জুলাই ২০, ২০০৮। সন্ধ্যা ৭:২০&lt;br /&gt;----------------------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-5905134787742531457?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16999' title='একে একে নিভিছে দেউটি - এবারে কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/5905134787742531457/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=5905134787742531457' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5905134787742531457'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5905134787742531457'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/07/blog-post_21.html' title='একে একে নিভিছে দেউটি - এবারে কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SITExi550RI/AAAAAAAAAEI/J7sUnBubUME/s72-c/Mahmudul+Haque.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-1038870798489713973</id><published>2008-07-19T19:51:00.001-05:00</published><updated>2008-07-19T19:52:34.358-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>খালের এই পাড়ে খাড়াইয়া কই…</title><content type='html'>বছর চার-পাঁচেক আগে ডালাসে বাঙালিদের একটা অনুষ্ঠানে গেছি। বিরতির সময় অডিটরিয়ামের বাইরে সবাই চা-সিঙাড়া খাচ্ছে, গল্পগুজব করছে, ধূমপায়ীরা ভবনের বাইরে নির্ধারিত এলাকায়। আমি শেষের দলভুক্ত। একসময় খেয়াল করলাম, এক ভদ্রমহিলা বাংলাদেশে ছাপা একটা রসিদবই নিয়ে সবার কাছে যাচ্ছেন চাঁদা সংগ্রহ করতে। একটু কান পেতে বোঝা গেলো, চাঁদা তোলা হচ্ছে মহিলার গ্রামের বাড়িতে মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের জন্যে। তাঁর বাড়ি কোথায় জানি না। হতে পারে বাংলাদেশের যে কোনো গ্রামে, কথা শুনে বোঝার উপায় নেই। আশ্চর্য লাগলো, বাংলাদেশের কোন প্রত্যন্ত গ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসা হবে, তার জন্যে চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে পৃথিবীর আরেক প্রান্তে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যথাসময়ে মহিলা আমার কাছেও এলেন। তাঁকে স্পষ্ট করে জানাই, মাদ্রাসা-মসজিদের জন্যে চাঁদা আমি দিই না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনিচ্ছুক কারো কাছে ঠিক এই জবাব হয়তো তিনি পাননি। ফলে, তাঁর বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখ আমাকে বেশ কয়েক মুহূর্ত নিরীক্ষণ করে। অতঃপর আর কোনো কথা না বলে (মনে মনে সম্ভবত আমার দোজখবাস সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে) তিনি পরবর্তী কোনো ধর্মপ্রাণ দয়ালুর সন্ধানে যান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু বাংলাদেশে এই কথাগুলি ঠিক এইভাবে আমি বলতে পারতাম? নিজের ভেতর থেকে না-সূচক উত্তরই পাই। গত ২০ বছরে বাংলাদেশে মসজিদ-মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে যতো প্রকার গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মাদনার বিস্তার ঘটেছে, তা একজন সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্যে যথেষ্ট আতংকের। হুমায়ূন আজাদের পরিণতি আমাদের জানা আছে। তিনি নিজেও হয়তো আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করতেন। তবু তাঁর স্পষ্টবাদিতা অক্ষুণ্ণ থেকেছে। স্বীকার করে নিই, তাঁকে নিয়ে মুগ্ধ হতে আমার কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু তাঁর অপরিমেয় সাহস ও স্পষ্টবাদিতার ছিঁটেফোঁটাও আমার মধ্যে দেখতে পাই না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বরং যা দেখি, তা আমাকে বিচলিত করলেও অন্য কাউকে জানতে দিই না। বিপদ চোখের সামনে দেখি না, দেখতেও হয় না, বিপদের একটা সম্ভাবনা অনুমান করা গেলেই শামুকের মতো খোলসে লুকিয়ে থাকি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তবে আমার সাহস কম, এরকম কথা মানবো কেন? আমি ধর্মীয় উন্মাদনার বিরুদ্ধে, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে, দেশে জলপাই শাসনের বিরুদ্ধে কি কথা বলি না? নিশ্চয়ই বলি। একশোবার বলি। কীভাবে? না, ইন্টারনেটে। ব্লগ লিখে। তাতে কারো কিছু এসে-গেলো? না যাক, আমি বিপ্লব সম্পন্ন করার পরিতৃপ্তি নিয়ে ঘুমাতে যেতে পারি। আত্মশ্লাঘার বোধ আমাকে একটা ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। আমি বোধহয় একটা কিছু করেই ফেললাম। ইন্টারনেটের বিপ্লবী না আমি!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন আমার এই বোধ ঘুমন্ত থাকে যে, ঘোর বিপদের সম্ভাবনা মাথায নিয়ে, গর্দানহীন হওয়ার আশংকার মধ্যেও বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে অনেকে আজও কাজ করে যাচ্ছেন, ধর্মোন্মাদনা ও রাজাকারতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়ানোর হিম্মত দেখাচ্ছেন। রাষ্ট্রক্ষমতার সামরিকায়নের বিপক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিচ্ছেন। প্রকৃত সাহসী তাঁরাই, অভিবাদন তাঁদের প্রাপ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে যোজন দূরে আয়েশী ভঙ্গিতে ল্যাপটপে আমার নেট-নির্ভর বিপ্লব সংঘটন অব্যাহত থাকে। যা খুশি বলতে পারি আমি। আমার লেখা কেউ সেন্সর করবে না। আমার কথায় ক্ষুব্ধ হলেও হাত-পায়ের রগ কাটতে কেউ আসবে না। জলপাই-রঙা ঊর্দি মাঝরাতে আমার বাড়ি ঘেরাও করবে না। আমি নির্ভয়। সুতরাং অকুতোভয়। বিপদের সব সম্ভাবনা থেকে বিস্তর দূরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা গল্প মনে পড়ছে। এক চাষীর বউ মহাদজ্জাল। তার দাপটে চাষী কোনো কথাই মুখ ফুটে বলতে সাহস পায় না। একদিন মাঠের কাজ সেরে ক্লান্ত চাষী ঘরে ফিরে খেতে বসেছে। আয়োজন সামান্য, সামান্য শাক আর ডাল। কিন্তু ডাল একেবারে বিস্বাদ, লবণ দেওয়া হয়নি। মেজাজ খারাপ হলেও বউকে কিছু বলার উপায় নেই। চুপচাপ খায় সে। রান্না কেমন হয়েছে, বউ জানতে চাইলেও সে চুপ করে থাকে। তাকে নিরুত্তর দেখে বউ যথারীতি মুখ ছোটায়, তাকে বোবা, বেআক্কেল ইত্যাদি বলতে থাকে। কোনোমতে খাওয়া শেষ করে চাষী বাড়ির পেছনের খালের ওপারে যায়। চিৎকার করে বলতে থাকে, কাউরে না ডরাইয়া কই, খালের এই পাড়ে খাড়াইয়া কই, ডাইলে তুই লবণ দ্যাস নাই, দ্যাস নাই, দ্যাস নাই…&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-1038870798489713973?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16899' title='খালের এই পাড়ে খাড়াইয়া কই…'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/1038870798489713973/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=1038870798489713973' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1038870798489713973'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1038870798489713973'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/07/blog-post_19.html' title='খালের এই পাড়ে খাড়াইয়া কই…'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3920064212310198138</id><published>2008-07-03T10:25:00.003-05:00</published><updated>2008-12-13T01:02:02.537-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>ওবামার ভ্রান্তি-বিভ্রান্তি</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SGzvlkrIL4I/AAAAAAAAADo/roAWnxpeijg/s1600-h/Obama.gif"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SGzvlkrIL4I/AAAAAAAAADo/roAWnxpeijg/s320/Obama.gif" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5218809496994328450" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;ওবামাকে এখন কি আর দেবদূতের মতো শোনাচ্ছে? গত দিন দুয়েক ধরে শুনছি, মার্কিন ধর্মীয় মোল্লাদের সঙ্গে সখ্য স্থাপন করতে উঠে-পড়ে লেগেছেন তিনি। আমেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওবামা। রিপাবলিকানদের ধর্মভিত্তিক ভোটে ভাগ বসানোর জন্যে নাকি এটা তাঁর কৌশল। সেজন্যে এভানজেলিস্টদের সঙ্গে ওবামা সাক্ষাৎ করছেন, চার্চে চার্চে হাজিরা দিচ্ছেন। কয়্যারের সঙ্গে মাথা দোলাচ্ছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি আট বছর আগে – জুনিয়র বুশ নির্বাচিত হওয়ার পর। বুশ দ্বিতীয় দফা নির্বাচিত হলে এই ঔদাসীন্য রীতিমতো বৈরাগ্যে পরিণত হয়। ফলে, এবারের নির্বাচন বিষয়ে বিশেষ কান পাতিনি। টুকরো-টাকরা যা ছিটকে কানে আসে, তা মরমে পশে না। তবে ডেমোক্র্যাটদের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা দুই প্রার্থী কিছু আগ্রহ তৈরি করার কারণ ঘটিয়েছিলেন। হিলারি ক্লিনটন বা বারাক ওবামা – এই দু’জনের যে কোনো একজন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেই আমেরিকায় একটা ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে যাবে। আমেরিকার ইতিহাসে এর আগে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ বা নারী কখনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন পাননি, এতোটাই পুরুষশাসিত ও বর্ণবিদ্বেষী এদের ইতিহাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওবামার ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন নিশ্চিত হলে সমর্থকরা উল্লসিত হয়। ওবামা সত্যি সত্যি নতুন কিছু করবেন বলে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই প্রার্থী তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতার গুণে আমেরিকাকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে তিনি পরিবর্তন আনতে সক্ষম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাঁর সাম্প্রতিক মোল্লা-ভজানো কথাবার্তা শুনে অনেকে এখন বিস্মিত ও অপ্রস্তুত। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই হতাশ। মার্কিন দেশে মোল্লাদের ঠিকানা রিপাবলিকান শিবির, ডেমোক্র্যাটরা কখনো তাদের আস্থা পায় না, তারা নিজেরাও মোল্লাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে গা করেনি। ডেমোক্র্যাটরা তাদের উদারপন্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ও গর্বিত ছিলো, যদিও এ দেশে লিবারেল হওয়া এক ধরনের যন্ত্রণাবিশেষ। ওবামা উদারপন্থীদের সেই অহংকারের জায়গাটুকুও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। বারাক হুসেন ওবামা যে মুসলমান নন, বরং একজন নিবেদিত খ্রীষ্ট ধর্মানুসারী – তা প্রমাণ করার জন্যে মনে হয় রিপাবলিকানদের চেয়ে বড়ো রিপাবলিকান হতেও তিনি সম্মত। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুধু নির্বাচনী কৌশল হলেও পরিণামে এটা উদারপন্থীদের জন্যে ক্ষতির কারণ ঘটাবে বলে অনায়াসে অনুমান করা চলে। পৃথিবী জুড়ে আর কতো মার খাবে উদারপন্থীরা? দম বন্ধ হয়ে আসছে যে!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3920064212310198138?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16505' title='ওবামার ভ্রান্তি-বিভ্রান্তি'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3920064212310198138/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3920064212310198138' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3920064212310198138'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3920064212310198138'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/07/blog-post.html' title='ওবামার ভ্রান্তি-বিভ্রান্তি'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SGzvlkrIL4I/AAAAAAAAADo/roAWnxpeijg/s72-c/Obama.gif' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3153063275965591932</id><published>2008-06-28T07:49:00.001-05:00</published><updated>2008-06-28T07:51:49.740-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>ঈদ সংখ্যার উপন্যাস : পাঠক-ঠকানোর বার্ষিক পার্বণ</title><content type='html'>&lt;em&gt;কোনো পত্রিকা যদি পাঁচখানি ‘পূর্ণাঙ্গ’ উপন্যাস ছাপলো, প্রতিযোগী ছাপলো সাতখানি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। তার পরে ‘পূর্ণাঙ্গ’ উপন্যাসের ঢল নামল। এখন সহজেই অনুমেয় এইসব উপন্যাসের পূর্ণাঙ্গতা নামে মাত্র, খুব বেশী হবে তো ৪/৫ ফর্মা। তার পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় আরও ২/৩ ফর্মা বাড়ানো …। ফলে দাঁড়ালো এসব না ছোটগল্প না উপন্যাস। এরা রক্তপায়ী জোঁকের মতো স্ফীতোদর একটা প্রাণী। এতে না আছে ছোটগল্পের সূক্ষ্ম কলা-কৌশল, না আছে উপন্যাসের জীবন বিস্তার, আছে স্ফীতোদর ব্যবসায়িকতা। এ শ্রেণীর দায়িত্বহীন রচনার মতো সহজ কাজ আর নেই। &lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে হতে পারে, ওপরের উদ্ধৃতিটি বাংলাদেশের পত্রিকাগুলিতে উপন্যাস প্রকাশের সাম্প্রতিক প্রবণতা সম্পর্কে লেখা । অথচ সত্য এই যে, বাক্যগুলি লেখা হয়েছিলো আজ থেকে ৭২ বছর আগে, ১৯৩৬ সালে। প্রমথনাথ বিশী লিখেছিলেন ‘ছোটগল্পের আত্মহত্যা’ প্রবন্ধে। অথচ কী আশ্চর্য, একটি অক্ষরও অদল-বদল না করে এই কথাগুলি আজও বাংলাদেশের উপন্যাসের বেলায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কলকাতার শারদীয় দেশ-আনন্দবাজারের আদলে বাংলাদেশে ঈদ উপলক্ষে বার্ষিক সাহিত্য-সম্ভার নিয়ে উপস্থিত হওয়ার প্রচলন প্রথম করে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’, যতোদূর মনে পড়ে, আশির দশকের শুরুতে। এর অনেক আগে থেকেই অবশ্য ‘বেগম’-এর ঈদসংখ্যা বেরোতো, সাহিত্যমূল্যের বিচারে তার মান উল্লেখ করার মতো কিছু ছিলো না। ‘বিচিত্রা’-র পর ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শুরু করে ‘সচিত্র সন্ধানী’ ও ‘রোববার’। শুরুর দিকে বেশ কিছু উৎকৃষ্ট উপন্যাস পাওয়া গিয়েছিলো এই ঈদ সংখ্যাগুলিতে। এরপর অন্য সাপ্তাহিকগুলি এবং কয়েকটি দৈনিকও ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শুরু করে। এখন তো ঈদ সংখ্যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মহামারী কথাটা বলা নিতান্ত অনিচ্ছায়। ঈদ সংখ্যার নামে যা পাওয়া যাচ্ছে, পাঠককে যা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে – তারই পরিপ্রেক্ষিতে। ছোটোখাটো পত্রিকাগুলিকে আপাতত সরিয়ে রাখি। বড়ো ও নামী সাপ্তাহিক ও দৈনিকগুলির ঈদ সংখ্যার গড় পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫০০। এই পরিসরে গড়ে ১০ থেকে ১২টি উপন্যাস থাকে। আর থাকে ১০-১২টি করে গল্প, স্মৃতিকথা/আত্মজীবনীমূলক রচনা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, একগুচ্ছ করে কবিতা, একটি-দুটি অনুবাদ রচনা, চলচ্চিত্র-ক্রীড়া-নাটক-টিভি-সঙ্গীত ইত্যাদি বিষয়ে রচনা, ঈদের ফ্যাশন এবং রান্নার রেসিপি ও মেয়েদের সাজসজ্জা বিষয়ে কয়েক পাতা করে বরাদ্দ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেশ-আনন্দবাজারে শারদীয় সংখ্যাগুলি যেখানে মূলত সাহিত্যমুখী, আমাদের ঈদ সংখ্যার চরিত্র কিন্তু পত্রিকার সাধারণ সংখ্যারই বর্ধিত রূপ। ব্যতিক্রম বলতে শুধু উপন্যাস, যা সাধারণ সংখ্যায় থাকে না। ঈদ উপলক্ষে উপন্যাস থাকে বেশুমার। সবগুলি পত্রিকা দেখিনি, তবে গত কয়েক বছরে আমার দেখা ঈদ সংখ্যাগুলির মধ্যে একটিতে উপন্যাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা দেখেছি ১৬টি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু উপন্যাস নামে যা পাওয়া হয়, তা আসলে কী বস্তু? একটি ঈদ সংখ্যার মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা যদি ৫০০ ধরে নিই, সেই হিসেবে বিজ্ঞাপনসহ অন্য সবকিছু বাদ দিলেও ১৬টি উপন্যাসের একেকটির জন্যে সোয়া ৩১ পৃষ্ঠা বরাদ্দ করা সম্ভব। কিন্তু শুধু উপন্যাস দিয়ে পত্রিকার পেট ভরে না!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নাসিরউদ্দিন হোজ্জার গল্প মনে পড়ে। হোজ্জা একদিন আধাসের মাংস কিনে এনে বউকে রান্না করতে বলে বাইরে গেছে। বউ রান্না শেষ করেছে, এমন সময় তার বোন বেড়াতে এলে ওই মাংস দিয়েই সে আতিথেয়তা সারে। হোজ্জা খেতে বসে দেখে মাংস নেই। বউ কৈফিয়ত দিয়ে বললো, পাজি বেড়ালটা সব মাংস খেয়ে গেছে। হোজ্জা তৎক্ষণাৎ উঠে বেড়ালটাকে ধরে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে দেখে, ওজন ঠিক আধ সের। হোজ্জার প্রশ্ন, এই যদি বেড়াল হয় তাহলে মাংস কোথায় গেলো? আর এটা যদি মাংস হয়, বেড়ালটা কোথায়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঈদ সংখ্যা দেখে আমাদের তখন প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, এই যদি পত্রিকা হয় তাহলে উপন্যাস কোথায়? আর এগুলি যদি উপন্যাস হবে, পত্রিকা থাকলো কোথায়? এতোসব জিনিস শ’ পাঁচেক পৃষ্ঠার ভেতরে হাঁসফাঁস করতে থাকে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগে উপন্যাস। কারণ, চরিত্রগতভাবেই এই জিনিস কিছু বেশি জায়গা দাবি করে। কাহিনীর বিন্যাস ও বিস্তার, চরিত্রসমূহের বিকাশ ইত্যাদি মিলিয়ে বাড়তি পরিসর দরকার হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপন্যাসের আকার-আকৃতি কী হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে পুরনো আলোচনায় যাওয়ার দরকার নেই। এ যুগে War and Peace আকারের উপন্যাস লিখিত হওয়ার সম্ভাবনা বলতে গেলে শূন্য। এর বিপরীতে The Old Man and the Sea-এর ক্ষুদ্রায়তনও বহুল আলোচিত। বাংলা ভাষায় রচিত ‘ঘুণপোকা’ কি পূর্ণ উপন্যাস নয়? আসলে একটি উপন্যাসের উপন্যাস হয়ে ওঠা তার আকার-আকৃতির ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে বিষয়বস্তু ও কাহিনী, লেখকের বক্তব্য ও দর্শন এবং রচনাকৌশলের ওপর। তবে এটাও মানতে হবে যে, ছোটোগল্পে ঘটনা ও চরিত্র রচনায় আঁচড় কেটে যাওয়ার সুযোগ থাকে, উপন্যাস তা অনুমোদন করে না। উপন্যাসে বিস্তারের কাজটা আবশ্যিক, পারম্পর্য রক্ষাও। যথাযথ পরিসর উপন্যাসের জন্যে প্রাথমিক শর্ত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুশকিল হলো, আমাদের পত্রিকাগুলি এই পরিসর অনুমোদন করতে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক অথবা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বোধহীন ও কাণ্ডজ্ঞানরহিত। তাদের লক্ষ্য ‘উপন্যাসের’ সংখ্যা বাড়ানো, উপন্যাস হলো কি না, লেখক লিখে তৃপ্ত হলেন কি না, পাঠককে উপন্যাসের নামে বড়োগল্প বা ছোটোগল্প দিয়ে প্রতারণা করা হলো কি না – এসব তাদের বিবেচ্য বলে মনে করা কঠিন। ম্যাগাজিন আকারের ঈদ সংখ্যায় একটি ‘উপন্যাস’ দেখেছি ৭ পৃষ্ঠায় শেষ! স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। অথচ একটি ছোটোগল্প লিখতেও এই পরিসর প্রয়োজন হতে পারে। রচনার গুণমানের কথা না হয় পরে, কিন্তু উপন্যাসের নামে এটাকে ইয়ার্কি ছাড়া আর কী বলা যায় আমার জানা নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে হাতে গোনা যে কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকা আছে, তাদের প্রভাব সামান্যই। যেহেতু প্রচার ও পাঠক সীমিত। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিজ্ঞাপনদাতারা এসব পত্রিকার বিষয়ে উৎসাহী নয়। ফলে, বহুকাল ধরে আমাদের সাহিত্য মূলত দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য/সাময়িকী পাতাকেন্দ্রিক হয়ে আছে। দু’একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে দৈনিক কাগজগুলি তাদের সাময়িকী পাতার বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী বলে মনে হয় না, যেনতেন প্রকারে পাতা ভরানোর দায়িত্বটাই তারা পালন করে। সাপ্তাহিক কাগজগুলির অধিকাংশই তাদের নিয়মিত সংখ্যায় সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করে না। ধারাবাহিক উপন্যাস দূরের কথা, একটি-দুটি গল্প-কবিতাও তাদের পাতায় জায়গা পায় না। অথচ ঈদ মৌসুমে তাদের সাহিত্যপ্রেম উথলে ওঠে, প্রতিযোগিতা হয় কে কতোগুলি ‘উপন্যাস’ ছাপতে পারে! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এককালে যখন হিন্দুরা মুরগি খেতো না, তখন মুসলমানের মুরগিপ্রেম বলে একটা রসিকতা চালু ছিলো। বলা হতো, মুসলমানরা খুব যত্ন করে মুরগি পোষে, তবে সময় ও সুযোগ বুঝে জবাই করে খেয়েও ফেলে। আমাদের পত্রিকাওয়ালাদের ঈদকেন্দ্রিক সাহিত্যপ্রেমও যে আসলে ঐ মুসলমানের মুরগিপ্রেমের সমতুল্য, তার প্রমাণ ঈদ সংখ্যাগুলির পাতায় পাতায়। প্রয়োজনে ঐ ক্ষুদ্রাকার ‘উপন্যাসের’ হাত-পা-নাক-কান বা লেজ কেটে বরাদ্দ করা নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে আঁটাতে হবে। যতোদূর জানি, এইসব কাটছাঁটের বেলায় লেখককে জানানোর সৌজন্যও দেখানো হয় না। ভাবটা এমন যে, লেখা ছেপে পত্রিকাগুলি লেখকদের ধন্য করে দিচ্ছে। অথচ বিষয়টা হওয়া উচিত পারস্পরিক প্রয়োজন ও সম্মানের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই কাটছাঁট মামলার আমি নিজে এর ভুক্তভোগী , এবং আমিই একমাত্র নই। শওকত আলী বা সৈয়দ শামসুল হকের মতো লেখকদের বেলায় এটা ঘটে না অবশ্য। তবে আমি নিশ্চিত, তাঁদেরও ‘সাইজ’ মনে রেখেই লিখতে হয়। হুমায়ূন আহমেদ বা ইমদাদুল হক মিলনরা অবশ্য এই সাইজের ‘উপন্যাসের’ মূল প্রবর্তক, সুতরাং তাঁরা নিয়ম চালু রাখেন। আনিসুল হকরাও এই প্রথার ইচ্ছুক অনুগামী। বিপদ হয় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ও নবীন লেখকদের এবং তাঁরাই নির্বিচারে বলির শিকার হয়ে থাকেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সর্বগ্রাসী বাণিজ্যমুখীনতার মুখে টিকে থাকতে হলে পত্রিকাগুলিকে নিশ্চয়ই বিক্রি এবং বিজ্ঞাপন নিতে হবে, সেগুলির ওপর নির্ভর করতেও হবে। কিন্তু লাগামছাড়া মুনাফার লোভে পড়ে নামী ও প্রতিষ্ঠিত পত্রিকারাও ঈদ সংখ্যায় ১২-১৪টি করে ‘উপন্যাস’ ছাপার প্রতিযোগিতায় নামলে তা শুধু হতাশার কারণ ঘটায়। আরেকটি বিস্ময়কর ঘটনা শুনেছি। আজকাল ঈদ সংখ্যা উপন্যাসগুলির প্রতি পাতার মাঝখানে ছোটো করে বিজ্ঞাপন থাকে, অনেক পত্রিকায় সেগুলি নাকি বিজ্ঞাপনদাতারা বরাদ্দ করেন লেখকের নাম-পরিচিতি দেখে। অর্থাৎ, এই লেখাগুলিও আসলে স্পনসর করা। কিন্তু স্বল্প-পরিচিত ও নবীন লেখকদের কে স্পনসর করবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রচলিত ও প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়া এই রীতির ফলে বোদ্ধা পাঠকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, ঈদ সংখ্যার ‘উপন্যাস’ পড়ার আগ্রহ তাঁদের অন্তর্হিত হয়েছে অনেক আগেই। আর ‘গল্পের বই’ পড়া আর সব গড় পাঠকদের ধারণা জন্মাচ্ছে, এই বুঝি উপন্যাস! নিশ্চয়ই কারো কারো মনে এই প্রশ্নও উঠবে, তাহলে গল্প কাকে বলে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপন্যাসের তাহলে কী হবে? এখন একজন লেখক যদি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লিখতে চান, লেখাটি তিনি ছাপবেন কোথায়? ঈদ সংখ্যার অবস্থা তো জানাই হলো। কোনো পত্রিকার নিয়মিত সংখ্যায় উপন্যাস লেখার সুযোগ নেই। আমার জানামতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুটি মাত্র পত্রিকা ধারাবাহিক উপন্যাস ছাপছে। মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ একই সঙ্গে দুটি ধারাবাহিক ছাপে – কে জানে কী কারণে তার একটি আবশ্যিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের লেখকের হয়ে থাকে। আর মাসিক পত্রিকায় ধারাবাহিক উপন্যাসে কারো আগ্রহ কীভাবে টিকে থাকে আমার জানা নেই। ‘দৈনিক সংবাদ’ হলো দ্বিতীয় পত্রিকাটি যেখানে সাময়িকী পাতায় ধারাবাহিক উপন্যাস ছাপা হচ্ছে। আগেই বলেছি, সাপ্তাহিকগুলি যেখানে তাদের নিয়মিত সংখ্যায় গল্প-কবিতাও ছাপে না, ধারাবাহিক উপন্যাসের আশা তাদের কাছে না করাই যুক্তিসঙ্গত। তাহলে? লেখক যাবেন কোথায়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখার উদ্দেশ্যই হলো তা উদ্দিষ্ট পাঠকের কাছে পৌঁছানো। প্রকাশিত না হলে পাঠকের কাছে তা কী উপায়ে যাবে? প্রতিষ্ঠিত লেখক হলে সরাসরি প্রকাশকের কাছে চলে যেতে পারেন গ্রন্থাকারে বের করার জন্যে, নবীন লেখকের সেই বিলাসিতা নেই। লিখবো, কিন্তু তা কোথাও ছাপার উপায় নেই – তাহলে লেখক তাঁর উপন্যাসটি (পত্রিকার শূন্যস্থান পূরণের ‘উপন্যাস’ নয়) লেখার আগ্রহ কোথা থেকে পাবেন? উত্তর নেই। পত্রিকানির্ভর উপন্যাসের জন্যে কোথাও কোনো আলোর রেখাও নেই।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3153063275965591932?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16344' title='ঈদ সংখ্যার উপন্যাস : পাঠক-ঠকানোর বার্ষিক পার্বণ'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3153063275965591932/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3153063275965591932' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3153063275965591932'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3153063275965591932'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_28.html' title='ঈদ সংখ্যার উপন্যাস : পাঠক-ঠকানোর বার্ষিক পার্বণ'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-8629898064610839757</id><published>2008-06-21T20:54:00.001-05:00</published><updated>2008-06-21T20:55:58.898-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>মেয়েটা চলে যাবে!</title><content type='html'>দুপুরে একটা মিটিং আছে, তার আগে লাঞ্চ সেরে নেওয়ার কথা ভাবছি। এই সময় মেয়ের ফোন। উত্তেজিত কণ্ঠ তার। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা, ইউটি অস্টিন আমাকে অ্যাকসেপ্ট করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার আবেগ-উত্তেজনার অংশীদার আমিও। বলি, তাহলে তো একটা উৎসব করে উদযাপন করতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবেগে মেয়ের গলা বুজে আসছে। কোনোমতে বলে, আমি এতো খুশি! আমি কাঁদছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোনোকিছুতে সম্পূর্ণ একাগ্রতা অথবা যুক্তিরহিত গোঁয়ার্তুমির সফল পরিণতি ঘটলে এরকম আবেগ চলে আসার কথা। মেয়ের ইচ্ছে, সে সাংবাদিকতা পড়বে। University of Texas at Austin-এর এ বিষয়ে সুনাম আছে। সেখানে সে আবেদন করে বসে থাকলো। কোনো কারণে এখানে তার ভর্তির ব্যবস্থা না হলে একটা বিকল্প থাকা যে দরকার, তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলো। সে কানেও তোলে না। এক কথা তার, অস্টিনেই যাবো আমি। এই বোকা মেয়েকে নিয়ে করি কী! বিকল্প কিছু সে ভাবলোই না। ইউটি অস্টিনে আবেদন করার পর সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত সারাক্ষণ সে অনলাইনে তার আবেদনের ফলাফল এলো কি না দেখে। শেষ পর্যন্ত খবর পাওয়া গেলো গতকাল, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে সে গৃহীত হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়ের বাবা-মা হিসেবে আমরাও যে যথেষ্ট বোকা, তা এখানকার পরিচিত বাঙালিদের অনেকেই বিশ্বাস করেন। নিজে থেকে বলার দরকার হয় না, সামাজিক সাক্ষাতে প্রশ্ন শুনতে হয়, মেয়ে কী পড়বে? সাংবাদিকতা কেন, কমপিউটার বিজ্ঞান বা ব্যবসা প্রশাসন, নিদেনপক্ষে হিসাব বিজ্ঞান কেন নয় – এরকম পরোক্ষ হতাশা প্রকাশ করেন অনেকে। কেউ কেউ এমনও ইঙ্গিত দেন, বাবা-মা হিসেবে আমাদের উচিত এ বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দেওয়া। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্যালিফোর্নিয়াবাসী এক কবিবন্ধু মেয়ের সাংবাদিকতা পড়ার আগ্রহ জেনে ঠাট্টা করে বলে, নাপতালিটা তুমিই করলে? তোমার লেখালেখির আগ্রহটা ওর মধ্যে দেখতে চাও, তুমিই ওকে উৎসাহ দিয়েছো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী করে বোঝাবো, সে নিজে তার জীবন যাপন করবে, আমরা নই। তার প্রবণতা ও আগ্রহের অনুগামী হবে সে, যে সুযোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের বাবা-মা আমাদের দিতে চাননি, আমরা পাইনি। এই বিজ্ঞ শুভার্থীদের জানানোর দরকার মনে করি না যে, কথা ফোটার বয়স থেকে আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের মতামত সবসময় মান্য না করলেও জিজ্ঞেস করার ব্যবস্থাটা চালু রেখেছি। এমনকি প্রতি বেলার খাবার কী চায়, তা-ও তাদের মর্জি অনুযায়ী হয় সাধারণত, তাদের কখনো বলা হয়নি, টেবিলে যা আছে তাই চুপচাপ খেতে হবে। আমাদের আত্মীয়-বন্ধুসহ অনেকে এটাকে বাড়াবাড়ি রকমের আদিখ্যেতা বলে মনে করেছেন, এখনো করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর বিপরীতে আমার অভিজ্ঞতা এরকম যে, সব বিষয়ে তাদের মত জানতে চাওয়া এবং তাদের মনোভাবকে মূল্য দেওয়ার একটা অসাধারণ ও অমূল্য প্রতিক্রিয়া ঘটে। তারা আত্মবিশ্বাসী হতে শেখে এবং তার প্রতিফলন ঘটে তাদের ব্যক্তিত্বে। তারা বুঝতে শেখে, তাদের আস্থায় নেওয়া হচ্ছে এবং সেই আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি অনুগত হওয়াটাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বয়স যা-ই হোক, ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি সব মানুষকেই শুদ্ধ হতে সাহায্য করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ দেশে টিন-এজারদের নিয়ে সব বাবা-মাকেই কিছু সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। অনভিজ্ঞতা ও অজ্ঞানতাজনিত এবং বয়সোচিত ছোটোখাটো দুয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে এই আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত মেয়ে আমাদের কিছুমাত্র হতাশ করেনি দেখে মনে হয়, ছেলেমেয়েদের বিষয়ে বোধহয় আমরা ভুল কিছু করিনি। মেয়ে বৃহত্তর পৃথিবীর জন্যে প্রস্তুত বলে বিশ্বাস করতে ভরসা পাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবিবন্ধুকে বলা হয়নি, এই মেয়ে পনেরো বছর বয়সে One Hundred Years of Solitude, Chronicle of a Death Foretold, No One Writes to the Colonel পড়ে মার্কেজকে প্রিয় লেখকের তালিকায় তুলে ফেলেছে। কাফকার লেখা ও জীবন তার কাছে বিস্ময়ের আধার। ঝুম্পার The Namesake-এ সে নিজের সংকটের সাযুজ্য পেয়ে যায়। নিজের মতো লেখালেখিও করে, যদিও কাউকে দেখাতে অনিচ্ছুক সে। তার কিছু কিছু নজরে এলে মনে মনে স্বীকার করে নিয়েছি, ঐ বয়সে ওরকম উপলব্ধির বা লেখার ক্ষমতা আমার হয়নি। গত বছর তার একটি লেখার নমুনা সচলে তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারিনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে সে নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে। বাবা-মা হিসেবে আমরা সেখানে শুধু সঙ্গত করে গেছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়ে তার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাবে, এই প্রাথমিক আনন্দের আতিশয্য কেটে গেলে এক ধরনের বিষাদের মেঘ মাথার ভেতরে ঘন হয়ে উঠতে থাকে। মনে হয়, মেয়েটা চলে যাবে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেশি দূরে সে যাচ্ছে না, মাত্র দুশো মাইলের দূরত্বে। যাওয়া-আসা নিয়মিতই হবে। তবু এ-ও তো সত্যি, এই যে তার বাইরের পৃথিবীতে যাত্রা শুরু হলো, সে আর আমাদের কাছে ফিরবে না। একদা আমরাও আমাদের বাবা-মায়ের পরিচিত ছায়া থেকে বহির্গত হয়ে গিয়েছিলাম। আর ফেরা হয়নি। হয় না। আমাদের মেয়েরও সেই যাত্রা শুরু হবে এখন থেকে ঠিক দু’মাস পর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে মনে রড স্টুয়ার্টের একটি গানের দুটি পঙক্তি আওড়াই (খুব ছোটোবেলায় এই গানটি মেয়ের প্রিয় ছিলো):&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;When you finally fly away&lt;br /&gt;I’d be hoping that I’ve served you well&lt;br /&gt;For all the wisdom of a lifetime&lt;br /&gt;No one can ever tell…&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-8629898064610839757?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16214' title='মেয়েটা চলে যাবে!'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/8629898064610839757/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=8629898064610839757' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8629898064610839757'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8629898064610839757'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_21.html' title='মেয়েটা চলে যাবে!'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6839151572475503909</id><published>2008-06-17T21:28:00.002-05:00</published><updated>2008-06-17T21:36:16.002-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>‘পৌরুষ’ : একটি উপন্যাস ও তা নিয়ে সব কেচ্ছাকাহিনী</title><content type='html'>ঢাকা থেকে এক লেখক বন্ধু ফোনে বললো, দোস্ত, এবারে ঈদ সংখ্যার জন্যে গোটাচারেক উপন্যাস লিখে পাঠা, ছাপার দায়িত্ব আমার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি বলি, পাগল নাকি? বড়োজোর একটা লেখার চেষ্টা করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার এই বন্ধু লেখার জন্যে চার হাত-পায়ের সবগুলিই ব্যবহার করে, নাহলে এতো বিস্তর লেখা তার পক্ষে সম্ভব কী করে বুঝে পাই না। চাইলেই মাসখানেকেরর মধ্যে চার-পাঁচটা উপন্যাস আমার পক্ষে লেখা সম্ভব, এই আস্থার জবাবে তাকে আস্তে করে বলি, দোস্ত, আমি তো তুই না!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ঘটনা ২০০৪ সালের। কষ্টেশিষ্টে একটা লেখা দাঁড় করানো গেলো। প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হচ্ছিলো, লেখার আকার যেন খুব বড়ো না হয়ে যায়। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, বেশি বড়ো হয়ে গেলে পত্রিকাওয়ালারা ছাপতে চায় না। বিজয়ের ১৪ পয়েন্ট সুতন্বী ফন্টে লেখাটা শেষ হলো ৬৭ পাতায়। যথাসময়ে পাঠানো হলো। ছাপা হলো সাপ্তাহিক ২০০০-এ। না, যেহেতু বড়ো লেখক নই, লেখাটি মূল ঈদ সংখ্যায় জায়গা পায়নি। ঐ পত্রিকা যে বাচ্চা ঈদোত্তর সংখ্যা বের করে ‘ঈদ সংখ্যা ২’ নামে, সেখানে ছাপা হয়েছে। তবু তো হলো!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুদ্রিত পত্রিকার কপি হাতে এলে উল্টেপাল্টে দেখলাম। ধ্রুব এষ-এর ইলাস্ট্রেশন ভালো লাগলো। নিজের লেখা ছাপা হওয়ার পর পড়ার উৎসাহ এমনিতেই হয় না, তখন অন্য ব্যস্ততাও ছিলো বলে খুব একটা মনোযোগ দেওয়া হয়নি। একদিন পত্রিকার ঐ সংখ্যাটির পাতা ওল্টাতে গিয়ে চোখ আটকে গেলো এক জায়গায় – একটি পরিচ্ছেদ দেখছি মোট আট-দশ লাইনের। এতো ছোটো কোনো পরিচ্ছেদ লিখেছি বলে মনে পড়ে না তো! এখন আর না পড়ে উপায় নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংক্ষেপে বলি সেই হতভাগ্য লেখার পরিণতি। কোনোরকম যুক্তি-টুক্তির বালাই নেই, যত্রতত্র লাইনের পর লাইন নেই হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বাক্য বা ঘটনার পরম্পরা খোঁজার চেষ্টা বৃথা। পুরো লেখাটি মিলিয়ে দেখা গেলো, ৬৭ পাতার মধ্যে ১৮ পাতা স্রেফ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশই নেই। যে উপন্যাসের নাম ‘পৌরুষ’ তার এক-চতুর্থাংশ ছেঁটে দিলে আর কী থাকে – এই ধরনের রসিকতা করে সান্ত্বনা পাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই তখন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্ধু খোঁজ করে সাপ্তাহিক ২০০০-এর একটা কৈফিয়ত আদায় করে আনলো যার সারকথা হলো, প্রুফ রীডাররা নাকি এইসব কাটাকুটি করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বটে! পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব এখন তাহলে প্রুফ রীডারদের হাতে চলে গেছে! প্রুফ রীডাররা সম্পাদক হতে পারবেন না এমন কোনো কথা নেই। বাংলাদেশেই প্রুফ রীডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক হওয়া এবং প্রেস ইনসটিটিউটের মহাপরিচালক হওয়ার দুটি ঘটনা আমাদের জানা আছে। কিন্তু সম্পাদকের বর্তমানে প্রুফ রীডাররা সম্পাদনার কাজ করছেন, ভাবা যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে বাজে অজুহাত, দোষ প্রুফ রীডারদের নয়। মন খারাপ করা ছাড়া আর কী করা যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই লেখাটি নিয়ে যা ঘটেছে তার সঙ্গে সম্পাদনারও কোনো সম্পর্ক নেই। আমার লেখার একটি শব্দ বা বাক্যও পরিবর্তন করা হয়নি। বিষয়টি স্থান সংকুলানের। যখন একটি ঈদ সংখ্যায় ১৫/১৬টি 'সম্পূর্ণ উপন্যাস'-এর জায়গা করতে হয়, তখন সব লেখাগুলিকে দরকারমতো 'সাইজ' না করে উপায় থাকে না। আমার লেখাটিকে 'বরাদ্দ' করা নির্দিষ্টসংখ্যক পাতায় আঁটাতে গিয়ে কেটেছেঁটে দেওয়া হয়েছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খোঁজ নিয়ে জেনেছি, আমিই একমাত্র নই, আরো অনেকের বেলায় একই ঘটনা ঘটেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত বছর এপ্রিলে, ব্লগিং-এ তখন আমি নতুন, সামহোয়্যারে লেখালেখি করি, হঠাৎ মনে হলো ব্লগে উপন্যাসটা ধারাবাহিক পোস্ট করলে কেমন হয়? দুয়েকজনকে দেখেছি ধারাবাহিক উপন্যাস শুরু করেছেন, দু’তিন পর্বের পর তা আর এগোয়নি। আমার সে ভয় নেই, পুরোটাই তৈরি আছে। ব্লগে বেশি বড়ো লেখা পড়ার ধৈর্য কারো নেই, সুতরাং ৮০০ থেকে ৯০০ শব্দের ছোটো ছোটো কিস্তিতে ভাগ করা গেলো। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দুটি করে কিস্তি পোস্ট দিয়ে মোট ৩৮ কিস্তিতে শেষ হয়েছিলো। সঠিক জানা নেই, তবে পুরনো ও অভিজ্ঞ দুয়েকজন ব্লগার জানিয়েছিলেন, বাংলা ব্লগে এটাই সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ হওয়া উপন্যাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখাটিতে সম্প্রসারণের প্রয়োজন এবং জায়গা দুই-ই ছিলো, এখনো আছে। ব্লগে পোস্ট করার উদ্দেশ্য ছিলো, পাঠক-প্রতিক্রিয়া যাচাই করা। মুদ্রিত পত্রিকার লেখা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানার আশা করা মরুভূমিতে তুষারপাতের আশা করার মতোই অলীক কল্পনা। মনে হলো, পাঠক-প্রতিক্রিয়া কিছু পেলে লেখার সংশোধনের সময় কাজে লাগবে। সে উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়নি। যদিও সংশোধন-পরিবর্ধনের কাজ এখনো বকেয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখাটি সম্পর্কে একটি মন্তব্য (হয়তো অভিযোগও) এসেছে যে, উপন্যাসের নারী চরিত্রটির ওপরে খানিকটা অবিচার করা হয়েছে, তাকে সবকিছুর জন্যে দোষী করে পুরুষ চরিত্রটিকে সাধূপুরুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ আংশিক সত্যি। তার কারণও অবশ্য লেখার নামকরণেই পাওয়া যাচ্ছে – লেখাটি পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, যদিও পুরুষ-চরিত্রের ভালোমন্দ, যুক্তি ও যুক্তিহীনতা, পৌরুষের অহং-এর ভঙ্গুরতা – এইসবই তুলে আনার চেষ্টা করেছি। অন্তত সেটাই উদ্দেশ্য ছিলো।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6839151572475503909?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/16053' title='‘পৌরুষ’ : একটি উপন্যাস ও তা নিয়ে সব কেচ্ছাকাহিনী'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6839151572475503909/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6839151572475503909' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6839151572475503909'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6839151572475503909'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_17.html' title='‘পৌরুষ’ : একটি উপন্যাস ও তা নিয়ে সব কেচ্ছাকাহিনী'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-8402038385183600788</id><published>2008-06-14T11:19:00.000-05:00</published><updated>2008-06-14T11:20:37.287-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>যাচ্চলে!</title><content type='html'>সকালে হঠাৎই মনে এলো, যাচ্চলে! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ জুনের তেরো তারিখ, ফ্রাইডে দ্য থার্টিন্থ। ১৩ যে অশুভ সংখ্যা বা সেই তারিখ শুক্রবারে পড়লে তা বহুগুণ বেশি অশুভ ও ভয়ংকর – এইসব বিশ্বাস আমার আদৌ নেই। বিশ্বাস থাক বা না থাক, যথাসময়ে ও কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে এই বহু-প্রচলিত ধারণা বা বিশ্বাসগুলি মনে আসবে না, এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্ধকার রাতে হঠাৎ একটি কালো বিড়াল দেখলে কেউ খুশি হয়? একা একটি শালিককে দেখলে কি কিছু একটা মনে হয় না? দুটি শালিকে আবার অন্যরকম হয়ে যায়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি জানি, শিরোনামে ব্যবহার করা শব্দ বা প্রকাশভঙ্গিটি বাংলাদেশে প্রচলিত নয়। পশ্চিমবঙ্গে খুব-একটা-ক্ষতি-নেই-তবে-হলে-ভালো-হতো ধরনের মৃদু আক্ষেপ বা হতাশার অনুভূতি প্রকাশে ব্যাপক চালু। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তবু আজ সকালে আমার ‘যাচ্চলে’ বলতে ইচ্ছে করলো জুনের ১০ তারিখটা ভুলে গেলাম বলে। গত বছর ঐ তারিখে আমার সচলে আসা। তখনো সচলায়তনের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হয়নি, হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। নিজেকে সেই দলে অন্তর্ভুক্ত দেখে খুশি হয়েছিলাম, সম্মানিতও বটে। সেই হিসেবে আমি প্রাচীনতম সচলদের একজন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয়েক সপ্তাহ আগে ঠিক করে রেখেছিলাম, গত এক বছরের সচল নিয়ে আমার কথাগুলি লিখবো। অথচ দিনটা কীভাবে কখন এলো-গেলো, টেরও পেলাম না। মনে পড়লো তিনদিন পরে, টিউবলাইট আর কাকে বলে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একেবারে গোড়া থেকে আমি সচলে যুক্ত ছিলাম না, এর পরিকল্পনা-প্রস্তুতি সম্পর্কেও কিছু জানতাম না। জেনেছি পরে, অরূপের স্বপ্নের শুরু যেভাবে পোস্ট থেকে। ব্লগে আমার লেখালেখির শুরু ২০০৭-এর জানুয়ারিতে, যখন ব্লগ সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই ভাসা-ভাসা (এখনো খুব বেশি জানি-বুঝি, তা বলা কঠিন)। প্ল্যাটফরম সেই সময়ের একমাত্র বাংলা ব্লগিং কমিউনিটি সামহোয়্যারইন। জুনের প্রথমদিকে একদিন সেখানে দেখি অরূপ একটা পোস্ট দিয়ে আমাকে এমএসএনে ডাকছে। মন্তব্য করে জানাতে হলো, তখন আমি কর্মক্ষেত্রে, সম্ভব নয় (সেখানে ইন্টারনেটে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু চ্যাট-ইমেল ব্লক করা)। আরিফ জেবতিকের ইমেল-আমন্ত্রণও এলো। ১০ তারিখে আমি সচলায়তনের সদস্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এসে দেখি, এখানকার সবাই আমার পূর্ব-পরিচিত। ভার্চুয়াল পরিচয় আর কি। কাউকে চাক্ষুষ দেখিনি, ফোনে কথা বলাও নয়। তবু অপরিচিত নন কেউ, তাঁদের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়ে গেছে আগের ছয় মাসে। হয়তো আমাকেও সেভাবেই কিঞ্চিৎ চিনে নিয়েছিলেন তাঁরাও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক বছরে সচলায়তনের পরিধি বেড়েছে অনেক, নতুন নতুন লেখক এসেছেন, আসছেন এবং আরো আসবেন। আমার অনুমান, বয়সের হিসেবে আমি বোধহয় জ্যেষ্ঠতম সদস্য এখানে। তরুণতর এবং তরুণতমদের লেখা পড়ি, তাদের চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচয় হয়। অনেকের লেখা পড়ে রীতিমতো মুগ্ধ ও চমৎকৃত হই। এটা আমার একটা বড়ো প্রাপ্তি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বর্তমান সচলদের মধ্যে সর্বার্থে আমার পূর্ব-পরিচিত পরে আসা রহমান ব্রাদার্সের তিনজন – লুৎফর রহমান রিটন, মাহবুবুর রহমান জালাল ও আরশাদ রহমান (দীর্ঘদিন অনুপস্থিত সে)। গত এক বছরে মাত্র আর একজনের সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের চাক্ষুষ দেখা হয়েছে, তার নাম সুবিনয় মুস্তফী, গত মার্চে তার ডালাস সফরের সময়। ফোন-ইমেল-চ্যাটে এবং সচলের ব্যক্তিগত মেসেজে হিমু, মাহবুব মুর্শেদ, অরূপ, ইশতিয়াক রউফ, আনোয়ার সাদাত শিমুল, কনফুসিয়াস, নজমুল আলবাব এবং এরকম আরো অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। অথচ ভার্চুয়াল সম্পর্কের বিচারে কাউকে অচেনা লাগে না। পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এই ভার্চুয়াল বন্ধুদের (কনিষ্ঠ হলেও তাদের বন্ধু ভাবি) কারণে মনে হয়, যেখানেই যাই না কেন, একজন বন্ধুকে সেখানে পাওয়া যাবেই। সবখানেই আমার ঠাঁই আছে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-8402038385183600788?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15988' title='যাচ্চলে!'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/8402038385183600788/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=8402038385183600788' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8402038385183600788'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8402038385183600788'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_14.html' title='যাচ্চলে!'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-5438285521909884907</id><published>2008-06-12T08:21:00.000-05:00</published><updated>2008-06-12T08:22:55.716-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গল্প'/><title type='text'>বালক ও চার সৈনিক</title><content type='html'>এখন রোহনের মনে হচ্ছে, বাসে গেলে ভালো হতো। মা টাকা দিয়েছিলো সেই হিসেবে – যাওয়ার সময় বাসে, আর ট্রেনে ফেরা। সে জানে, মা প্রতিবার একই কথা বলবে, শুনে শুনে মুখস্থ হয়ে গেছে। প্রথমবার একা গিয়েছিলো, তখন তার ক্লাস এইটের অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তারপর দুই বছরে আরো চার-পাঁচবার। প্রথমবারের কথা স্পষ্ট মনে আছে। বাবা বললো, তোর বুলি ফুপু আসতে চায়। একা পারবে না, আমারও সময় হচ্ছে না, তুই যেতে পারবি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রোহন রাজি, পারবে না কেন? কেউ সঙ্গে যাবে না, সে একা বড়োদের মতো যাবে! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা অবশ্য আপত্তি তুলেছিলো, এই ভ্যাবলা ছেলে একা কোথায় যেতে কোথায় যাবে ঠিক আছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুবই অপমানের কথা। মা তাকে কী ভাবে? এখনো ছোটো আছে সে? মাত্র পাঁচটা স্টেশন দূরের শান্তাহার থেকে ফুপুকে সঙ্গে নিয়ে আসা কী এমন কঠিন কাজ? সকালে গিয়ে বিকেলের মধ্যে ফিরে আসা, এই তো। সে একা একা সাইকেল নিয়ে সারা শহর ঘুরছে না? ওদিকে দত্তবাড়ি-শিববাটী-কালিতলা, এদিকে জলেশ্বরীতলা-মালতীনগর। করতোয়ার পাড়ে শ্মশানঘাটে কেউ দিনদুপুরেও যেতে চায় না, ভয় পায়। অথচ সে কতোদিন বিকেলে একা বসে থেকেছে সেখানে। নির্জন বলে। মা জানে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবার মধ্যস্থতায় সেই প্রথম একা শান্তাহার যাওয়া। বিরাট জংশন, অনেক মানুষের ভিড়, ব্যস্ততা। কিন্তু অচেনা নয় একটুও। ছোটোবেলা থেকেই বছরে কয়েকবার বাবা-মায়ের সঙ্গে এখানে যাতায়াত। দাদাবাড়ি যাও তো শান্তাহার। নানাবাড়ি যাও, তা-ও শান্তাহার হয়ে। স্টেশন থেকে কলসা পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। বুলবুলি ফুপুর নাম কী করে যেন বুলি হয়ে গেছে। বুলবুলি নামটা কী সুন্দর! ভালো জিনিসকে কেটেছেঁটে মানুষের যে কী আনন্দ, রোহনের মাথায় আসে না। কলেজে পড়া বুলি ফুপু রোহনের চেয়ে বছর চারেকের বড়ো। ছুটিছাটায় ভাইয়ের বাড়িতে আসার জন্যে ব্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু দাদা কিছুতেই তাকে একা আসতে দেবে না, চাচারাও না। কাউকে গিয়ে আনতে হবে। অথবা ও বাড়িতে কারো সময় হলে ফুপুকে পৌঁছে দিয়ে যাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ মায়ের হাত থেকে টাকা নিচ্ছে, মনে মনে রোহন তখনই জানে সে ট্রেনে যাবে। বাসে গাদাগাদি করে কে যায়! থামে যেখানে-সেখানে, জায়গা না থাকলেও যাত্রী তোলে। অথচ দুপুরের লোকাল ট্রেনে ভিড় বেশি থাকে না, মাঝেমধ্যে একেবারে ফাঁকা কামরা পাওয়াও অসম্ভব নয়। ফেরার পথে বরাবর ট্রেনে ফেরা হয়, বুলি ফুপু বাসে একদম উঠতে চায় না, তার বমি পায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বয়সে বড়ো হলেও বুলি ফুপুর সঙ্গে রোহনের জমে খুব। শ্যামলা ছোটাখাটো দেখতে বুলি ফুপু কী সুন্দর! হাসলে তার চোখ দুটোও হেসে ওঠে, গালে টোল পড়ে, আরো সুন্দর লাগে। গল্পের বইয়ে পড়া হাসিতে মুক্তা ঝরা তখন চোখের সামনে। ট্রেনে বসে অনেক গল্প করে ফুপু। কোন বান্ধবীর বিয়ে হলো, বর কেমন, কলেজে কোন স্যারের ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করে না স্যার কেমন করে তাকায় বলে – এইসব নানা কথা। রোহনও তার গল্পের ঝুলি খুলে দেয়। বড়োদের মধ্যে এক বুলি ফুপু ছাড়া এতো মনোযোগ দিয়ে তার কথা আর কেউ শোনে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটা খুব গোপন কথা আছে, কাউকে বলা যাবে না। সে নিজেই ঠিক বোঝে না, বলবে কী! ট্রেন থেকে নেমে বাসায় ফেরার জন্যে রিকশা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বসে বুলি ফুপুর গায়ের স্পর্শে কীরকম যেন একটা অনুভূতি হয়, শরীরে কিছু একটা শিহরণের মতো বোধ। আড়চোখে বুলি ফুপুর মুখের দিকে তাকায় রোহন, সেখানে কোনোকিছু লেখা নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ টিকেট কেটে স্টেশনে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ট্রেন প্ল্যাটফরমে এসে থামলে রোহন দ্রুত পায়ে হেঁটে একবার টহল দেয়। পেছনের দিকে একেবারে ফাঁকা একটা কামরা। সে অপেক্ষা করে, অন্য কোনো যাত্রী উঠে পড়তে পারে। কেউ আসে না। গার্ডের বাঁশি বাজার পর ট্রেনটা চলন্ত হওয়ার আভাস দিলে রোহন ফাঁকা কামরার একমাত্র যাত্রী হিসেবে উঠে পড়ে। আঃ, কী আনন্দ! প্রথম দুটো স্টেশন নিজের মতো করে সে একা। পুরো রাজ্যের একচ্ছত্র দখল, ভাগ বসানোর কেউ নেই। স্টেশন ছেড়ে যেতেই একবার এই সীটে বসে, উঠে গিয়ে আবার ওই সীটে। জানালার পাশে বসে মাথা বাইরে ঠেলে দিলে হু হু বাতাসে চুল ওড়ে। উদ্দাম বাতাস পারলে চোখ বুজিয়ে দেয়। আশেপাশে কেউ না থাকলে গলা ছেড়ে গান গাইতে কোনো অসুবিধা নেই। চলন্ত ট্রেনের শব্দের তলায় নিজের গলা যে কোনো বিখ্যাত গায়কের মতো হয়ে যায় – অর্ণব বা হাবিব, অঞ্জন অথবা নচিকেতা। গানগুলো ঠিকমতো সুরে খেলে, তখন গানগুলো তার নিজের। খোলা চোখেও মনে মনে রোহন দেখে, মঞ্চে উঠে একটার পর একটা গান করছে সে, একেকটা গানের শেষে শ্রোতাদের হাততালি ও উল্লাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলতাফনগরে ট্রেন থামলে চারজন লোক এই কামরার নতুন যাত্রী হয়ে উঠে এলো। তাদের পরণে ছোপ-ছোপ জলপাই সবুজ পোশাক। পোশাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিহ্ন আঁকা, বুকের বাঁ দিকে নাম লেখা ট্যাগ। পায়ে বুট, হাতে রাইফেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাঁধে ঝোলানো ব্যাকপ্যাক নামিয়ে লোকগুলো রোহনকে দেখে। চার জোড়া চোখ একত্রে। রোহনের অস্বস্তি হয়, চোখ নামিয়ে ফেলে সে। মুখ ঘুরিয়ে জানালার বাইরে চোখ ফেলার আগে আড়চোখে দেখে, সৈনিকরা তখনো তাকে দেখছে। কী এমন দর্শনীয় বস্তু হয়ে গেলো সে? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এতো কাছে থেকে কোনো সৈনিককে কখনো দেখেনি রোহন। অবশ্য আলাদা করে দেখার কী আছে তা-ও বোঝে না। লোকগুলোর পোশাক-আশাক আলাদা, চুল খুব ছোটো ছোটো করে ছাঁটা – এই তো। অন্যসব মানুষের চেয়ে আর কিছুতে আলাদা লাগে না। তবু ঠিক যেন একরকমও নয়। কোথাও তারা অন্যরকম। সামনাসামনি না দেখলেও শোনা কথা কম নেই। রোহনের জন্মেরও অনেক বছর আগে এ দেশে যুদ্ধ হয়েছিলো, পাকিস্তানী সৈন্যদের নিষ্ঠুরতার গল্প সে শুনেছে বাবার কাছে। অকারণে তারা পাখি মারার মতো মানুষ মারতো, দুধের শিশুকে শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে বেয়োনেটের ডগায় গেঁথে ফেলার গল্প শুনে রোহনের অসহ্য লেগেছিলো। সে জানে, তারা ছিলো অন্য দেশের সৈন্য। রোহন নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে, ওদের সঙ্গে তার কখনো দেখা হয়নি। কেমন ছিলো দেখতে তারা? এই লোকগুলোর মতোই? না অন্যরকম? বাবা আজও মিলিটারি একদম সহ্য করতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রোহনের মনে হয়, এই চারজন আমাদের দেশের সৈনিক। তারা নিশ্চয়ই পাকিস্তানীদের থেকে আলাদা। অতো নিষ্ঠুর হওয়া এদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবু স্বস্তি পাওয়া যায় না। বাবাকে বলতে শুনেছে, বছরখানেক ধরে সৈনিকরাই আড়ালে থেকে দেশ চালাচ্ছে। সেনানায়কের চেহারা সেজন্যেই আজকাল এতো ঘন ঘন টিভিতে দেখা যায়। অন্য হোমরা-চোমরা যাদের দেখা যায়, তারা তারই হুকুমে ওঠে-বসে, যা বলে তাই শোনে। তারাও এক হিসেবে সৈনিকদের হুকুমের দাস সৈনিক হয়ে গেছে, শুধু সাজপোশাকে তারা আলাদা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয়েকবার এরকম নাকি হয়েছে এ দেশে, তখনো রোহনের জন্ম হয়নি। এতোকিছু তার বোঝার কথা নয, তবে বাবা ভুল কিছু বলেনি – সেনানায়ককে যে খুব আজকাল টিভিতে দেখা যায় তা সে লক্ষ্য করেছে। কিছুদিন আগেও এরকম ছিলো না, তা-ও বেশ মনে আছে। সামনে বসা লোকগুলো সেই ক্ষমতাবানের প্রতিনিধি বলেই এরকম অস্বস্তি? সে নিতান্ত এক নিরীহ স্কুলছাত্র, তাকে ভালো ছেলে বলে সবাই জানে। তার ভয় কীসে? তবু বলা যায় কিছু? তারা যা খুশি করতে পারে শোনা যায়। ঢাকায় ছাত্রদের সঙ্গে তাদের গোলমালের কথা খবরের কাগজেই পড়েছে। শিক্ষকদের ধরে জেলে আটকে রাখা হলো কতোদিন! কোনো দোষ না করেও নিজেকে খুব নিরাপদ ভাবা চলে কি না, কে জানে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ট্রেন এখন ছুটছে শস্যভরা উন্মুক্ত মাঠের বুক চিরে। ক্ষেতে কর্মব্যস্ত কৃষক। রেললাইন বরাবর সরু অগভীর জলাশয়, টেলিগ্রাফের তারে বসা নানা জাতের পাখি। হঠাৎ রোহনের চোখে পড়ে, আকাশে ছোটো একখণ্ড কালো মেঘ মাঠের এক জায়গায় ধূসর ছায়া ফেলেছে। তার চারপাশ সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় আলোময়। ধূসর ছায়াটা স্থির হয়ে নেই, বাতাসে মেঘ সরে সরে যায়, সঙ্গে ধূসর ছায়া। ‘শরতের মিছা মেঘ’ কথাটা কোথাও লেখা দেখেছিলো, এখন মনে আসে। এই মেঘ শুধুই মেঘ, বৃষ্টি ঝরানোর ক্ষমতাও নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাইরে থেকে চোখ ফিরিয়ে এনে রোহন সৈনিকদের দিকে তাকায়। চারজন পাশাপাশি বসা। এতোক্ষণ নিজেদের মধ্যে কিছু বলাবলি করছিলো, রোহনের মুখ ফেরানো যেন সবাই একসঙ্গে টের পেয়ে এখন আবার তাকে নজর করে দেখছে। কী দেখে তারা? কেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘন গোঁফওয়ালা সৈনিক, চারজনের মধ্যে সে-ই সবচেয়ে বেঁটে, হঠাৎ রোহনের দিকে তাকায়। তার ঠোঁটটা কি একটু নড়ে উঠলো? লোকটা মুচকি হাসি হাসলো? হয়তো দেখার ভুল। গোঁফওয়ালার পাশের জন রোহনের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে। লোকটার চোখগুলো কী তীব্র, যেন ভেতরটা ভেদ করে সব দেখতে পাচ্ছে। রোহনের বুকে ধুকপুক যে একটু বেশি জোরে হচ্ছে, লোকটা কি টের পেয়ে গেলো? চোখ সরিয়ে না নিয়ে তার উপায় কী! সে বুঝতে দেবে কেন? নিজেকে বোঝায়, সে একটুও ঘাবড়ায়নি। তবে কিছু একটা আছে, তাকে নিশ্চিন্ত থাকতে দিচ্ছে না। ভেতরটা আপনা থেকেই টানটান হয়ে আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লোকগুলো নিজেদের মধ্যে কিছু একটা নিয়ে কথায় ব্যস্ত হয়ে গেছে। সবই কানে আসছে, অথচ ভেতরের উৎকণ্ঠায় রোহন কিছুই শুনতে পায় না। তাদের সম্মিলিত উচ্চকণ্ঠ হাসি শোনা যায় এবার। রোহন ফিরে তাকায় সৈনিকদের দিকে। চার জোড়া চোখ তাকে দেখছে। মানুষের হাসির শব্দ যে এতো বিরক্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষার বিষয় হতে পারে, তার জানা ছিলো না। তার চেয়ে বড়ো কথা, তাদের চাউনি রোহনের ভেতরের অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরের স্টেশনে ট্রেন থামলে নেমে যাবে স্থির করে সে, অন্য কোনো কামরায় উঠে পড়লেই হলো, তারপরে একটা তো মোটে স্টেশন। এখন তার আক্ষেপ হয়, মায়ের কথা মান্য করে বাসে গেলেই ভালো হতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ্যাই ছেলে, তুমি কই যাইতেছো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রশ্নটা তাকেই করা হয়েছে বুঝতে সময় লাগে রোহনের। দাড়িগোঁফে আচ্ছন্ন মুখের সৈনিক প্রশ্নকর্তা। তার ওপরে নিবদ্ধ চার জোড়া চোখকে তার হঠাৎ ক্ষুধাকাতর বাঘের চোখের মতো লাগে। খুব আড়ষ্ট বোধ করে সে। ভেতরে ভেতরে কেঁপে ওঠে, শরৎকালের রোদ ঝলমল দিনেও তার শীত শীত করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার অনিশ্চিত কণ্ঠস্বর থেকে একটিমাত্র শব্দ নিঃসৃত হয়, শান্তাহার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একলা ক্যান? বাড়ি পলাইছো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রোহন না-সূচকভাবে দুইদিকে মাথা নাড়ে। তারপর মুখ ফিরিয়ে নিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। তার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, চোখগুলোকে আর তার সহ্য হচ্ছে না। এই ভয়ের অনুভূতি আর বহন করা যাচ্ছে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ট্রেনের গতি কমে এসেছে, আদমদীঘি স্টেশন এসে পড়লো। এবার নেমে যাওয়া দরকার। উঠে দাঁড়াবে ভাবছে, তখন তার হাত-পা স্থির হয়ে যায়। একটা কথা মনে পড়ে গেছে। একটু আগে সে শান্তাহার যাবে বলেছে, এখন আদমদীঘিতে নেমে যায় কী করে? ওদের অনুমান, সে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এখানে নামতে চাইলে ওদের সন্দেহ আরো মজবুত হবে। নিজের ওপর মনে মনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে, কী দরকার ছিলো শান্তাহার বলার? এই তো যাচ্ছি আর কী – এই ধরনের একটা অনির্দিষ্ট উত্তরও তো দেওয়া যেতো। এখন থাকো বসে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রায়-দুপুর রোদে আদমদীঘি স্টেশনের প্ল্যাটফরমে লোকজনের ভিড় বেশি নেই। মুখ বাড়িয়ে রোহন যাত্রীদের ওঠানামা দেখে। একবার ভাবে, ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এক দৌড়ে নেমে গেলে কেমন হয়? ওরা তখন আর তার পিছু নেবে না নিশ্চয়ই। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অন্য কামরায় উঠে পড়া যদি না যায়? তখন আদমদীঘিতে বসে থাকতে হবে, পরের ট্রেন যে কখন তা-ও জানা নেই। বুকভরা অস্বস্তি-উৎকণ্ঠা, ভয়-দুঃখ-ক্রোধ মিলিয়ে রোহনের এখন কাঁদতে ইচ্ছে করছে। অথচ মনে হচ্ছে, তার ভয় করবে কেন? এই ভয়ের কোনো মানে নেই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পান-বিড়ি-সিগারেট হেঁকে যাওয়া হকারকে হাত তুলে ডাকে রোহন। এক শলা সিগারেট আর একটা দেশলাই কেনে। এখন ধরাবে। এক মুহূর্ত আগেও ভাবেনি, এখনো স্পষ্ট জানে না সে কেন কিনলো। ধরিয়ে টানা পরের কথা, সিগারেট জীবনে কখনো সে ছুঁয়েই দেখেনি। বয়স্ক কারো সামনে সিগারেট খাওয়াও চলে না। অথচ কামরার উল্টোদিকে বসা চারজনকে সে এখন সম্পূর্ণ অস্বীকার ও অবজ্ঞা করতে ইচ্ছুক। যেন তারা একেবারে নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একবার মনে হয়, জীবনে কখনো সিগারেট না-ধরা হাতে দেশলাই-সিগারেট সামলাতে পারবে তো? পারবে, অন্যদের ধরাতে দেখেছে। সিগারেটটা দুই ঠোঁটের ফাঁকে রেখে দেশলাইয়ে কাঠি ঠুকে দেয় রোহন। এই তো আগুন জ্বলেছে। জ্বলন্ত দেশলাই-কাঠির দিকে চোখ স্থির করে সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ট্রেন চলতে শুরু করেছে। চার সৈনিকের দিকে একবারও ফিরে তাকায় না রোহন। এখন তার কোনো উৎকণ্ঠা নেই, একটুও ভয় করছে না।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-5438285521909884907?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15912' title='বালক ও চার সৈনিক'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/5438285521909884907/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=5438285521909884907' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5438285521909884907'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5438285521909884907'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_12.html' title='বালক ও চার সৈনিক'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-7168254541662633322</id><published>2008-06-08T11:57:00.000-05:00</published><updated>2008-06-08T11:58:46.478-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>শহীদ কাদরী গুরুতর অসুস্থ</title><content type='html'>নিউ ইয়র্কে প্রবাসী কবি শহীদ কাদরী দীর্ঘকাল ধরে দুই অকেজো কিডনি নিয়ে চিকিৎসাধীন। একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন পাঁচ বছর। সপ্তাহে তিনদিন ডায়ালিসিস তাঁকে সীমিতভাবে সচল রেখেছে। সপ্তাহ দেড়েক আগে পিঠে অসহ্য ব্যথা বোধ করলে তাঁকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়। দু’দিন আগে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে একাধিক গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণে। তখন থেকে তাঁকে সিসিইউ-তে পর্যবেক্ষেণে রাখা হয়েছে, নানাবিধ পরীক্ষা চলছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রক্তে সংক্রমণ ও নিচু রক্তচাপ চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রেখেছে। হার্টবিট নেমেছে ৪৭-এ। অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এপিলেপসির লক্ষণও দেখা গেছে, পরশু এবং আজ সিজার হয়েছে। নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিকের কাছাকাছি না এলে তা করা সম্ভব হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইসব জটিলতার কারণে নিয়মিত ডায়ালিসিস করা যাচ্ছে না, করা হচ্ছে আংশিক। একটাই হয়তো ভালো খবর, তাঁর হার্টে কোনো গোলযোগ পাওয়া যায়নি। সেটা হলে দুর্যোগ আরো বড়ো ও জটিল হতে পারতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শারীরিক এতোসব সংকট সম্পর্কে আমার ধারণা প্রায় শূন্য, তবে কবির অসুস্থতা যে গুরুতর তা কোনো বালকও বুঝবে। নীরা ভাবী ফোনে যা জানিয়েছেন, তাই বয়ান করছি। শহীদ ভাইয়ের অনুরাগী-শুভার্থীদের খবর জানাতে অনুরোধ করে তিনি বললেন, আমি নিজেও অসুস্থ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সবাইকে এইসব বলতে বলতে আমি ভেঙে পড়ছি। কেউ যদি আমাকে এখন কিছু জিজ্ঞাসা না করেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শহীদ কাদরী আছেন লং আইল্যান্ড জ্যুয়িশ হাসপাতালের সিসিইউ-এর ১৩ নম্বর কক্ষে। নিউ ইয়র্কবাসী কেউ ইচ্ছে করলে হাসপাতালে যেতে পারেন। হাসপাতালে ফোন (৭১৮.৪৭০.৭০০০) করলে ঠিকানা ও দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডাক্তাররা বলেছেন, শহীদ ইজ আ ফাইটার। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা চাই, যোদ্ধা যেন জয়ী হয়ে ফেরেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরা প্রার্থনা করতে পারেন কবির জন্যে। আর আমরা অবশিষ্টরা উদ্বেগ-ঊৎকণ্ঠা নিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কী করতে পারি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-----------------&lt;br /&gt;জুন ০৭, ২০০৮&lt;br /&gt;-----------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-7168254541662633322?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15824' title='শহীদ কাদরী গুরুতর অসুস্থ'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/7168254541662633322/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=7168254541662633322' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7168254541662633322'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7168254541662633322'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post_08.html' title='শহীদ কাদরী গুরুতর অসুস্থ'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-8562259448790663892</id><published>2008-06-03T21:20:00.000-05:00</published><updated>2008-06-03T21:21:48.661-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>কী করতে চাই আর কী করি</title><content type='html'>কলেজে ভর্তি হওয়ার অল্পকালের মধ্যেই প্রেমে পড়ি। ঐ বয়সে সবাই যেমন পড়ে। সম্পর্কটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিন্তু সেই সময়ের একটি অভ্যাস আমার চিরকালের সঙ্গী হয়ে গেলো। অভ্যাসটি রাত্রি জাগরণের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রেমের সঙ্গে রাত্রি জাগরণের খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা আছে, ভুক্তভোগীরা এই সাক্ষ্যই দেবেন। আমার পক্ষেও ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব ছিলো না। অভ্যাসটি এমনই হয়ে গেছে যে কখন ঘুমাতে যাবো তা সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছে। কিন্তু বিপদ হয় জেগে ওঠার সময়, তার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই। ভোরবেলার অ্যালার্মঘড়ি আমাকে জাগায়, যেহেতু জীবিকা নির্বাহের জন্যে একটি কর্ম আমাকে করতে হয় এবং সেখানে সকালেই হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রাতঃকালের জাগরণটি ততোটা রূঢ় যাতে না হয়, সেজন্যে নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে গেছে। কর্কশ ক্যাঁ ক্যাঁ আওয়াজের অ্যালার্মের বদলে রেডিওর গান ঘুম ভাঙাবে, এই আশায় রেডিওসহ অ্যালার্ম ঘড়ি এলো। কিন্তু যে গানটি তখন বাজছে তা আমার খুব অপছন্দের হলে? সাতসকালে গানের বদলে তারস্বরে বিজ্ঞাপন শুনে ঘুম ভাঙলে তা-ও খুব সুখের হয় না। এরপরে একটি অ্যালার্মঘড়ি কেনা হলো যেখানে ইচ্ছে করলে সমুদ্রের কল্লোল শোনা যাবে, অথবা পাখির ডাকে নিদ্রাভঙ্গ হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছুই আসলে বদলায়নি। একই অনিচ্ছা ও বিরক্তি নিয়ে সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি। বিছানায় উঠে বসে প্রতিদিন ভাবি, আজ কাজে না গেলে কী হয়? অথবা একেবারে কাজ না করতে হলে? কাজ ছেড়ে দিলে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গ্রাসাচ্ছদনের চিন্তা আসে, পরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। অনিচ্ছুক শরীর ও মনকে প্রস্তুত করতে হয় আরেকটি দিনের জন্যে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবন নির্বাহ করার জন্যে কাজ করতে না হলে কী করতাম আমার একেকটি দিন নিয়ে? আহ, কতো দীর্ঘ সেই ইচ্ছেগুলির তালিকা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শয্যা ত্যাগ করা যেতো অ্যালার্মের নির্দেশ ছাড়া, ঘুমের বরাদ্দ আদায় পূর্ণ হলে। জানালার পর্দা সরালে আলোয় আলোময় একটি ঝলমলে দিন বাইরে। মেঘলা হলেই কী এমন ক্ষতি? অথবা হোক না যে কোনো রকমের বৃষ্টি - ঝিরঝিরে বা ঝমঝম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পড়বো বলে জমিয়ে রেখেছি অগণন বই, তার একটা খুলে বসা যায়। অসংখ্য সিডি কেনা আছে, অনেকগুলি বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে সেলোফেনের মোড়কমুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়। আমার মেয়ে জিজ্ঞেস করে, শোনো না, তাহলে কিনেছো কেন? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি তাকে বলি, এগুলি আমার অবসর জীবনের সঞ্চয়। মানুষ টাকাপয়সা জমায়, আমি রাখি বই আর গানের সঞ্চয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিকেলে ছেলেকে নিয়ে পার্কে যাওয়া যায়। তার খুব ইচ্ছে, একা একা বাস্কেটবল প্র্যাকটিস করার বদলে বাবাও তার সঙ্গে থাকবে। স্ত্রীর ইচ্ছে একত্রে কোনো সিনেমা দেখতে যাই, অনেক বছর হয়নি। চাইলে তাদের ইচ্ছেপূরণ ঘটানো যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না-লেখা ও অসমাপ্ত গল্প-উপন্যাসগুলি লিখতে বসতে পারি। গভীর রাত পর্যন্ত একটানা লিখবো। ভালোমন্দ যা-ই হোক, একেকটি লেখা শেষ করার কী গভীর পরিতৃপ্তি! সেই স্বাদ কতোদিন পাওয়া হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতপক্ষে কোনোকিছুই ঘটে না। সঞ্চয় করে রাখা বইয়ের বদলে অফিসে বসে এটা-ওটার ম্যানুয়াল পড়ি, ইমেল পড়ি। গান শোনার বাসনা ত্যাগ করে হেডফোন কানে লাগিয়ে কনফারেন্স কলের অনন্ত বকরবকর শুনি। লেখালেখিও হয় বটে। নালিশ এটুকুই, লিখতে হয় যা লিখতে চাই না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিনের শেষে জগতের সমস্ত অবসাদ নিয়ে ঘরে ফিরে স্ত্রী বা ছেলের বাসনা পূরণের ধারেকাছেও যাওয়া হয় না। সবশেষে একটু রাতে যখন অবসর মেলে, কমপিউটারের সামনে বসি। মনে ক্ষীণ আশা, আজ কয়েক পাতা লিখবো। হয় না, ইমেল-ইন্টারনেট সে সময়টুকু গ্রাস করে ফেলে। এইসব শেষ হলে তখন মনে হয়, আজ থাক, কাল থেকে ঠিক ঠিক হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেই আগামীকালের আশাটুকুই এখনো জাগ্রত।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-8562259448790663892?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15707' title='কী করতে চাই আর কী করি'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/8562259448790663892/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=8562259448790663892' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8562259448790663892'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8562259448790663892'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/06/blog-post.html' title='কী করতে চাই আর কী করি'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6437333424964929716</id><published>2008-05-28T21:39:00.000-05:00</published><updated>2008-05-28T21:41:10.240-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>আপনি তুমি বা তুই</title><content type='html'>অন্তত দুটি দম্পতিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি যাঁরা পরস্পরকে তুই করে বলেন। আমাদের মধ্যবিত্ত নাগরিক সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক তো নয়ই, রীতিমতো ব্যতিক্রম ও বিপ্লবাত্মক। এর বিপরীতে এমন উদাহরণও জানি যেখানে বিবাহপূর্বকালে দু’জন দু’জনকে তুই-তোকারি করতেন, বিবাহের আনুষ্ঠানিকতার ফলে তা তুমিতে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথাসিদ্ধ রূপ পেয়ে গেছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঠিক জানা নেই, তবে পৃথিবীর খুব বেশি ভাষায় আমাদের মতো আপনি-তুমি-তুই এরকম তিন স্তরের সম্বোধন আছে বলে মনে হয় না। হিন্দি-ঊর্দূতে আছে জানি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে যে কোনো শহরের বাইরে দুই পা গেলে অবশ্য অন্য বাস্তবতা। গ্রামবাংলায় আজও পুরুষরা সচরাচর বউদের তুই করে বলেন, যদিও মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামীদের (স্বামী শব্দটি আমার ভয়ানক অপছন্দ, অথচ যুৎসই বিকল্পও নেই) তুমি, এমনকি আপনি বলে সম্বোধন করে থাকেন। কখনো কখনো আপনি-তুমির সীমানা বাঁচিয়ে ভাববাচ্যে বলা হয়। স্বামী বলে কথা, যার অর্থ প্রভু। আজকাল অবশ্য কিছু লেখাপড়া জানা মানুষও গ্রামে বসবাস করেন, তাঁরা আবার এই নিয়মের ব্যতিক্রম – বউকে তুই-তোকারি করা অরুচিকর ও অশোভন, বিবেচনা করেন। তাঁদের মনোভাব শহরের তুমি-সংস্কৃতির অনুসারী হয়ে স্বস্তি বোধ করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই কিছুকাল আগেও গ্রামাঞ্চলে বাবা-মা, চাচা-চাচী, দাদা-দাদী, নানা-নানী, ভাই-ভাবী বা গ্রামের বয়স্ক মুরুব্বীদেরও তুই বলা কিছুমাত্র অস্বাভাবিক ছিলো না, অসঙ্গত বলেও গণ্য হতো না। আর ভাইয়ে-ভাইয়ে বা ভাইবোনের মধ্যে তুই ছাড়া কিছু তো হিসেবের বাইরেই ছিলো। আমাদের বাড়িতে ভাইবোনদের মধ্যে পরস্পরকে তুই/তুমি বলার চল, আব্বা-আম্মাকে আপনি। ওইরকমই আমাদের শেখানো হয়েছিলো, যেমন হয়েছিলো বাবা-মা সম্বোধনের পরিবর্তে আব্বা-আম্মা। আমাদের গ্রামের বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ভাইবোনকে তো বটেই, মাকে তুই বলা আজও প্রায় সর্বাংশেই চালু আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিয়মিত আড্ডায় আমাদের ঘনিষ্ঠ পাঁচ বন্ধুর মধ্যে আপনি/তুমি/তুই-এর এক খিচুড়ি প্রচলিত ছিলো। আমাকে বাদ দিলে অন্য চারজন ছিলো হাবিব, সিরাজ, মিলন ও সারোয়ার। বয়সের পার্থক্য অবশ্য ছিলো, কিন্তু তারপরেও আপনি/তুমি/তুই-এর যুক্তিসঙ্গত হিসেব মেলানো কঠিন। হাবিব আর্ট কলেজের ও সিরাজ বুয়েটের পড়াশোনা শেষ করেছে আগেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সারোয়ার ও আমি সমবয়সী। মিলন জগন্নাথ কলেজের এবং আমাদের এক বছরের ছোটো, সিরাজ তিন বছরের ও হাবিব ছয় বছরের বড়ো। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাবিবের সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের আপনি চলে। বয়োজ্যষ্ঠ হিসেবে হাবিবের পক্ষে আমাদের সবাইকে তুমি, এমনকি করে বলা স্বাভাবিক ও সঙ্গত হতো। কিন্তু হয়নি। সিরাজ-মিলনের মধ্যে তুই-সম্পর্ক। সিরাজের সঙ্গে আমার ও সারোয়ারের আপনি। আমার সঙ্গে মিলনের তুই চলে, সারোয়ারের সঙ্গে আপনি। আপনি সম্বোধনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিরাজ একদিন এই মর্মে এক তত্ত্ব উপস্থিত করে যে, আপনি বললে কিছু দূরত্ব বজায় রাখা যায় এবং পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। তুই-তোকারির বন্ধুকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দেওয়া যায়, আপনি সম্বোধনের কাউকে শুয়োরের বাচ্চা বলা সম্ভব নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৌম্য দাশগুপ্ত কবি। বয়সে অনেক ছোটো হলেও সে আমার বন্ধুস্থানীয়। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতা শহরে। তার বাবা বরিশালের, মা চট্টগ্রামের (সেই বাবদে সে চট্টগ্রামের আহমদ ছফাকে মামা বানিয়ে ফেলেছিলো)। সৌম্য সামগ্রিকভাবে নিজেকে বাঙালি এবং আধা-বাংলাদেশী বলে পরিচয় দেয়। আংশিকভাবে তা পিতামাতার জন্মভূমির সূত্রে, বাকিটা বাংলাদেশের বিস্তর মানুষজনের সঙ্গে তার অতি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সম্পর্কের কারণে। মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়, বাংলাদেশে আমার চেয়ে তার চেনাজানা বেশি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরিচয়ের শুরুতে সৌম্যকে আপনি বলতাম। একদিন সে তুমি করে বলার অনুরোধ করলে আমি তাকে কিছুটা অবাক করে বলি, আমাকে জুবায়ের ভাই ডাকো ঠিক আছে, কিন্তু আমাকেও তুমি করে বলবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবাক হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সে বলে, বাংলাদেশের মানুষদের মধ্যে আপনি-আপনি বলার প্রবণতাটা খুব বেশি দেখি। খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও পরস্পরকে আপনি বলেন দেখেছি। অথচ পষ্চিম বাংলায় অত্যন্ত দূরবর্তী বা শিক্ষক ও গুরুস্থানীয় কেউ না হলে আপনি বলা হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পশ্চিম বঙ্গে বাস্তবতা আসলেও তাই। বয়স্করা শিশুদের অবধারিতভাবে তুই করে বলবে। বাবা-মা ও অন্য সব বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়-পরিজনকে তুমি বলার রেওয়াজ। আপনি দিয়ে শুধু সম্পর্কের দূরত্ব বা শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশিত হবে। সেখানেও বন্ধুদের মধ্যে কোথাও কোথাও আপনি সম্বোধন বলবৎ থাকে, তবে তা ব্যতিক্রম বলেই ধরা হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের দেশেও শহরাঞ্চলে কিছু বদল ঘটেছে। আজকাল শিশুরা বাবা-মাসহ বড়োদের আপনির চেয়ে তুমি বেশি বলে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তুই-তুমি প্রাধান্য পাচ্ছে। এগুলি চমৎকার ও সহজ সম্পর্কের নির্দেশক বলেই আমার বিশ্বাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত কিছুদিনে সচলায়তনে কারো কারো সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। বয়সে বড়ো হওয়ার কারণে এদের অনেককেই তুমি বলার অনুমোদন পেয়ে গেছি। অথচ কাউকেই বলা হয়ে ওঠেনি যে, তারাও আমাকে জুবায়ের ভাই, তুমি বললে খুশি হই। সৌম্যকে সহজে বলতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমাদের মধ্যে ওই চল এখনো গড়ে ওঠেনি বলেই হয়তো বলা যায়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানুষের জীবন যে কতো অসঙ্গতিতে ভরা তার একটি উদাহরণ আমি ঘরেই তৈরি করে রেখেছি। একদিন খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমি আমার মেয়েকে তুই বললেও ছেলেকে তুমি করে বলি। কী করে ঘটলো জানি না। কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো না। মানুষের আচরণ আসলে খাপছাড়া হয়েই থাকে – এরকম একটা যুক্তিহীন যুক্তি দিয়েই তাকে যুক্তিসিদ্ধ করা সম্ভব। আর কোনোভাবে নয়।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6437333424964929716?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15493' title='আপনি তুমি বা তুই'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6437333424964929716/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6437333424964929716' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6437333424964929716'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6437333424964929716'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_28.html' title='আপনি তুমি বা তুই'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-677486090659403240</id><published>2008-05-26T11:02:00.003-05:00</published><updated>2008-05-26T11:07:57.107-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গল্প'/><title type='text'>বামন-গল্প : বয়স</title><content type='html'>বেশ কিছুদিন ধরে সচলায়তনে অণু-পরমাণু গল্পের ঢল নেমেছে। একটা সংকলনও হয়ে গেছে। সেই সংকলনে লেখার জন্যে আমন্ত্রিত হয়ে দুই সম্পাদককে জানিয়েছিলাম, ছোটো লেখা আমাকে দিয়ে হয় না, সুতরাং মাফ চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেকদিন লেখালেখি কিছুই হয়ে উঠছে না। আজ ছুটির দিন বলে বসা গেলো। যা লিখতে গিয়েছিলাম তার আশেপাশেও যাওয়া হলো না, সম্পূর্ণ অন্য একটা জিনিস মাথায় এলো। তা-ও আবার ক্ষুদে গল্পের আকারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিছু হলো কি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;* * * * * * * * * *&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:180%;color:#ff0000;"&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;বয়স &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;যুদ্ধে গিয়েছিলে?&lt;br /&gt;তখন বয়স হয়নি, ছোটো ছিলাম।&lt;br /&gt;এখন হলে যাবে?&lt;br /&gt;বয়স হয়ে গেছে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-677486090659403240?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15443' title='বামন-গল্প : বয়স'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/677486090659403240/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=677486090659403240' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/677486090659403240'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/677486090659403240'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_26.html' title='বামন-গল্প : বয়স'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-7632199827953650401</id><published>2008-05-17T01:51:00.003-05:00</published><updated>2008-05-17T13:11:23.791-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>গোলমালচরিত</title><content type='html'>এক রাতে ঢাকা থেকে ফোন। হ্যালো বলতেই ওপাশে রীতিমতো গোলাবর্ষণ (গলাবর্ষণ আর কি!)। ফারুকের গলা। কোনোরকম সম্ভাষণ নয়, কয়েক বছর পর কথা হচ্ছে, ভালোমন্দ খোঁজখবর নেওয়ারও যেন দরকার নেই। সরাসরি প্রসঙ্গে চলে গেছে সে, কী একখান নাম দিয়া গ্যালেন মিয়া, এখনো সবাই আমারে ওই নামে ডাকে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পুরো নাম গোলাম ফারুক। এক মুহূর্ত সুস্থির হতে জানে না – তড়বড় করে ছুটে বেড়াচ্ছে, পোশাক-আশাকে ভদ্রস্থ থাকার চেষ্টা থাকলেও বেশিরভাগ সময় প্যান্টের জিপার ওপরের দিকে খানিকটা আলগা প্রায় সারাক্ষণ, সঙ্গে আধভাঙা গলায় ক্রমাগত কথার খই ফুটছে। এতো দ্রুত কথা বলে যে অভ্যস্ত না হলে মর্মোদ্ধার করা কঠিন। এই চরিত্রের নামের প্রথমাংশের গোলামকে গোলমাল বানিয়ে ফেলা কঠিন কিছু নয়, স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া উচিত। ভুলও হয় না। অবিলম্বে নামটি আমাদের বন্ধুদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পায়। প্রায় তিরিশ বছর ধরে চালু আছে। কোন ফারুক জিজ্ঞেস করলে এই ফারুককে চেনাতে হলে বলতে হয়, গোলমাল ফারুক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফোনে তখনো ফারুকের কথা শেষ হয়নি। সে বলে যায়, আমার পোলা সেদিন জিগায়, আচ্ছা বাবা সবাই তোমারে গোলমাল কয় ক্যান?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফারুককে চিনি ১৯৭৮ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষা তখনো হয়নি, বিজয়নগরে ‘নান্দনিক’ নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানে কপিরাইটারের কাজ করি। সেখানেই ফারুকের সঙ্গে প্রথম দর্শন ও পরিচয়। তার সঙ্গে বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠতা হওয়ার কথা নয়, কিন্তু তার নির্ভেজাল সরলতা ও স্বভাবের কারণে তাকে উপেক্ষা করাও কঠিন। নান্দনিক যুগের পরে পুরানা পল্টনে হাউজ বিল্ডিং ভবনের পেছনে ‘অ্যাডবেস্ট’ নামের বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানেও একসঙ্গে কাজ করেছি। তারপরেও আমাদের যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব অটুট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফারুকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তার দ্রুতকথনে তা অনায়াসে হয়ে যায় ন্যাঞ্জো, তাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শব্দটা কখনো উচ্চারণ করানো যায়নি। ফারুকের শর্টহ্যান্ডসদৃশ দ্রুতকথনের আরো কিছু নমুনা দিই। মুন্নি নামে একটি মেয়ে অ্যাডবেস্টের একটি বিজ্ঞাপনে মডেলিং করেছিলো। একদিন দুপুরে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে এসে ফারুক বলে, মুন্নি অ্যারেস্ট হইছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবাক হয়ে বলি, কেন কী হয়েছে? মুন্নি অ্যারেস্ট হবে কেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরে না না, মুন্নি অ্যারেস্ট হইয়া গেছে তো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ধরনের কথোপকথন আরো খানিকক্ষণ চলার পরে উপস্থিত একজন কেউ ফারুকের কথার অনুবাদ করতে সক্ষম হয়। অনুবাদে যা পাওয়া গেলো তা এইরকম: মুন্নি বিমানে এয়ারহোস্টেস হয়েছে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বিয়ের কিছুদিন পর এক সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় এসেছে সে। চা খেতে খেতে একসময় বউকে জিজ্ঞেস করে, ফ্রিজ কই?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খাবার টেবিলের পাশে ফ্রিজ দেখিয়ে বউ বলে, ওই তো!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না না, ফ্রিজ ফ্রিজ। ফ্রিজ কই?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি ততোক্ষণে বুঝে গেছি। আমার ছোটো ভাইয়ের নাম ফিরোজ, ফারুক তার খোঁজ করছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাতের জন্যে ফারুকের খুব দুর্বলতা। কোনোদিন হয়তো অফিসের সবাই মিলে ভরপেট চাইনিজ খেয়ে ফিরেছি। অফিসে ঢুকেই সে পিয়নকে ডেকে বলবে, জলদি ভাতমাছ লইয়া আয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অ্যাডবেস্ট ছিলো উৎকৃষ্ট আড্ডার জায়গা। দিনমান বিভিন্ন জাতের মানুষের আনাগোনার শেষ নেই, আড্ডার জন্যে একটি বড়ো কক্ষ আলাদা বরাদ্দ ছিলো। ক্রমাগত চা সরবরাহ চলছে। গ্রুপ থিয়েটারের দল, সাহিত্যের দল, আঁকিয়েদের দল তো ছিলোই। আরো আসতো ফুটবল-ক্রিকেট খেলোয়াড়দের দল, এমনকি বিশুদ্ধ আড্ডাবাজরা স্রেফ আড্ডার টানেই সেখানে সমবেত হতো। একসময় বলা হতো, এটা অ্যাডবেস্ট নয়, আড্ডাবেস্ট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের গোলমাল ফারুক ফুটবলে মোহামেডানের পাঁড় সমর্থক। তার তখন স্বপ্ন ছিলো, একদিন অনেক টাকার মালিক হয়ে সে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা হবে। সত্যি কথা বলতে কী, এমন মোহামেডান-অন্তপ্রাণ আর কাউকে আমি দেখিনি। মোহামেডানের খেলার দিন বিকেলে তাকে কিছুতেই অফিসে পাওয়া সম্ভব নয়। অফিস থেকে পায়ে হেঁটে তিন মিনিটে স্টেডিয়াম, তাকে আর পায় কে! একদিন সন্ধ্যায় খেলা দেখে থমথমে মুখ করে ফিরেছে ফারুক। জিজ্ঞেস করার দরকার নেই, তার মুখই খেলার ফলাফল বলে দিচ্ছে। জানা গেলো, খুব বাজে টীমের কাছে সেদিন হেরেছে মোহামেডান। অফিসে কয়েক মিনিট অস্থিরভাবে পায়চারি করে ফারুক, তারপর একসময় ছুটে বাইরে যায়। কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলে, শালার মোহামেডান ক্লাবে ঢিল মারতে যাই!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সে সময়ের আবাহনীর তারকা ফুটবলার টুটুলও নিয়মিত আসে আড্ডা দিতে। ফারুকের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য যেমন ছিলো, আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে তর্কবিতর্ক, খোঁচাখুঁচিও কম হতো না। ঠাট্টার ছলে মোহামেডানকে হেয় করা ছোটো ছোটো মন্তব্যে ফারুককে উত্যক্ত করায় টুটুল ছিলো এক প্রতিভাবিশেষ। ফারুক রেগেমেগে হৈ চৈ শুরু করে দিলে আমরা মজা দেখি। একদিন এরকম খোঁচাখুঁচি চলছে, ফারুকের গলাও চড়ছে। মিটিমিটি হাসতে হাসতে টুটুল কিছু একটা মন্তব্য করতেই ফারুকের উত্তেজনা চরমে উঠে যায়। তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সে, হাত-পা নেড়ে চিৎকার করতে করতে চেয়ারে ওপর উঠে দাঁড়ায় এবং আমার জীবনে শোনা শ্রেষ্ঠতম কৌতুককর প্রশ্নটি সে করে টুটুলকে, আপনে মিয়া ফুটবলের কী বোঝেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/zubair/15236"&gt;&lt;/a&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-7632199827953650401?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/15236' title='গোলমালচরিত'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/7632199827953650401/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=7632199827953650401' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7632199827953650401'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7632199827953650401'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_17.html' title='গোলমালচরিত'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-5897091269381509111</id><published>2008-05-08T00:05:00.002-05:00</published><updated>2008-07-19T19:54:58.515-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>রবীন্দ্রসংগীতের শক্তি : আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি রচনা</title><content type='html'>&lt;em&gt;১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারিতে মৃত্যুর আগে এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সর্বশেষ রচনা। প্রথমে লেখা হয় ৯৬-এর ৮ ডিসেম্বর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের বার্ষিক সম্মেলনের জন্যে লিখিত বক্তব্য হিসেবে। অসুস্থতার জন্যে ইলিয়াস উপস্থিত হতে না পারায় লেখাটি সেখানে পাঠ করে শোনানো হয়। পরে বদরুদ্দীন উমরের ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশে লেখক সম্মতি দিয়ে জানান, তিনি আরো কিছু কথা সংযোজন করতে চান। তখন তাঁর আর নিজে লেখার অবস্থা নেই, ডান হাত ভাঙা। ডিকটেশন দেবেন, গলা ও ফুসফুসের সমস্যায় কথা বলায়ও সমস্যা। তারপরেও এই রচনায় আরো কিছু সংযোজন তিনি করতে পেরেছিলেন। ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো নিচের ভাষ্যটি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে লেখা বাংলা ভাষার আরেকজন প্রধান (এবং প্রয়াত) লেখকের এই রচনাটি প্রাসঙ্গিক মনে হলো। তাই তুলে আনা।&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তথাকথিত পাকিস্তানি সংস্কৃতির অজুহাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা কখনো স্তিমিত হয়নি। বরং সরকারি প্রচারমাধ্যমগুলো রাজনীতি প্রচার ও সংস্কৃতিচর্চায় কোনোরকম ভূমিকা পালন করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। নইলে ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এ গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্ভব হল কী করে? সুস্থ সংস্কৃতিচর্চায় সরকারি রক্তচক্ষু বিঘ্নের সৃষ্টি তো করতে পারেইনি বরং শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের রুখে দাঁড়াবার জন্য প্ররোচিত করেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে পাশ্চাত্যের ব্যান্ড মিউজিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যায় রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা বেড়েছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি। রবীন্দ্রনাথকে বর্জন করা কিংবা ছোট করার অপচেষ্টা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষিত মানুষের সমর্থন পায়নি, এখনও পায় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিশেষ কোনো অনুরাগ বা ভক্তির নিদর্শন নয়। রবীন্দ্রনাথের গানের প্রধান আবেদন ব্যক্তির কাছে। এই আধুনিক ব্যক্তি যে-সমাজে গড়ে ওঠে, আমাদের দেশে সেই সমাজ এখন নির্মীয়মান। নানা কারণে এ-সমাজে ব্যক্তির বিকাশ স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক হচ্ছে না। এই সমাজগঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র। কিন্তু বিদেশি সাহায্য সংস্থাসমূহের রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ, তাদের পরোক্ষ উস্কানিতে ধর্মান্ধ অপশক্তির উৎপাত প্রভৃতির কারণে রাষ্ট্র যেমন শক্ত হতে পারে না, ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশেও তেমনি পদে পদে বিঘ্ন ঘটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রবীন্দ্রচর্চায় মাঝে মাঝে যে বিঘ্নের সৃষ্টি করা হয় তার কারণ কিন্তু তথাকথিত পাকিস্তানি সংস্কৃতি নয়। বরং সাম্রাজ্যবাদপুষ্ট ধর্মান্ধদের উৎপাত। এই উৎপাত কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন এইসব ইতর লোকদের বিরুদ্ধে একটু সংঘবদ্ধ হলেই এরা গর্তে ঢুকে পড়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিংহভাগ শিক্ষিত মানুষের রাজনৈতিক মতামত যা-ই হোক-না কেন, একটি আধুনিক সমাজের সদস্য হওয়ার জন্য তারা উদগ্রীব। সুতরাং পঙ্গু হোক, রুগ্ণ হোক, ব্যক্তির বিকাশ এখানে কোনো-না-কোনোভাবে ঘটেই চলেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই ব্যক্তির একান্ত অনুভব সবচেয়ে বেশি সাড়া পায় রবীন্দ্রসংগীতে। তাই এই পঙ্গু বা রুগ্ণ ব্যক্তিটিকে বারবার যেতে হয় তাঁর গানের কাছেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রবীন্দ্রনাথ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যে-ব্যক্তিকে তিনি শক্তসমর্থ মানুষ। আমাদের পঙ্গু ব্যক্তি রবীন্দ্রসংগীতে নিজেকে শনাক্ত করতে চায় শক্ত মানুষ হিসেবে। হয়তো এই দেখাটা ভুল কিন্তু এই ভুল দেখতে দেখতেই সে একদিন শক্ত একটি ব্যক্তিতে বিকশিত হতেও তো পারে। তখনই গড়ে ওঠে ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্ববান মানুষ দায়িত্বশীল, সে কেবল নিজেকে নিয়ে মুগ্ধ থাকতে পারে না। তাই তার চারদিকের মানুষের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে ওঠে। রাশিয়ার চিঠিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি রবীন্দ্রনাথের আকর্ষণে কোনো ভ্রান্তি ছিল না। অসাধারণ শক্তিমান মানুষ যে-কোনো জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও মঙ্গল দেখে সন্তুষ্ট হতে বাধ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশেও ব্যক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গান যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে। এবং শক্তসমর্থ ব্যক্তিগঠনে এই গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রবীন্দ্রনাথের গান মানুষকে বিপ্লবের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে না। কিন্তু শক্তসমর্থ ব্যক্তিগঠনে রবীন্দ্রনাথের গানের ক্ষমতা অসাধারণ। শক্ত মানুষের সমবেত শক্তি মানববিরোধী অচলায়তন ভাঙার অন্যতম প্রেরণা তো বটেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;* * * * * * * *&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখাটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র ৩ থেকে নেওয়া হয়েছে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-5897091269381509111?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/14987' title='রবীন্দ্রসংগীতের শক্তি : আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি রচনা'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/5897091269381509111/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=5897091269381509111' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5897091269381509111'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5897091269381509111'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_08.html' title='রবীন্দ্রসংগীতের শক্তি : আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি রচনা'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-7930332969033684133</id><published>2008-05-04T18:23:00.002-05:00</published><updated>2008-05-06T07:25:59.764-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>ঠিক আত্মপক্ষ সমর্থন নয়</title><content type='html'>ঢাকায় আমার কিছু প্রতিভাবান বন্ধু আছেন। এঁরা কোনো বিখ্যাত সেলিব্রিটি নন, কিন্তু এঁদের বিস্ময়কর উদ্ভাবনী প্রতিভায় আমি বরাবর মুগ্ধ কখনো কখনো ভুক্তভোগী। ২০০৬ সালে রমজান মাস শুরু হবো-হবো, ঢাকায় পত্রিকাগুলির ঈদসংখ্যার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, দুয়েকটা এমনকি বাজারে এসেও গেছে। এইসময় ঢাকা থেকে এক বন্ধু (ইনি প্রতিভাবান নন) ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নাকি অমুক পত্রিকায় উপন্যাস লিখছো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিস্মিত না হয়ে উপায় কী! প্রথমত, ঐ অমুক পত্রিকাটির নাম শুনেছি, চোখে দেখিনি। তবে আমাদের এক বন্ধু (যাঁর প্রতিভার আগুনে আমি দগ্ধ হবো অচিরে) সে পত্রিকায় খণ্ডকালীন কাজ করেন জানি। কিন্তু ঐ কাগজে ঈদসংখ্যা দূরে থাক, এমনিতেও লেখালেখি বিষয়ে আমার বন্ধুর সঙ্গে কখনো কথা হয়নি। সুতরাং আমি উপন্যাস লিখছি? কই, জানি না তো! ছাড়া অন্য কোনো কথা মুখে আসে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফোনের অন্য প্রান্তে বন্ধুটি ধন্দে পড়ে, আমি হলেও পড়তাম। বস্তুত, ধন্দে আমি ততোক্ষণে পড়ে গেছি। কথাটা এলো কোত্থেকে? সেই অমুক কাগজের খণ্ডকালীন কর্মী আমার বন্ধুকে ফোনে ধরি অনেক কষ্টে। তিনি একটি মোবাইল ফোন বহন করেন বটে, তবে প্রায়ই তার উপস্থিতি ভুলে যান অথবা রিং এলে না-ধরলে-কী-হয় জাতীয় দার্শনিকতায় উপেক্ষা করতে পারেন। দয়াপরবশ হয়ে যখন তিনি ফোনে হ্যালো বললেন এবং ঘটনার বিবরণ দিলেন, আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়ার অবস্থা। আমার সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ না করে তিনি তাঁর সম্পাদককে জানিয়ে দিয়েছেন, আমার কাছ থেকে তিনি একটি উপন্যাসের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন এবং লেখাটি এই এলো বলে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার চেয়েও ভয়ংকর কথা, সম্পাদকের কাছে অলিখিত ও অকথিত উপন্যাসটি আসছে বলার পরও তিনি আমাকে বিষয়টি জানানোর দরকারই মনে করেননি। আমি কিছু উষ্মা প্রকাশ করলে তিনি নির্বিকার বললেন, আমি জানি আপনার কাছে লেখা তৈরি আছে। আর না থাকলেও এক সপ্তাহের মধ্যে একটা নামিয়ে দিতে পারবেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘যদি সে ভালো না বাসে’ লিখতে হলো দুই সপ্তাহের মধ্যে। বিরক্তি, প্রস্তুতিহীনতা, সময়ের স্বল্পতা, ঈদসংখ্যায় ফরমায়েশি আকৃতির ‘উপন্যাস’ লেখার অনিচ্ছা নিয়েও। বন্ধুর প্রতিশ্রুতির (হোক তা বাগাড়ম্বর, আর কারো তা জানারও দরকার নেই) সম্মানটুকু আমাকে রাখতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথা থেকে কে জানে, ডিমের ভাঙা কুসুমের মতো সূর্যের আলো কথাটা মাথায় এলো। ঠিক আছে, তাই দিয়েই শুরু হোক। দেখা যাবে কোথায় গিয়ে ঠেকে। চরিত্রগুলির মধ্যে এক জামাল খানিকটা পরিচিত। নীলা-নিশি-ইরফান বা আর কাউকে চিনি না। তাদের তৈরি করতে হলো একাধিক চেনা মানুষের এটা-ওটা মিলিয়ে। প্লুটোর গ্রহত্বমোচন নিয়ে তখন কিছু হৈ চৈ, আচ্ছা তাকেও ঢুকিয়ে ফেলো। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সময় কম তো বটেই, এদিকে আকৃতি যাতে খুব বড়ো না হয় তা-ও দেখতে হবে। শেষ না হলেও শেষ করে ফেলো। তাই হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই রচনা অসম্পূর্ণ। উপন্যাস তো নয়ই। হয়তো টেনে লম্বা করা একটি বড়োগল্প, অথবা দু’তিনটি গল্প জোড়া দিয়ে একটা পাঠক-ঠকানোর গোঁজামিল। আনোয়ার সাদাত শিমুলকে উদ্ধৃত করে বলা যায় ‘বনসাই উপন্যাস’। কী সর্বনাশ, আমার তৈরি অস্ত্রে আমি নিজে আক্রান্ত – ‘দিয়াশলাই’ সংকলনের কিছু গল্পকে আমি ‘বনসাই গল্প’ বলে চিহ্নিত করেছিলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রশ্ন হলো, লেখাটি সচলায়তনে ধারাবাহিকভাবে কেন পোস্ট করলাম? একটিমাত্র কারণে। লেখাটির মধ্যে সম্পূর্ণ উপন্যাস হয়ে ওঠার একটা সম্ভাবনা আমি দেখতে পাই। পোস্ট করে কিছু পাঠক মতামত পেলে কাজটা সম্পূর্ণ করার বাসনা ছিলো। বিশেষ করে লেখার দুর্বলতার দিকে কেউ কেউ নির্দেশ করবেন ভাবছিলাম। সে উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল যেমন হয়নি, একেবারে ব্যর্থ তা-ও বলা চলে না। টুকরো কিছু মন্তব্য ছাড়াও শেষ পোস্টে আনোয়ার সাদাত শিমুলের নাতিদীর্ঘ আলোচনায় অনেকগুলি জিনিসই সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তার নির্দেশ করা দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণতাগুলি নিয়ে আমার কিছুমাত্র দ্বিমত নেই। বরং সমালোচনাটি আরো তীব্র হতে পারতো, শিমুল ভদ্রতাবশে হয়তো কিছু চেপে গেছে। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে কিছু ছাড়ও হয়তো পেয়ে গেছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘যদি সে ভালো না বাসে’ যাঁরা পড়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন, তাঁদের কাছে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। যাঁরা পড়েননি, তাঁরাও এক অর্থে আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন! সুতরাং ধন্যবাদ তাঁদেরও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------&lt;br /&gt;২৭ এপ্রিল ২০০৮&lt;br /&gt;--------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-7930332969033684133?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/14682' title='ঠিক আত্মপক্ষ সমর্থন নয়'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/7930332969033684133/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=7930332969033684133' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7930332969033684133'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7930332969033684133'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_2471.html' title='ঠিক আত্মপক্ষ সমর্থন নয়'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-4448746846762918900</id><published>2008-05-04T18:20:00.002-05:00</published><updated>2008-05-04T18:22:53.433-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>জাদুস্পর্শ</title><content type='html'>বাবা, কী হয়েছে তোমার বলো তো?&lt;br /&gt;এই তো সামান্য অসুস্থ।&lt;br /&gt;তুমি কিছু লুকাচ্ছো?&lt;br /&gt;না তো, কেন?&lt;br /&gt;আজ চারদিন ধরে দেখছি তুমি বেশিরভাগ সময় ঘুমাচ্ছো, না হয় চুপ করে শুয়ে আছো।&lt;br /&gt;বুকে কফ জমেছে।&lt;br /&gt;তা জানি, কাশি শুনতে পাই। জ্বরও আছে জানি। আর কিছু তো জানতে পারছি না।&lt;br /&gt;একটু আগে ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরেছি, মেয়ে তখন ক্লাসে ছিলো। তাকে বলি না, আর দু’একদিন দেরি হলে আমার নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারতো। অযথা তার উদ্বেগ বাড়িয়ে কাজ কী? বলি, তেমন কিছু না।&lt;br /&gt;তোমাকে এতো লম্বা সময় বিছানায় দেখি না। সত্যি বলো, তুমি কিছু লুকাচ্ছো না!&lt;br /&gt;মিথ্যা করে বলি, সত্যি না। এই যে তুই ছুঁয়ে দিলি, এখন আমি সেরে উঠবো।&lt;br /&gt;মেয়ে, কে জানে কেন, হঠাৎ দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ওঠে।&lt;br /&gt;বলি, এই তোর আবার কী হলো? তোকে বলা হয়নি, কাল আমি সারাদিনে সাতটা সিগারেট খেয়েছি, আজ এ পর্যন্ত দুটো।&lt;br /&gt;চোখ মুছে মেয়ে বলে, তুমি সত্যি বলছো এবার ছাড়বে?&lt;br /&gt;মনে মনে বলি, তোদের জন্যে আমি হয়তো মরতেও পারবো না। আমি এতো দরকারি মানুষ কবে হয়ে উঠলাম? কীভাবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------&lt;br /&gt;২৬ এপ্রিল ২০০৮&lt;br /&gt;------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-4448746846762918900?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/14627' title='জাদুস্পর্শ'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/4448746846762918900/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=4448746846762918900' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/4448746846762918900'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/4448746846762918900'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_7412.html' title='জাদুস্পর্শ'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-178854823175256648</id><published>2008-05-04T18:01:00.002-05:00</published><updated>2008-05-04T18:19:42.372-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>‘দিয়াশলাই’-এর গল্পগুলি : এক পলকে একটু দেখা</title><content type='html'>&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;প্রথমে বন্দনা করি….&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;সচলায়তনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর বর্ষপূর্তি হতে এখনো প্রায় আড়াই মাস বাকি। সে হিসেবে বয়স দশ মাসও হয়নি। এরই মধ্যে শতকরা একশোভাগ নিজস্ব মালমশলা দিয়ে তিন তিনটি প্রকাশনা রীতিমতো গর্ব করার মতো অর্জন তো বটেই। সবগুলি ই-বুক, সচলায়তন যার নাম দিয়েছে বe, হিসেবে ধরছি না, কারণ এগুলির কোনোটা আগেই মুদ্রিত গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত, কোনোটা অসম্পূর্ণ ইত্যাদি। এই তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনার একটি প্রথাগত মুদ্রণ মাধ্যমে, বাকি দুটি আন্তর্জালিক (নাকি অন্তর্জাল? এই সংশয় আমার আজও গেলো না। ইন্টারন্যাশনাল যদি আন্তর্জাতিক হয়, ইন্টারডিপার্টমেন্ট যদি আন্তবিভাগীয় হয়, তাহলে ইন্টারনেট আন্তর্জাল নয় কেন?)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুদ্রিত গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত সংকলনটি এখনো দেখা হয়নি। শুনেছি মুদ্রণঘটিত ও দূরপাল্লার সম্পাদনা সংক্রান্ত কিছু গোলমাল থেকে গেছে। প্রথম ভার্চুয়াল বই আরিফ জেবতিকের সম্পাদনায় &lt;strong&gt;ফেলে আসা ছেলেবেলা&lt;/strong&gt;-ও জন্মেছিলো কিছু ত্রুটি নিয়ে। দুটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ করার উপায় নেই। তবে &lt;strong&gt;দিয়াশলাই&lt;/strong&gt;-এর তিন তরুণ সম্পাদক আগের অসম্পূর্ণতাগুলি সম্পর্কে আগাগোড়া সজাগ ছিলেন তা স্পষ্ট বোঝা যায় এই বইয়ের পরিপাটি সাজসজ্জা দেখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা বিষয় ভেবে মজা লাগে, বিস্ময়ও কম হয় না। সম্পাদক তিনজনের বসত পৃথিবীর তিন মহাদেশে – অমিত আহমেদ উত্তর আমেরিকায়, আনোয়ার সাদাত শিমুল এশিয়ায় এবং কনফুসিয়াস ওরফে মু. নূরুল হাসান অস্ট্রেলিয়ায়। আফ্রিকায় সচল কেউ আছেন কি না আমি নিশ্চিত নই, তবে ইউরোপ থেকেও একজনকে রাখলে মন্দ হতো না। তা এই তিন ভুবনের তিন বাসিন্দা স্থানকালের বিস্তর ব্যবধান সত্ত্বেও প্রযুক্তিকে সম্বল করে এক অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছেন। এখন থেকে দশ বছর আগেও হয়তো তা প্রায়-অসম্ভব ছিলো। অভিনন্দন তাঁদের প্রাপ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;অণুগল্প&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;অণুগল্প কী? তার সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হয়? তার বৈশিষ্ট্য কী? স্পষ্ট কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণ হয়তো সম্ভব নয়। তবে আমি যা বুঝি তা অনেকটা এরকম: পরিসরে অবশ্যই ছোটো, কিন্তু এতে থাকতে হবে পাঠককে সচকিত করে তোলার মতো কিছু একটা। থাকবে তীব্রতা ও তীক্ষ্ণতা। তীরের মতো ঋজু ও লক্ষ্যভেদী। স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে ওঠা কোনো অনুভূতি। কোনো ধোঁয়াশাময় বর্ণনা নয়। হয়তো স্কেচ, কিন্তু স্পষ্ট দাগে আঁকা। অল্প কথায় অনেক কথা বলে যাওয়া, তবে পাঠককে যেন বোঝার আশা জলাঞ্জলি দিতে না হয়। সচলায়তনে নজমুল আলবাব ও সুমন চৌধুরী এই গোত্রের গল্পলেখক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবার অন্যদিকে কোনো একটা লেখা শুধু পড়ে যেতে ভালো লাগছে, মজা লাগছে, লেখক খুব আবছা কোনো বক্তব্য/ইশারা সেখানে মিশিয়ে রেখেছেন, পাঠক লক্ষ্য না করলেও ওই মজা ও পড়তে ভালো লাগার কারণেই তা সার্থক গল্প হয়ে ওঠে। সচলায়তনে এই ঘরানার একজন লেখক আছেন, তিনি সবুজ বাঘ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;অণুগল্প সংকলন ‘দিয়াশলাই’&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;এখন সুদৃশ্য প্রচ্ছদের ওপারে যাওয়া যাক। দিয়াশলাই সংকলনে জায়গা পেয়েছে ৩০ জন লেখকের মোট ৩৫টি গল্প। এর মধ্যে ১টি অনুবাদ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিয়াশলাই সংকলনের গল্পগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে পারি – &lt;strong&gt;পরমাণু&lt;/strong&gt;, &lt;strong&gt;অণু&lt;/strong&gt;, &lt;strong&gt;স্বয়ংসম্পূর্ণ&lt;/strong&gt;, &lt;strong&gt;বনসাই&lt;/strong&gt; এবং &lt;strong&gt;হলো না লো হলো না&lt;/strong&gt;।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="color:#ff0000;"&gt;পরমাণু &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;‘দিয়াশলাই’ সংকলনে বিস্ফোরক শক্তিধর মৌলিক পরমাণু গল্পগুলির লেখক সুমন চৌধুরী ও অলৌকিক হাসান। মোট ৫টি গল্প এই শ্রেণীতে। সম্পাদকরা ৫০০ শব্দে গল্প লিখতে বলেছিলেন, সুমন চৌধুরী সর্বসাকুল্যে ২০৪টি শব্দ খরচ করে (শিরোনামসহ ২০৮) ৪টি গল্প লিখে ফেলেছেন। প্রতিটি গল্পের ভাষা অতিশয় সাদামাটা, অথচ কী উজ্জ্বল, সম্পূর্ণ ও লক্ষ্যভেদী। প্রথম গল্পের নাম &lt;strong&gt;হ&lt;/strong&gt;। স্বরবর্ণের ব্যবহার ছাড়াই ব্যঞ্জনবর্ণের একটিমাত্র অক্ষরে পরমাণু গল্পের পরমাণুসম শিরোনাম। পরমাণুর শেষতম ধাপে, আর ভাঙা যাবে না। সুমনের ৪টি গল্প ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের, তবে প্রথম (&lt;strong&gt;হ&lt;/strong&gt;) ও শেষ গল্প (&lt;strong&gt;বাটোয়ারা&lt;/strong&gt;) দুটিকে অসাধারণ বললেও যথেষ্ট বলা হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৮৭টি শব্দে অলৌকিক হাসান লিখেছেন &lt;strong&gt;পাস ফেল&lt;/strong&gt;। খুব নিটোল সুন্দর একটি গল্প। যথার্থ পরমাণু। একটু যত্নবান হলে শব্দসংখ্যা আরো কমানো যেতো। ছোটো একটি ঘটনা, ছোটো একটি অনুভব – এইটুকুই গল্পের সম্বল, অথচ মনোহর ও চমৎকার। একটি খচখচ করা ত্রুটি। ‘মরার মতো’ বা ‘মরার ঘুম’ ৪ প্যারার এই গল্প ৪ বার ব্যবহার করা হয়েছে ভুল বানানে। শব্দটি ‘মড়ার’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংকলনের একমাত্র অনুবাদ গল্পটিও (&lt;strong&gt;লাভ স্টোরি&lt;/strong&gt;) পরমাণু শ্রেণীভুক্ত। শব্দসংখ্যা ৮০-র নিচে। শুরু থেকে গল্পটিকে এক যুগলের প্রেমের সংলাপ বিনিময় বলে ধারণা হয়, যদিও স্বামী ও স্ত্রী বলে দেওয়া আছে, সেভাবেই সংলাপগুলি পরপর সাজানো। পড়ার সময় কে আর অতো খেয়াল করে। মনে হতে থাকে, অনেক নিষেধ ভেঙে তাদের সম্পর্ক স্বপ্নময় একটি পরিণতির দিকে যাচ্ছে। অথচ শেষের একটিমাত্র বাক্যে জানা যায় তারা যাচ্ছে ডিভোর্সের জন্যে। গল্পের মূল লেখক ম. লিপস্কেরভ। দুর্দান্ত গল্পটির অসাধারণ অনুবাদ করেছেন সংসারে এক সন্ন্যাসী। শিরোনামটিকেও অনুবাদে প্রেমকাহিনী বলা যেতো বোধ করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;অণু &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;অণুগল্প শ্রেণীতে পাচ্ছি ৫টি গল্প। হিমু ওরফে মাহবুব আজাদের ২টি এবং কনফুসিয়াস, আনোয়ার সাদাত শিমুল, নিঘাত তিথি ও মুজিব মেহদীর ১টি করে গল্প।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হিমুর গল্প দুটির নাম &lt;strong&gt;হাতিসোনা&lt;/strong&gt; ও &lt;strong&gt;কপাল&lt;/strong&gt;। হিমুর প্রায় সব রচনাতেই ব্যঙ্গ-পরিহাসের একটা ঝোঁক থাকে। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হাতিসোনা অনেকটা কৌতুকের ছলে বলা হলেও চাপা-পড়া কষ্টও আগাগোড়া টের পাওয়া যায়। ‘হাতিরা ভোলে না’ – গল্পের এই অন্তিম বাক্যে ঠোঁটের কোণে অকস্মাৎ একটা স্মিতহাস্য উঠে আসার উপক্রম হতেই কোথাও একটা টান পড়ে। সে হাসি তখন আর কৌতুকের নয়, তা ফাটা-ঠোঁটে হাসতে যাওয়ার বিড়ম্বনার মতো বোধ হতে থাকে। কপাল-ও একটি নিখুঁত অণুগল্প। তবে ছোটো একটি নালিশ। মোনোপোলি খেলার সঙ্গে যাঁদের পরিচয় নেই, তাঁদের কাছে এই গল্পের কোনো আবেদন থাকবে বলে মনে হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কনফুসিয়াস অথবা মু. নূরুল হাসান গল্পসহ বিবিধ ধরনের গদ্যরচনা করে থাকেন। এই সংকলনে তাঁর &lt;strong&gt;বনসাই&lt;/strong&gt; আমার প্রত্যাশা মেটায় না। গল্পটি সাদামাটা, বর্ণনা ও ভাষায়ও ধারালো লাগলো না। রচনাটি লেখকের শক্তিমত্তার পরিচায়ক নয়, এর চেয়ে অনেক উৎকৃষ্ট গল্প আমরা তাঁর কাছে পেয়েছি। সম্পাদনার ব্যস্ততায় হয়তো গল্পে মনোযোগ দিতে পারলেন না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আনোয়ার সাদাত শিমুলের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় বছরখানেকের কিছু বেশি হবে। লেখক হিসেবে এই নবীন যুবক ক্রমশ অগ্রসরমান। দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে উঠছেন, লেখালেখির পাঠশালায় অক্লান্ত পরিশ্রমী শিক্ষার্থীর মতো মনে হয়, নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার চেষ্টাও দেখা গেছে।&lt;strong&gt; দৈনন্দিন&lt;/strong&gt; শিমুলের এই এগিয়ে যাওয়ার একটি স্মারক হয়ে থাকছে বলে আমার ধারণা। এই গল্পটি বোধহয় কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধা পড়ে না, এটি মানুষের নিজের সঙ্গে লুকোচুরি খেলার চিরকালের গল্প।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিঘাত তিথির &lt;strong&gt;বন্ধু &lt;/strong&gt;গল্পটা ভালো লাগে। সন্ধ্যার মুখে এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ ও বাড়ির কিশোর বয়সী কাজের ছেলেটি কোনো কথা না বলেও কথা বিনিময় করে, এইটুকুই গল্প। আদর্শ অণুগল্প। বর্ণনার অংশে নিঘাত তিথি আরেকটু সতর্ক ও যত্নবান হলে লেখাটির ধার অনেক বেড়ে যেতে পারতো। ‘এখন হাতে থাকা অফুরন্ত সময়ের অধিকাংশই কাটে অলস ভাবনা আর বিগত দিনের দেনা-পাওনার হিসেব কষে।’ – এই ধরনের বাক্য কিন্তু একটু ক্লিশে ও জীর্ণ-প্রাচীন মনে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুজিব মেহদীর &lt;strong&gt;তর্কপ্রগতির জন্য প্রকল্পিত একটি অসমাপ্ত সেমিনারের প্রতিবেদন&lt;/strong&gt; গল্পটি চমৎকার, গতানুগতিক গল্পের অনুগামী নয়। তবে অণুগল্পের নামটি মাইলখানেক দীর্ঘ কেন বোঝা গেলো না। গল্পে কমা ছাড়া অন্য কোনো যতিচিহ্নের ব্যবহার নেই। হয়তো পাঠককে চমকে দেওয়ার চেষ্টা। নাকি এসবের অন্য কোনো ব্যাখ্যা/ব্যঞ্জনা আছে যা আমি ধরতে পারিনি! ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি নিয়েও বলি, সংলাপে ‘মশাই’ শব্দটি কানে লাগে, বড্ড কৃত্রিম শোনায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;&lt;span style="color:#ff0000;"&gt;&lt;strong&gt;স্বয়ংসম্পূর্ণ &lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;অণুগল্প সংকলনের বেশ কয়েকটি রচনা স্বল্প পরিসরেও সম্পূর্ণ গল্প হয়ে উঠেছে। এই গল্পগুলি প্রথাসম্মতভাবে লেখা, আকারে ছোটো বলেই সেগুলিকে অণুগল্প বলে সায় দিতে ইচ্ছে করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবাগিনীর &lt;strong&gt;বাবা আর কাঠগোলাপ গাছ&lt;/strong&gt; একটি সুন্দর মন-ভালো-করা গল্প।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অমিত ওরফে আহমেদ রাহিদ নিয়মিত লেখেন না। তাঁর &lt;strong&gt;এগারোটি রজনীগন্ধা&lt;/strong&gt; পড়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, কেন লেখেন না? মনে হয় গল্পটি ঠিক অণুগল্প হিসেবে লেখার কথা ভাবাই হয়নি। গল্পের অতি দীর্ঘ প্রথম প্যারা অণুগল্পের উপযুক্ত বলে ভাবা মুশকিল। সম্ভবত লেখার চর্চা অনিয়মিত বলেই অমিতের ভাষা ও বর্ণনা কিছুটা আড়ষ্ট। কোনো মিল নেই, কিন্তু এই গল্পটা পড়তে পড়তে হঠাৎ ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা ছবিটার কথা মনে পড়লো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মোহাম্মদ আবদুল মুকিত, যাঁর ব্লগনাম জ্বিনের বাদশা, লিখেছেন &lt;strong&gt;টান&lt;/strong&gt; নামে একটি গল্প। সহজ-সরল ভাষায় লেখা নিটোল ও সম্পূর্ণ গল্প। অণু বা পরমাণূ গল্প হিসেবে এর একটি সম্ভাবনা ছিলো। গল্পের শেষ বাক্য ‘হঠাৎ বাসার কড়াটার কথা খুব করে মনে পড়তে থাকে’ সেই ইঙ্গিতই দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাহবুর লীলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখার ক্ষমতা রাখেন। গল্প-কবিতা ছাড়াও লিখতে পারেন যা-খুশি ও যেমন-খুশি। তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন ছোট্টো পরিসরে লেখা তাঁর পোষায় না। কিন্তু সেখানেও যে উত্তমরূপে পারঙ্গম তিনি, চিঠির আকারে লেখা &lt;strong&gt;তৃষ্ণা&lt;/strong&gt; গল্পটি সেই সাক্ষ্যই দেবে। সম্পাদকদের নির্ধারিত শব্দসংখ্যার মধ্যেই হৃদয়গ্রাহী একটি সম্পূর্ণ গল্প দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। লীলেন প্যারার শেষে কোনো যতিচিহ্ন ব্যবহার করেন না, শুধুমাত্র প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছাড়া। নিশ্চয়ই এর একটা ব্যাখ্যা আমরা কখনো পাবো। এই গল্পের একটি বাক্যে আপত্তি জানিয়ে রাখি। ‘… মরার পরেও আমাকে তুই জেলাস করিস প্লিজ’ বাক্যে ‘জেলাস’ শব্দটিতে ব্যাকরণগত ত্রুটি ঘটে। আমি জানি মুখে বলার সময় এই কথাটি খুবই চালু। কিন্তু জেলাস করা যায় না, হওয়া যায়। এখানে জেলাস-এর বদলে ইংরেজি হলে এনভি লেখা যেতো। অথবা চমৎকার বাংলা শব্দ ঈর্ষা ব্যবহারটা আরো বেশি যুক্তিযুক্ত ও প্রত্যাশিত ছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাশীদ আহমেদ গল্পের নামই দিয়ে রেখেছেন &lt;strong&gt;অণু-পরমাণু&lt;/strong&gt; এবং শুরুতেই লিখছেন, ‘ এই গল্পের কোনো শুরু নেই, শেষও নেই। আবার হতে পারে, এটা কোনো গল্পও না…’। এবং গল্প শেষ করছেন এইভাবে, ‘… ততদিন গল্পটাও চলতে থাকবে। শুধু একেক সময় গল্পটা হবে একটা ল্যাব রিপোর্ট, একটা কনসার্ট, একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া, একটা মুভি বা বই রিভিউ, একটা বিয়ে বা একটা ঝগড়া। এরকম একেকটা অণুগল্প-পরমাণুগল্প নিয়ে চলতে থাকে গোটা জীবনের উপন্যাস।’ সুন্দর সুলিখিত গল্প আগাগোড়া। শুধু শেষ বাক্যটা গল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, একদমই প্রয়োজন ছিলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নজমুল আলবাব যথারীতি একটি দুর্ধর্ষ গল্প লিখেছেন। গল্পের নাম &lt;strong&gt;নিশি-নেশা&lt;/strong&gt;। নামকরণে চমৎকারিত্ব কিছু নেই, কার্যকারণও ঠিক বুঝিনি। তাতে গল্পের কোনো ক্ষতি অবশ্য হয় না, গল্পের সার্থকতা ও আবেদন অক্ষুণ্ণ থাকে। ছোটো ছোটো বাক্যের প্রায় নৈর্ব্যক্তিক বিবরণে গল্পের উন্মোচন ঘটান লেখক। গল্প শুরু হচ্ছে এইভাবে: ‘কবির তড়পাচ্ছে। কানের পাশ থেকে একটা ধারা গড়িয়ে যাচ্ছে দ্রুত। চিৎ হয়ে পড়ায় হাত দুটো ছড়িয়ে আছে। সিগারেটটা ছিটকে যায়নি। কানের পাশ থেকে যাওয়া রক্তের ধারা সিগারেট নিভিয়ে দিল। কবির আমার দিকে তখনও তাকিয়ে আছে। চোখে অবিশ্বাস। আসলে এভাবে কথা ছিল না। আমরা আজ অন্য প্ল্যান নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কবির নিজেই গোলমালটা লাগিয়ে দিল। আর এখন তড়পাচ্ছে। সে না তড়পালে হয়তো আমি তড়পাতাম। কিংবা বাদল নিজের রক্তে গড়াগড়ি খেত এতক্ষণে।’ এই বিবরণ পড়ে পাঠক হিসেবে এক অনিবার্য ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে পড়ে যাই। প্রায় দম বন্ধ করে এগিয়ে যেতে হয়। রক্তের ধারায় সিগারেট নিভে যাওয়ার ছবিটি মাথায় গেঁথে থাকে। তিন ছিনতাইকারীর একজন কবির তাদের উদ্দিষ্ট শিকারটিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ শিকার লোকটি খুঁড়িয়ে হাঁটে, সে মুক্তিযোদ্ধা ছিলো এবং যুদ্ধে আহত। কবির নিজেও এক মুক্তিযোদ্ধার পুত্র। শিকারকে পালাতে দিয়ে সে সঙ্গী একজনের (গল্পের আমি) হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। ‘… কবির উদ্দিনের লাশটা কানাগলির শেষপ্রান্তের মাঠে পড়ে থাকে। অন্ধকারে।’ নজমুল আলবাবের গল্পটি আক্রান্ত করে, পড়ার পর অনেকক্ষণ থম ধরে বসে থাকতে হয় আমাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অমিত আহমেদের গল্পের নাম &lt;strong&gt;অবশেষে অরিন্দম…&lt;/strong&gt;। অল্প পরিসরেই লেখাটি প্রথাসম্মত সম্পূর্ণ গল্প হয়ে উঠেছে। অণুগল্পের টান টান ব্যাপারটি অনুপস্থিত, যদিও সম্ভাবনা ও সুযোগ বিদ্যমান ছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;মায়িশার আম্মার সাথে দায়িত্বশীল দুপুর&lt;/strong&gt; হাসান মোরশেদের গল্প। ঘটনা বর্ণনায় ও পরিস্থিতি তৈরিতে হাসান মোরশেদ বরাবরই দক্ষ। বক্তব্যেও তীক্ষ্ণ। এই গল্পটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু এই গল্পে মায়িশার আম্মা ঠিক কীসের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলছে তা অস্পষ্ট। আর ‘প্যালেস্টাইনে মরেছে আরো কয়েক ডজন, দারফুরে শিশুর চেয়ে শকুনের পুষ্টি বেশি, বাংলাদেশে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর নিরন্নের মিছিল। কোন হারামজাদা যেনো উপদেশ দিলো ভাতের বদলে বিষ খেতে।’ লাইনগুলি লেখকের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ যতোটা তুলে আনে, গল্প হিসেবে লেখাটি ঠিক ততোটুকুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতন্দ্র প্রহরী বা শাহরিয়ার মামুনের &lt;strong&gt;ট্রাফিক সিগন্যালে একদিন&lt;/strong&gt; প্রতিদিনের জীবন থেকে তুলে আনা এক টুকরো গল্প। প্রহরীকে গল্পের বর্ণনা ও ভাষা ব্যবহারে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেওয়া যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শোহেইল মতাহির চৌধুরী কোনো এক ব্লগপোস্টে নিজেই বলেছিলেন, জীবনে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র গল্প লিখেছেন তিনি। অমিতকে যে প্রশ্নটা আগে করেছি, এখন শোমচৌকেও একই প্রশ্ন করা দরকার: কেন? কী কারণে গল্প লেখেন না আপনি? সংকলনে &lt;strong&gt;অস্তিত্বের অন্ধকার&lt;/strong&gt; পড়ে ধারণা জন্মায়, এই লেখক লেখেন অতি স্বচ্ছন্দে, স্বতস্ফূর্তভাবে। এই গল্প সম্পর্কে আমার অনুভূতি ও প্রশ্নগুলি হাসান মোরশেদ আলাদা একটি পোস্টে করে ফেলেছেন। সেগুলির পুনরুক্তি আর করার দরকার নেই। তবে এতো অল্প শব্দ খরচ করে একটি সম্পূর্ণ গল্প লেখার কৌশলটা আমাকে এবার শিখতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই শ্রেণীভুক্ত সর্বশেষ দুটি রচনা আসলে কল্পগল্প। সবজান্তা নামের আড়ালের জ্যোতির্ময় বনিক লিখেছেন &lt;strong&gt;প্রাগৈতিহাসিক&lt;/strong&gt; এবং লুৎফুল আরেফীনের গল্পের নাম &lt;strong&gt;আফসোস&lt;/strong&gt;। দুঃখের সঙ্গে বলি, কল্পগল্পের ভোক্তা হওয়ার যোগ্যতা আমার অর্জন করা হয়নি বলে কোনো মন্তব্য করছি না। তবে দুটি গল্পই পড়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;বনসাই&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;যে গল্পগুলিকে আমি এই শ্রেণীভুক্ত করেছি, আমার বিচারে সেগুলির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটতে দেওয়া হয়নি। অণুগল্প সংকলনের ৫০০ শব্দের বাধ্যবাধকতায় এই লেখাগুলি আটকা পড়ে গেছে। ডালপালা ছেঁটে ফেলা অবস্থায় কৃত্রিম আকৃতিতে সম্পূর্ণতা খুঁজছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শেখ জলিলের&lt;strong&gt; ক্লিনিক্যাল ডেথ&lt;/strong&gt; গল্পটি আরেকটু বিস্তার অবশ্যই দাবি করে। পড়তে পড়তে মনে হয়, লেখাটা যেন লাফিয়ে লাফিয়ে সামনে-পেছনে যাওয়া-আসা করছে। শেখ জলিল মূলত কবি হলেও গদ্য লেখার সময় তিনি বিশুদ্ধ গদ্যই লেখেন, কবিতাক্রান্ত গদ্যরচনা করেন না। এখানেই গদ্যলেখক হিসেবে তাঁর শক্তির পরিচয়। তৃতীয় প্যারায় ‘ঘুমের মধ্যে মা স্ট্রোক করেছেন’ বাক্যটিতে আপত্তি জানিয়ে রাখি। রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, রোগী স্ট্রোক করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফকির ইলিয়াসের &lt;strong&gt;পলাতক গদ্যগ্রহ&lt;/strong&gt; লেখাটিতে ঘটনার পরম্পরা বুঝতে সমস্যা হয়। কারণ সম্ভবত ঐ অণুগল্পের আকৃতিগত কাঠামোর ভেতরে রাখার সচেতন চেষ্টা। হায়, সুন্দর মনোগ্রাহী একটি কাহিনী থাকা সত্ত্বেও গল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে গেলো। ‘আরেকটি পলাতক গদ্যগ্রহ দুজনের পাশ ঘেঁষে পৃথিবীর প্রান্ত ছুঁয়ে যায়’ – গল্পের এই শেষ বাক্যটি বুঝিনি। পলাতক গদ্যগ্রহ কথাটির মানে কি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খেকশিয়াল ওরফে কৌশিক দে লিখেছেন &lt;strong&gt;তেপান্তর&lt;/strong&gt;। সম্ভাবনা ছিলো, তার পূর্ণতার জন্যে লেখায় আরো অনেক বিস্তার ঘটানো দরকার ছিলো, শৃঙ্খলাবদ্ধ বর্ণনা ও সুসংবদ্ধ ভাবনার স্ফূরণ আবশ্যক ছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;মেহেদি রাঙা হাত&lt;/strong&gt; গল্পের লেখক ধুসর গোধূলি। এই লেখা পড়ে ধারণা হয়, ব্যস্ত ব্লগার গল্প রচনায় বেশি সময় ব্যয় করতে নারাজ। তাঁর অবলোকনে অনেক খুঁটিনাটি ধরা পড়ে, এই গল্পের ছোটো পরিসরেও তার নমুনা আছে। কিন্তু গল্পটা কোনোমতে শেষ করতে পারলেই যেন বাঁচেন। এতো তাড়া কীসের? বর্ণনা ও ভাষা ব্যবহারে কিছুটা প্রাচীনতার গন্ধ। তার নমুনা শুরুর বাক্যটিতেই আছে – ‘বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে …’। ২০০৮ সালের একজন নবীন লেখকের কাছে আরো টাটকা ও অশ্রুতপূর্ব বর্ণনা আশা করি আমি। আর কিছু না হলেও অন্তত ক্লিশেবর্জিত হওয়া তো দরকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;দ্বিধা&lt;/strong&gt; গল্পে ঝরাপাতা/অভ্রপথিক সুন্দর একটা বিষয় নিয়েছেন, তবু শেষ পর্যন্তা তা বনসাই গল্প হয়েই থেকে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গল্পের নাম &lt;strong&gt;বাথটাবে একা&lt;/strong&gt;। লেখকের নাম জাহিদ হোসেন। এই লেখক কিছু গল্পে ইতোমধ্যে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর শক্তিমত্তা। এই রচনায়ও তার পরিচয় আছে। কিন্তু অণুগল্পের দাবি মেটাতে গিয়ে গল্পটি ফুটে উঠতে পারলো না। ‘সেই কখন থেকে হাতের শিরা কেটে বসে আছি বাথটাবে…’ অতিনাটকীয় লাগে। যেমন লাগে মিঠুর আত্মহত্যাও। চরিত্র দুটিকে ফুটে ওঠার সময় ও জায়গা দেওয়া গেলে এরকম বোধ হতো না বলে আমার বিশ্বাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিঝুমের গল্পের নাম &lt;strong&gt;পুনশ্চঃ&lt;/strong&gt;। দুটি দীর্ঘ প্যারা এবং পুনশ্চ পর্ব দিয়ে গল্পটি গল্পের আকৃতি নির্মাণ হয়েছে। গুনে দেখিনি, তবে নির্ধারিত ৫০০ শব্দই খরচ হয়ে গেছে বলে ধারণা করি। প্রথম প্যারা দুটি পড়ে আমার এই বিশ্বাসই পোক্ত হয় যে প্রচুর কাটছাঁট করা হয়েছে অথবা স্থান সংকুলান করতে না পেরে লেখক কোনোমতে গল্প শেষ করেছেন। দ্বিতীয় দীর্ঘ প্যারার শেষের কয়েকটি লাইন খাপছাড়াও লাগলো। নিঝুম লেখা বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছেন, তাঁর উত্তরণের নমুনাও সচলে দেখা গেছে, কিন্তু এই গল্পে তাঁর নবলব্ধ সচেতনতা ও ক্ষমতা অব্যবহৃত দেখলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;হলো না লো হলো না&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;আকাশ অবশ্যই সূর্যের চেয়ে বড়&lt;/strong&gt; গৌতম রায়ের গল্প। গল্পটি ঠিক কী বিষয়ে এবং গল্পটি কেন গল্প তা বুঝতে ব্যর্থ হলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইশতিয়াক রউফের &lt;strong&gt;দুই পাহাড়&lt;/strong&gt; স্বগত সংলাপ হিসেবে পড়তে ভালো লাগে। টানা গদ্যে লেখা কবিতা বললেও বলা যায়, এতোটাই সুখপাঠ্য। একটি সুন্দর ভাষাভঙ্গি তাঁর আয়ত্ত্বে। কিন্তু এই লেখাটা ঠিক গল্প হলো কি? গল্প আরো একটু স্পষ্টতা দাবি করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরিবর্তনশীল অথবা মহিবুল কবির সাম্প্রতিককালে তাঁর গল্প লেখার ক্ষমতা দেখিয়েছেন সচলায়তনে। নেই-বিষয় নিয়েও তিনি গল্প লিখতে জানেন। এই সংকলনে তাঁর &lt;strong&gt;লাল-সবুজ মেশানো শাড়ির গল্প&lt;/strong&gt; তাঁর সেই সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এই রচনাটি সচলে ব্লগরব্লগর হিসেবে বেশ ভালো হয়। এরকম একটি গুরুগম্ভীর বিষয় অণুগল্পের জন্যে উপযুক্ত হয় না তা বলি না, কিন্তু তাকে সফল গল্প করার জন্যে এই নবীন লেখকের আরো প্রস্তুতি দরকার বলে মনে হয়। আবেগ গল্প রচনার একটি উপাদান বটে, কিন্তু একমাত্র উপাদান নয়। এই লেখায় আবেগটি উপস্থিত, কিন্তু গল্পের আর সব উপকরণ কোথায়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;পথে&lt;/strong&gt; শিরোনামে মুজিব মেহদীর অপর রচনাটি কবিতাক্রান্ত গদ্যরচনা। গল্প কি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style="font-size:130%;color:#ff0000;"&gt;সর্বশেষ&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;একটি কথাই বলার। আমার অকপট বিরূপ মন্তব্য কাউকে আহত করার জন্যে নয়, বরং দুর্বলতাগুলি বিষয়ে একটু সচেতন করার চেষ্টামাত্র – এইটুকু বিশ্বাস করলে খুশি হই। মঙ্গল হোক সবার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-------------------&lt;br /&gt;২০ এপ্রিল ২০০৮&lt;br /&gt;-------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-178854823175256648?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/14449' title='‘দিয়াশলাই’-এর গল্পগুলি : এক পলকে একটু দেখা'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/178854823175256648/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=178854823175256648' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/178854823175256648'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/178854823175256648'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_9281.html' title='‘দিয়াশলাই’-এর গল্পগুলি : এক পলকে একটু দেখা'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6158762747474735650</id><published>2008-05-04T17:57:00.000-05:00</published><updated>2008-05-04T17:58:33.210-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>ভাত বনাম আলু অথবা অন্যকিছু</title><content type='html'>মনে পড়ে, ১৯৭৪-এ দুর্ভিক্ষ যখন আসছে সেই সময়ও বিকল্প খাদ্যাভ্যাস হিসেবে একবেলা রুটি বা আলুর কথা বলা হয়েছিলো সরকারি তরফে। তার প্রতিক্রিয়া এখন যা হচ্ছে তার চেয়েও অনেক তীব্র হয়েছিলো তখন। কারণ ছিলো প্রধানত দুটি। এক, স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তান আমলের চেয়ে শস্তায় চাল পাওয়া যাবে – মানুষের এই প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি বাস্তব কারণেই এবং তা হতাশার কারণ ঘটিয়েছিলো। দুই, সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা এখনকার চেয়েও অনেক গুণে খারাপ ছিলো এবং বিকল্প উপার্জনের উপায়ও সুলভ না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘকাল ধরে ভাত-নির্ভরতা কমানোর পক্ষে। ১৯৭৭-৭৮ থেকে আমি সচরাচর দিনে একবেলার বেশি ভাত খাই না, এমনকি ভাত ছাড়াও কয়েক সপ্তাহ দিব্যি থাকতে পারি কোনোরকম শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি ছাড়াই। দেশে থাকাকালে আমার এই কিঞ্চিৎ অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বন্ধুবান্ধবের অনেক ঠাট্টাও হজম করতে হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন প্রশ্ন হলো, সেই ৭৪-এ আমাদের একটা নিদারুণ অভিজ্ঞতা হলো, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল হিসেবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনেক উত্থান-পতন ঘটলো। বন্যা ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি আগের মতোই নিয়মিত বিরতিতে হতে থাকলো। অথচ আমাদের রাষ্ট্রের শাসক বা সমাজের নেতারা নির্বাক ও নিশ্চল হয়ে থাকলেন। ৭৪ এবং তৎপরবর্তীকালের ঘটনাবলি থেকে বিন্দুমাত্র শিক্ষা নিলেও বিকল্প খাদ্যাভ্যাস তৈরিতে মানুষকে উদ্দুদ্ধ ও অভ্যস্ত করে তোলা অসম্ভব ছিলো বলে আমি মনে করি না। পরিবার পরিকল্পনার মতো দুরূহ কর্মসূচিতেও প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের সাফল্য বেশি – এটাও তো বাস্তব। সুতরাং একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে ভাতের ওপর আমাদের নির্ভরতা অর্ধেক না হোক, সিকিভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। বিকল্প হিসেবে গম বা আলু বা ভুট্টা অথবা অন্যকিছু চিন্তা করা যেতো। ভাতের বদলে আলু বা রুটি খাওয়া দোষের হবে কেন? আজকের কাগজে দেখলাম, ভুট্টার রুটি খাওয়ার সংবাদ এসেছে। এটা সংবাদ হওয়ার কথা ছিলো না। ভুট্টার রুটি অনেক দেশে খাদ্য হিসেবে রীতিমতো প্রচলিত এবং পুষ্টিগুণে তা ভাতের তুলনায় কিছুমাত্র নিচে নয়। মেক্সিকো মোটেই কোনো ধনী দেশ নয়, সে দেশের মানুষ নিয়মিত ভাত খায় এবং পাশাপাশি গমের ও ভুট্টার রুটিও চলে। সে দেশের জলবায়ু আমাদের দেশের মতোই এবং মানুষজনের আকার-আকৃতি-গাত্রবর্ণ আমাদেরই মতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সত্য বটে, আমাদের দেশে এখন উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা আমাদের বাৎসরিক দুঃখের পার্বণের মতো আসে তা ঠেকানোর কী ব্যবস্থা আছে? সুতরাং ধানের মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হলো তো সর্বনাশ। এই অবস্থা বদলানোর চেষ্টাও সত্যিকার অর্থে কিছু হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ, আমাদের সাধারণ প্রবণতাই হলো, সমস্যা হলে কোনোমতে ধামাচাপা দাও, অথবা দাঁতে দাঁত চেপে বসে থাকো, সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে। সত্যি সত্যি গেছেও তো। নাহলে আমরা এতোকাল এভাবে টিকে আছি কীভাবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, চালের দামের ওপর সরকারের স্থায়িত্ব বা জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনযোগ্যতা নির্ভর করে। নির্বাচিত-অনির্বাচিত অথবা জবরদখলকারী বা ছদ্মবেশী ক্ষমতাবানরা তবু এদিকে মনোযোগ দিলেন না কেন? বিকল্প খাদ্যাভ্যাসের জন্যে একটা সামাজিক আন্দোলনও হতে পারতো। হয়নি। আমরা ভাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারিনি। এর আংশিক কারণও সম্ভবত ঐ ৭৪-এই সন্ধান করতে হবে। দুইবেলা ভাতের বদলে একবেলা করে রুটি খাওয়ার বা বিকল্প হিসেবে আলুতে অভ্যস্ত হওয়ার কথা বলে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার বিষম বেকায়দায় পড়েছিলো। সেই ঝুঁকি তাহলে নেওয়া কেন? এখনকার সেনাপ্রধান আলুর কথা বলে বেড়াতে পারছেন, কারণ তাঁর নির্বাচিত হওয়ার দায় নেই, এমনিতেই সব হাতের মুঠোয়। স্মরণ করা দরকার, খোলা বাজারে যখন চাল ৪৫ টাকা তখনো কেউ কেউ ১.২৫ দরে চাল পাবে, শেখ মুজিব এই ধরনের ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন বলে চরম মূল্যও তাঁকে দিতে হয়েছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু বাস্তবতা মানতে হবে। প্রকৃতিকে যেহেতু আমরা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখি না, ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুর্ভোগ কমানোর জন্যে খাদ্যাভ্যাস বদলের কথা আমাদের ভাবা দরকার। জন্ম-জন্মান্তরের অভ্যাস বদলানো সহজ নয়, সে কথা মনে রাখছি। তবু বলি, দুর্দিনে মানুষ শাকপাতা খেয়েও জীবনধারণ করে। ভাত না হলে বিকল্প হিসেবে আলু বা ভুট্টায় অভ্যস্ত হওয়া কী খুব দুরূহ? অন্তত অনাহারে থাকার চেয়ে তো ভালো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------&lt;br /&gt;১০ এপ্রিল ২০০৮&lt;br /&gt;------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6158762747474735650?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/14100' title='ভাত বনাম আলু অথবা অন্যকিছু'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6158762747474735650/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6158762747474735650' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6158762747474735650'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6158762747474735650'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_1153.html' title='ভাত বনাম আলু অথবা অন্যকিছু'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-5579226516918143362</id><published>2008-05-04T17:51:00.001-05:00</published><updated>2008-05-04T17:55:53.831-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>রাবাব-প্রজন্মের কাছে</title><content type='html'>বোন আমার, অকিঞ্চিৎকর মানুষ আমি, জানি না আমার প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য কি না। কারণ, আমার প্রজন্মের প্রকৃত চেহারা-চরিত্র আসলে কীরকম? বিচিত্র মুখ ও মুখোশ আমরা বিভিন্ন সময়ে ধারণ করেছি। কখনো আমরা অকুতোভয় সংগ্রামী, সন্তের মতো সর্বস্বত্যাগী, জীবনের মায়া না করা যোদ্ধা। অথচ এই আমরাই যখন আত্মকলহে লিপ্ত হয়ে কামড়াকামড়ি করতে শুরু করেছি এবং নাছোড়বান্দা কুকুরের মতো পরস্পরকে দংশেছি, তখন আমাদের আরেক চেহারা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭১-এ পৃথিবী দেখেছ আমরা কী ক্ষমতা ধারণ করি। পরাশক্তির রক্তচক্ষু এবং বিশাল সংগঠিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়ার ইতিহাস আমাদের। স্বপ্ন ছিলো একটি স্বাধীন দেশের, তা পেয়েছিলাম। আমাদের জানা ছিলো, স্বাধীনতার পরে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে থাকার, দরকার অফুরান মমতা ও ভালোবাসার। অথচ ঠিক তখনই আমরা বিচ্ছিন্ন হয়েছি পরস্পর থেকে, যুদ্ধের দুঃসময়ে যাকে ভাই বলে আপন জ্ঞান করেছিলাম, মুক্ত স্বদেশে তার বুকে বন্দুক তাক করেছি। নিজেদের মধ্যে কলহ-বিবাদ করে শক্তি ক্ষয় করে ফেলেছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একখণ্ড মাংস নিয়ে দুই কুকুর যখন বিবাদে লিপ্ত হয়, চতুর শেয়াল ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে মাংসের দখল নিয়ে ফেলে। আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এইভাবে আমাদের স্বপ্নগুলি চুরি হয়ে গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ যখন তোমাকে তোমার প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে যাই, নিজেকে তুমি হতাশাবাদী বলে নিজেকে পরিচিত করো। কষ্টে আমার বুক ভেঙে যায়। আমার প্রজন্মের দিকে তোমার অভিযোগের আঙুল তোলার কথা। তোলোনি, সেটা তোমার মহানুভবতা, আমার সান্ত্বনা নয়। আমরা নিজেদের স্বপ্নগুলি খুইয়ে তোমাদের জন্যেও যে এক ভয়াবহ শূন্যতা ও হতাশার ব্যবস্থাপত্র তুলে দিচ্ছি, তা-ও আমরা বুঝতে অক্ষম ছিলাম। তোমাকে কোনো আশার কথা শোনাবো, সে মুখ আমার নেই, সাধ্যও নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুমি তোমার লেখায় হতাশার কথা বলেছো। তবু বলি, আশাবাদ না থাকলে হতাশা আসা সম্ভব নয়। সেই আশাটাকে বাঁচিয়ে রাখো। আমাদের এই দেশে এখনো সূর্য ওঠে, পূর্ণিমার রাত আসে, মা এখনো তোমার অপেক্ষায় থাকে। আমাদের দিয়ে যা হয়নি, তা তোমাদের দিয়ে হোক। নিজেদের তোমরা প্রস্তুত করে নাও। জয় হোক তোমাদের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর আমাদের ব্যর্থতাকে ক্ষমা করে দিও, যদি পারো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------&lt;br /&gt;২৭ মার্চ ২০০৮&lt;br /&gt;------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-5579226516918143362?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/13677' title='রাবাব-প্রজন্মের কাছে'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/5579226516918143362/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=5579226516918143362' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5579226516918143362'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/5579226516918143362'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_918.html' title='রাবাব-প্রজন্মের কাছে'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6962368356975019712</id><published>2008-05-04T17:34:00.001-05:00</published><updated>2008-05-04T17:51:06.990-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>দেশটি যে আমার!</title><content type='html'>… দেশের সংবাদের জন্যে এতো যে আগ্রহ, অধীরতা আমার, অনেকটা হয়তো নেশাগ্রস্তের মতো, কিন্তু কী দেখবো বলে আশা করি প্রতিদিন? স্পষ্ট কোনো উত্তর জানা নেই। ঘটনা-দুর্ঘটনা, হানাহানি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিপুল বিস্তার আর হতাশার খবরে ভরে থাকে কাগজ। দৈনিক দুঃসংবাদ নামে একটি কাগজ থাকলে খুব উপযুক্ত হতো বলে মনে হয়। কাগজে আর থাকে রাজনৈতিক ক্ষুদ্রতা ও অদূরদর্শিতার লজ্জাহীন বিস্তারের সংবাদ – দেশ নয়, দেশের মানুষ নয়, তাদের ভালোমন্দে কিছু এসে যায়না, আমি এবং আমার দলই একমাত্র বিবেচ্য। এইসব দেখে দেখে ভারি ক্লান্ত লাগে, বিষাদে মন ভরে যায়। কখনো এমনও মনে হয়, প্রতিদিন একই খবর পড়ছি। ভাবি, কী হবে আর দেখে, একদিনের কাগজ দেখলে সারা বছরের খবর পাওয়া হয়ে যায়। অথচ পরেরদিন নির্ধারিত সময়ে আবার ইন্টারনেটে না গিয়ে উপায় থাকে না আমার – মনে হতে থাকে আজই হয়তো অন্যরকম কোনো একটি সংবাদ দেখবো। আমার দেশে নতুন ও সুন্দর কিছু একটা ঘটে যাবে আর আমি যথাসময়ে সে সংবাদটি জানতে পারবো না, তাই হয়! বাস্তব এই যে বাস্তবে কিছুই ঘটে না, সুসংবাদের অপেক্ষায় দিনের পর দিন চলে যায়, তবু আমার আশা মরে না। অন্তিম বিচারে আশা নিয়েই হয়তো মানুষ বেঁচে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;… তোমার এবং আমার স্মৃতিমন্থন করার কারণও কিছু আছে! সেদিন আমাদের প্রাণে অর্জনের অহংকার ছিলো, দুই চোখ ভরা স্বপ্নের দ্যুতি ও বিস্তৃতি ছিলো। আকাশতুল্য অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে আমরা টগবগ তখন করছি, আমাদের সামনে কী আলোকময় অলৌকিক একটি ভবিষ্যৎ!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই দিনে আজ সুদূর মনে হওয়া অনতিদূরের সেইসব কথা কি আমাদের স্মরণে আসবে না? মাঝখানের বছরগুলোকে ভাবলে ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার কথা আসবে, তা-ও নিশ্চিত। বিস্মৃত হতে আমরা প্রায়শ সচ্ছন্দ, হয়তো এই বিস্মৃতি না ঘটলে আমাদের দুঃখ-হতাশার আর শেষ থাকতো না, সর্বনাশে সম্পূর্ণ নিমজ্জন অমোচনীয়ভাবে ঘটে যেতে পারতো। তবু এই দিনটিকে স্মরণ না করে আমাদের উপায় নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ আমাদের সেইসব স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সবই ভুল ও ব্যর্থ হয়ে গেছে বলে মনে হয়। বস্তুত আমাদের ব্যর্থ স্বপ্নের গল্প অগণন। এতোদিন হয়ে গেলো, তবু কিছু অর্জনের গরিমা নেই আমার দেশের, অর্থ-বিত্তের অহংকার নেই। আছে যতোটুকু, নেই তার থেকে ঢের বেশি। দারিদ্র্য নামে যা আছে অপরিমেয়, তাকে লোকে ভালো চোখে দেখে না, অভাবীদের গৌরব যদি কিছু থাকেও, নিত্যদিনের ক্লিন্নতার আড়ালে তা অনায়াসে ঢাকা পড়ে যায়। তা-ও সহনীয় হতে পারতো, কিন্তু আমার দেশ জগতের সেরা হয় দৈনন্দিন অসততা ও অসদুপায়ের জন্যে। রাজনৈতিক কোলাহলে সে সারা পৃথিবীর নিন্দা কুড়ায়। রাষ্ট্রপ্রধান হত্যায় আমাদের দক্ষতা একসময় রাষ্ট্র হয়ে যায় বিশ্বময়। নিত্যদিনের খুনখারাবিতে মানুষের জীবনই সর্বাপেক্ষা শস্তা ও সুলভ পণ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়। ক্ষমতাধররা লোভ ও নির্লজ্জতার নতুন নতুন শীর্ষ আবিষ্কার করে এবং সেই শীর্ষে তাদের আরোহণপর্বটি ঘটে সাড়ম্বরে, অকম্পিত ও অপরিবর্তিত মুখে। মানুষের কোনো কীর্তি বা সাফল্য নয়, বন্যায়-মহামারীতে-দুর্ভিক্ষে বছর-বছর পৃথিবীর তাবৎ সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় আমার দেশ। এতো যে নেই নেই, পর্বতপ্রমাণ আমাদের অক্ষমতা ও ব্যর্থতা, স্বপ্নভঙ্গের বিষাদ – তারপরেও মুখ ফুটে ভালোবাসার কথা বলা কি মানায়! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তবু এই রুগ্ণ করুণ অসহায়, ক্ষুদ্র ভুখণ্ডটির জন্যে অতি উচ্চ একটি গৌরবস্তম্ভ ও শর্তহীন ভালোবাসা নিজের ভেতরে যত্নে লুকিয়ে রাখি। দেশটি যে আমার!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------&lt;br /&gt;২৬ মার্চ ২০০৮&lt;br /&gt;------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6962368356975019712?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/13655' title='দেশটি যে আমার!'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6962368356975019712/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6962368356975019712' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6962368356975019712'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6962368356975019712'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_7351.html' title='দেশটি যে আমার!'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-7446634277798989051</id><published>2008-05-04T17:26:00.002-05:00</published><updated>2008-05-04T17:34:44.511-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সিকি-আধুলি গদ্যগুলি'/><title type='text'>আমার গল্পের কিছু তাদের দিয়ে যাই</title><content type='html'>সপ্তাহের সমস্ত কাজ ও কর্তব্য সমাপন হলো। শনিবার রাতে কমপিউটারের সামনে বসেছি লেখালেখি করার বাসনায়। সচলায়তনে শুরু করা ‘আমাদের বাতিঘরগুলি ও আসন্ন দিন’ সিরিজটা এগোচ্ছে না, আরেকটা পর্ব আজ লিখতে হবে। ইমেল, ঢাকার দৈনিক দেখা শেষ, মধ্যরাতের কিছু পরে লেখা খুলে বসেছি। হঠাৎ মেয়ে আসে আমার ঘরে। সন্ধ্যায় সে গিয়েছিলো তার প্যালেস্টাইনি বান্ধবীর বাসায়। সেখানে আল জাজিরা চ্যানেলে সে দেখে এসেছে ইজরায়েলি সৈন্যরা কীভাবে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে নিরস্ত্র প্যালেস্টাইনিদের খুন করছে। ক্ষুব্ধ অসহায় গলায় আমাকে সে জিজ্ঞেস করে, এইসব আমেরিকার টিভি চ্যানেলগুলিতে দেখায় না কেন? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার ইচ্ছে ওই ভিডিও ফুটেজগুলি একত্রিত করে সে সিএনএনসহ অন্যসব সংবাদ-চ্যানেলগুলিতে পাঠিয়ে দেবে প্রচার করার অনুরোধসহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হায়, আঠারো বছর বয়সে এইসব চিন্তা করা সম্ভব। পৃথিবীতে যাবতীয় শুভবোধ এখনো জাগ্রত এবং তার অনুরোধে পুঁজিস্বার্থের প্রতিভূরা যা করছে তা আর করবে না এবং শুধরে নেবে তাদের পাপগুলি! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার সমান বয়সে আমরা অবশ্য অনেককিছু জেনে গিয়েছিলাম। ততোদিনে আমাদের প্রজন্ম প্রত্যক্ষ যুদ্ধ দেখে ফেলেছে, যুদ্ধের নখরাঘাতে মানুষের জীবন ও আশা-আকাঙ্খা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে দেখেছে, চোখের সামনে সারি সারি নিরপরাধ মানুষের রক্তাক্ত শরীর অবলোকন করেছে, সপ্তম নৌবহর ও নিক্সন-কিসিঞ্জার জেনে ফেলেছে। মেয়েকে এখন আমি কী বলি? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বোঝার বয়স মেয়ের হয়েছে। পুঁজি ও ক্ষমতার স্বার্থের সম্পর্ক ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে জানাই, এইসব পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা ব্যক্তিমানুষের আসলে নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়ে বলে, তাই বলে যা চলছে তার প্রতিবাদ হবে না? যা চলছে চলুক আমার কিছু এসে যায় না জাতীয় মানসিকতার মানুষ আমি হতে চাই না। কিছু একটা করতে চাই। টিভিতে দেখা ছবিগুলি আমার চোখে এখনো ভাসছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের কথা চলতে থাকে। কীভাবে কখন প্রসঙ্গ পাল্টায়, মেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জানতে চায়। মনে মনে ভাবি, এখন মার্চ, এখনই তো উপযুক্ত সময়। কথা বলতে বলতে সচলায়তনে উঁকি দিয়ে দেখি, শহীদ মিনারের ব্যানার পাল্টে দিয়েছে অরূপ, এখন সেখানে স্বাধীনতার মাসের ব্যানার উঠেছে – তোমাকে পাবার জন্য হে স্বাধীনতা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়েকে বলি, সে অনেক লম্বা গল্প। আজ অনেক রাত হয়ে গেছে, এখন তুই ঘুমাতে যা। পরে একসময় হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সে এখনই শুনতে চায়। আমি আপত্তি করার কে! এই বিষয় নিয়ে জীবনভর বকবক করতেও ইচ্ছুক আমি। কথা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে দেখি গুটি গুটি পায়ে দশ বছরের ছেলেটিও তার ঘর থেকে উঠে এসে বসছে। আমাদের কথায় তার ঘুম ভেঙে গেছে, এই গল্প সে-ও শুনতে চায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি বলে যাই আমাদের কালের কাহিনী। ৪৭-এর দেশভাগ, বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভক্তি, ভাষা আন্দোলন, ৬৫-র যুদ্ধ, শেখ মুজিব ও ৬ দফা, ৬৯-এর গণ-আন্দোলন, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১। তারা ক্রমাগত প্রশ্ন করে, আমি সাধ্যমতো বলে যাই তাদের বোঝার সামর্থ্য অনুযায়ী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের কথাও একসময় উঠে আসে। মেয়ে আচমকা জিজ্ঞস করে, তোমরা শেখ মুজিবকে খুন করলে কেন? কী করে পারলে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই প্রশ্ন অনন্তকালের। উত্তর কি আমার জানা আছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কথা শেষ হলে ঘড়িতে দেখি রাত সাড়ে তিনটা। ছেলেমেয়েকে বিছানায় পাঠিয়ে দিয়ে মনে হয়, লেখালেখি আজ আর হলো না। টের পাই, সে জন্যে আমার একটুও অনুশোচনা বা দুঃখবোধ হচ্ছে না। তার বদলে এক ধরনের পরিতৃপ্তি। আমার গল্পের কিছু ছেলেমেয়ের হাতে তুলে দেওয়া গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------&lt;br /&gt;০৩ মার্চ ২০০৮&lt;br /&gt;--------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-7446634277798989051?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/12927' title='আমার গল্পের কিছু তাদের দিয়ে যাই'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/7446634277798989051/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=7446634277798989051' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7446634277798989051'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7446634277798989051'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_8218.html' title='আমার গল্পের কিছু তাদের দিয়ে যাই'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3852548299271574519</id><published>2008-05-04T17:22:00.002-05:00</published><updated>2008-12-13T01:02:02.915-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>আর প্রস্থানোদ্যত নন, তিনি প্রস্থান করলেন</title><content type='html'>&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB43wlFz6AI/AAAAAAAAABQ/Yqabj68FUYY/s1600-h/151004_1.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB43wlFz6AI/AAAAAAAAABQ/Yqabj68FUYY/s320/151004_1.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5196652327761864706" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানা ছিলো, সময়ের ব্যাপার মাত্র। সময় ফুরিয়ে আসছে, তিনি চলে যাবেন। বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগের এক প্রধান স্তম্ভ নান্নু চলে গেলেন। এইমাত্র খবর পাওয়া গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম, ভালো না। কথা বলতে গেলে কেঁদে ফেলতেন। চলে যাচ্ছেন, জেনে গিয়েছিলেন তো!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সপ্তাহ তিনেক আগে তাঁর সম্পর্কে &lt;strong&gt;গল্পের শেষ যেভাবে : প্রস্থানোদ্যত আমাদের কালের একজন নায়ক &lt;/strong&gt;শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গল্পটির সমাপ্তি হলো। এখন আর প্রস্থানোদ্যত নন, তিনি প্রস্থান করেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;----------------------&lt;br /&gt;১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮&lt;br /&gt;----------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3852548299271574519?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/12455' title='আর প্রস্থানোদ্যত নন, তিনি প্রস্থান করলেন'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3852548299271574519/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3852548299271574519' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3852548299271574519'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3852548299271574519'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post_04.html' title='আর প্রস্থানোদ্যত নন, তিনি প্রস্থান করলেন'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB43wlFz6AI/AAAAAAAAABQ/Yqabj68FUYY/s72-c/151004_1.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-7284688575460484436</id><published>2008-05-04T17:13:00.001-05:00</published><updated>2008-05-04T17:22:16.592-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>একটি বাংলা প্রতিশব্দ দেবেন?</title><content type='html'>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষক ছিলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ক্লাসে তাঁর ইংরেজি বক্তৃতা শুনতাম মন্ত্রমুগ্ধের মতো। সেই তাঁকেই আবার বিভিন্ন সভায় সেমিনারে শুনতাম বিশুদ্ধ বাংলায় বক্তৃতা করছেন। একটিও ইংরেজি শব্দ ব্যবহার না করে। সৈয়দ শামসুল হককেও যতোটুকু শুনেছি, তিনিও ইংরেজি-বাংলার মিশেল করেন না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কর্মস্থলে যে বিভাগে আমি কাজ করি সেখানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় শ'দেড়েক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এর মধ্যে শতকরা ৬০-৬৫ জন ভারতীয়। এরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় তামিল, তেলেগু, গুজরাতি এইসব ভাষা ব্যবহার করে। আশ্চর্য হয়ে দেখেছি, এরা কথা বলার সময় একটিও ইংরেজি শব্দ বলে না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া অঞ্চলে কর্মোপলক্ষে কিছুকাল ছিলাম, সেখানেও চিনারা বা মালেরা ইংরেজি শব্দ ছাড়াই দিব্যি নিজেদের ভাষায় কথা বলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা পারি না। আমরা দশটি শব্দের একটি বাক্যে গড়ে ২-৩টি ইংরেজি শব্দ অবধারিতভাবে ঢুকিয়ে দিই। অথচ অনেক বিদেশী একবর্ণ বাংলা না জেনেও শুধুমাত্র ঐ ইংরেজি শব্দগুলোর কারণে আমাদের কথাবার্তার সারাংশ দিব্যি বুঝে ফেলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঔপনিবেশিক শাসনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সেটি খোঁড়া অজুহাত। সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-ভারতও বৃটিশ শাসনের অধীনে ছিলো। আমরা কী এক বিচিত্র কারণে ইংরেজি বিদ্যা ফলানোকে এক ধরনের আভিজাত্যই হয়তো ভাবি। এর কারণ অনুসন্ধান অবশ্য আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলা ভাষাপ্রেম যদি থাকে, আমাদের দরকার মুখের কথায় এবং লেখালেখিতে যতোটা সম্ভব বাংলা ব্যবহার করতে চেষ্টা করা এবং অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি পরিহার করা। আমি কিন্তু ইংরেজি-বিদ্বেষী নই। ব্যবহারিক জীবনে কিছু কিছু বিদেশী শব্দ আমাদের ভাষার অংশ হয়ে গেছে। যেমন এখন আমি চেয়ার না বলে যদি কেদারা বলতে যাই তা খুবই হাস্যকর হয়ে যাবে। টেবিল শব্দের বাংলা আছে বলে আমার জানা নেই। ফোন? দূরালাপনী শব্দটা চালু করার চেষ্টা মনে হয় হয়েছিলো, উচ্চারণ-বান্ধব নয় বলে কাজে লাগেনি। তবে মোবাইল ফোনের বিকল্প হিসেবে নির্মলেন্দু গুণের উদ্ভাবিত মুঠোফোন চমৎকার। সত্যজিৎ রায় dictionary শব্দের বাংলা করেছিলেন 'দেখাশোনারি', impossible-কে করেছিলেন 'আম পচে বেল'! চলে কিন্তু।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সচলায়তন কিন্তু কয়েকটা চমৎকার কমপিউটার-ব্যবহার্য বাংলা শব্দ তৈরি করেছে। যেমন, homepage-কে 'নীড়পাতা', chatroom হয়েছে 'আড্ডাঘর'।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বিশ্বাস সচলের সকল সদস্য অন্তত একটি করে এরকম ব্যবহারিক প্রতিশব্দ তৈরি করতে পারবেন। কয়েক মিনিট সময় খরচ করে একটি প্রতিশব্দ এখানে রেখে যান, একটি ভাণ্ডার তৈরি হোক। আমাদেরই কাজে লাগবে, আমার ভাষা সমৃদ্ধ হবে। শুধু লক্ষ্য রাখবেন আপনার বাংলা করা শব্দটি যেন উচ্চারণ-বান্ধব হয়। ভবিষ্যতে আপনার উদ্ভাবিত শব্দটির জন্যেই হয়তো আপনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, কে জানে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-------------------&lt;br /&gt;১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮&lt;br /&gt;-------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-7284688575460484436?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/12359' title='একটি বাংলা প্রতিশব্দ দেবেন?'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/7284688575460484436/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=7284688575460484436' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7284688575460484436'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/7284688575460484436'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/05/blog-post.html' title='একটি বাংলা প্রতিশব্দ দেবেন?'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3939252939480953089</id><published>2008-02-09T09:08:00.003-06:00</published><updated>2008-05-04T17:11:37.954-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>'আংশিক রঙিন', 'বাসরঘর' এবং ...</title><content type='html'>বাংলা সিনেমা বিষয়ে আনোয়ার সাদাত শিমুল ও লুৎফুল আরেফীন রচিত পরপর দুটি ব্লগ পড়ে একটু পুরনো কথার জাবর কাটতে ইচ্ছে হলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সত্তর দশকের মাঝামাঝি আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, সে সময় বাংলা সিনেমার অবস্থা এখনকার চেয়ে খুব ভালো ছিলো না। তবে খান আতা, সুভাষ দত্তরা তখনো যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন বলে তখনো মাঝেমধ্যে সিনেমা হলে যাওয়া হয়। 'রংবাজ' দিয়ে নতুন এক ধারার ছবি তৈরি শুরু হয়েছিলো যেখানে নায়ক নেহাতই গুডি গুডি বয় নয়। এরপর 'কার হাসি কে হাসে', 'বানজারান', 'সওদাগর' এইসব ছবি ক্রমে বাজার দখল করে নিচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রঙিন ও সাদাকালো ছবির আনুপাতিক হার তখন মোটামুটি ৫০-৫০। আরেক বিশেষ ধরনের ছবি তৈরি হয়, সেগুলির বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে 'আংশিক রঙিন'। জিনিসটা সাদাকালো ছবির মাঝখানে গোটা দুয়েক রঙিন নৃত্যদৃশ্য। তুমুল চাঞ্চল্যকর সেই নৃত্যগুলির একচ্ছত্র রানী ছিলো নূতন। সত্যি বলতে কি, নূতন ঠিক গোস্তের বস্তা ছিলো না। তাকে দেখার জন্যে আমরা মাঝেমধ্যে দল বেঁধে রাতের শোতে ঢুকে পড়তাম। মোটামুটি ছক জানা ছিলো বলে ছবির মাঝখানে সময়মতো ঢুকে রঙিন নাচপর্ব শেষ হলে বেরিয়ে যাও। ছবি কি, গল্প কি কিছুই জানার দরকার নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবাহিত জীবনের শুরুতে নতুন বউয়ের বায়না, সিনেমা দেখতে যাবে। নতুন বউয়ের আবদার অমান্য কে কবে করেছে? কলাবাগান থেকে সবচেয়ে কাছের সিনেমা হল বলাকা। কী ছবি দেখতে যাচ্ছি জানি না। গিয়ে দেখি, ছবির নাম 'বাসরঘর'। লে হালুয়া! বাসরঘর থেকে বেরিয়ে আরেক বাসরঘর! টিকেট করে হলে ঢোকার মুখে 'আসিতেছে, শীঘ্রই শুভমুক্তি' শিরোনামে একটি ছবির পোস্টারে চোখ আটকে যায়। ছবির নাম 'তালাক'। বউকে দেখিয়ে বলি, এরপর কি এই ছবি দেখতে চাও?&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3939252939480953089?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/12278' title='&apos;আংশিক রঙিন&apos;, &apos;বাসরঘর&apos; এবং ...'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3939252939480953089/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3939252939480953089' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3939252939480953089'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3939252939480953089'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/02/blog-post.html' title='&apos;আংশিক রঙিন&apos;, &apos;বাসরঘর&apos; এবং ...'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-964327546381995384</id><published>2008-01-26T17:41:00.001-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:03.834-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>গল্পের শেষ যেভাবে : প্রস্থানোদ্যত আমাদের কালের একজন নায়ক</title><content type='html'>&lt;div align="left"&gt;প্রিয় নান্নু ভাই, আমাকে আপনি চেনেন না। চেনার কথা নয, কোনো উপলক্ষ কখনো সেভাবে তৈরি হয়নি। তবু আপনাকে ভাই সম্বোধন করলাম কেন? কারণ আমি আপনাকে চিনি অনেককাল ধরে। আপনি সেই প্রজাতির মানুষ যাঁকে লক্ষ মানুষ চেনে এবং তাদের অনেকেই আপনাকে ঠিক আমার মতোই খুব কাছের মানুষ বলে জানে। আরেকটি কারণ সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে। আপনার ছোটো ভাই মঞ্জুর সঙ্গে মাস ছয়েক আগে অনেকটা আকস্মিকভাবেই পরিচয়, কিছু ঘনিষ্ঠতাও। তিনি আমার প্রায় সমবয়সী, আমরা পরস্পরকে নামসহ ভাই সম্বোধন করি। মঞ্জু ভাইয়ের স্ত্রী হাসিন ভাবী আমার স্ত্রীর বন্ধু। সুতরাং আপনাকে ভাই ডাকার এক ধরনের অধিকারও আমার জন্মে গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আপনি পড়েছিলেন কি না জানি না, আপনাদের দুই ভাইকে নিয়ে লেখা একটি গল্প ছাপা হয়েছিলো ১৯৭৮ সালে। তখন আপনারা দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের অধিনায়ক। ঘটনাটি ঐতিহাসিক, দুই সহোদর বড়ো দুই দলের অধিনায়কত্ব করছেন এমন ঘটনা বাংলাদেশ আর কখনো ঘটেনি। সে বছর মৌসুমের শুরুতে আপনারা দুই ভাই দুই বিপরীতমুখী ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭৭-এর অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর অধিনায়ক আপনি বললেন, শিরোপা ধরে রাখবো। মোহামেডানের দলনেতা মঞ্জু ভাই জানালেন, শিরোপা আমরা নেবো। সে বছর মোহামেডান লীগ-চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। আপনি পরাস্ত হলেও গর্ব করে বলতেই পারেন, সেই চ্যাম্পয়নশীপ আপনাদের পরিবারেই ছিলো!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrAxEcII/AAAAAAAAAA4/B5nyeR_0U08/s1600-h/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%A8.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5159935140813893762" style="DISPLAY: block; MARGIN: 0px auto 10px; CURSOR: hand; TEXT-ALIGN: center" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrAxEcII/AAAAAAAAAA4/B5nyeR_0U08/s320/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%A8.jpg" border="0" /&gt; &lt;p align="left"&gt;&lt;/a&gt;&lt;em&gt;                                   ১৯৭৮-এ আবাহনী-মোহামেডানের খেলার আগে সহোদর দুই অধিনায়কের করমর্দন&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবাহনী-মোহামেডানের খেলার দিন ‘স্টেডিয়াম’ পত্রিকায় ওই গল্পটি ছাপা হয়। আপনার জানার কথা নয়, আজ জানাই, ‘সেই প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামের গল্পটির রচয়িতা ছিলাম আমি। গল্পের কপি আমার কাছে নেই, পুরো গল্পটিও মনে নেই। আবছামতো যতোটুকু মনে পড়ে তা অনেকটা এইরকম : আজ আবাহনী-মোহামেডানের খেলা। দুই দলের অধিনায়ক নান্নু ও মঞ্জু একই বাড়ির বাসিন্দা – দুই সহোদর। সকালে নান্নুর ঘুম ভাঙে স্বপ্ন দেখে, আজকের খেলা নিয়েই একটি স্বপ্নদৃশ্য। গোলমুখ থেকে বলটি হঠাৎ উধাও, যা শুধু স্বপ্নেই সম্ভব। দুই ভাই পরস্পরের শত্রুপক্ষ। আজ এই সকালে তাদের কারো মনে পড়ে অথবা পড়ে না, বাল্যকালে তারা জীবনভর একই দলে খেলবে বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আপনার হয়তো মনে আছে, ‘স্টেডিয়াম’-এর মালিক-প্রকাশক আবাহনীতে আপনার সতীর্থ আরেক খেলোয়াড় টুটুল। নামে পাক্ষিক হলেও কাগজটি অনিয়মিত বের হয়। তবে বড়ো খেলার দিনে অবশ্যই একটি সংখ্যা বাজারে আসে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার দশেক কপি নিঃশেষ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের বাইরে এবং গ্যালারিতে। এর সম্পাদক তখন আবদুর রহমান, গেট-আপ মেকাপ ও ইলাস্ট্রেশনে আফজাল হোসেন। আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, ওই সময় আফজাল টিভিতে তার ‘আপনপ্রিয়’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আপনাদের দুই ভাইকে উপস্থিত করেছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrAxEcJI/AAAAAAAAABA/fdqVWl0PECc/s1600-h/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF+%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5159935140813893778" style="DISPLAY: block; MARGIN: 0px auto 10px; CURSOR: hand; TEXT-ALIGN: center" alt="" src="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrAxEcJI/AAAAAAAAABA/fdqVWl0PECc/s320/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF+%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87.jpg" border="0" /&gt; &lt;p align="left"&gt;&lt;/a&gt;&lt;em&gt;                                      ১৯৭৮ : বিটিভি-তে ‘আপনপ্রিয়’ অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেনের সঙ্গে নান্নু ও মঞ্জু&lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উয়ারি এলাকার সপ্তর্ষি মুদ্রায়ণে ‘স্টেডিয়াম’ কম্পোজ কাজ হয়, ছাপাখানাটি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের কর্মকর্তা নজরুল ভাইয়ের, পত্রিকার অফিস হিসেবে সেখানে একটি ঘরও তিনি ব্যবহার করতে দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে আড্ডা দিতে যাই সেখানে। এরকম এক আড্ডায় রহমান ও আফজাল অকস্মাৎ দাবি করে বসে, আবাহনী-মোহামেডানের খেলা উপলক্ষে পরিকল্পিত সংখ্যার জন্যে একটি গল্প লিখে দিতে হবে। কেন এই বুদ্ধি তাদের মাথায় এলো জানি না, ৮৩ সালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই কাগজের আয়ুষ্কালে এর আগে বা পরে দ্বিতীয় কোনো গল্প আর ছাপা হয়নি। এই তথ্যটি সম্পর্কে আমি নিশ্চিত এইজন্যে যে, গোড়া থেকেই এই পত্রিকার সঙ্গে একটা সম্পর্ক আমার ছিলো, ৮০ থেকে ৮৩ পর্যন্ত ‘স্টেডিয়াম’-এর যে ক’টি সংখ্যা বেরিয়েছিলো তার সম্পাদনার দায়িত্ব ছিলো আমার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নান্নু-মঞ্জু দুই ভাই দুই দলের অধিনায়ক, সেই খেলার দিনে গল্পের বিষয় হিসেবে এর চেয়ে ভালো আর কী হয়! খেলা দেখে আপনাদের চিনি, ব্যক্তিগত জীবন প্রায় কিছুই জানি না। দু’জনের পুরো নাম জানি – মনোয়ার হোসেন নান্নু ও শামসুল আলম মঞ্জু। আপনাদের পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি কিছুই জানা নেই। কিন্তু গল্পের জন্যে তথ্য খুব জরুরি নয়। যতোদূর মনে পড়ে, ওই অফিসে বসেই গল্পটি লেখা হয় এবং আফজাল তৎক্ষণাৎ ইলাস্ট্রেশনও করে ফেলে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘স্টেডিয়াম’ যথাসময়ে প্রকাশিত হলো, স্টেডিয়ামে খেলাও শুরু হলো। খেলার শুরুতে মাঝমাঠে রেফারি এ লাইনসম্যানদের সামনে নিজ নিজ দলের অধিনায়ক হিসেবে আপনারা দুই ভাই করমর্দন করছেন, এই মুহূর্তটি এখনো চোখে ভাসে। এই লেখাটির সঙ্গে দেওয়ার জন্যে সেই ছবির একটি কপি মঞ্জু ভাইয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি জানি, আপনি ভোলেননি যে সেদিনের খেলা অসমাপ্ত ছিলো। আবাহনী-মোহামেডানের খেলায় চিরাচরিত গোলযোগ নয়, প্রবল বৃষ্টিতে খেলাটি অমীমাংসিত অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়। আমার লেখা গল্প-সম্বলিত পত্রিকার কপিগুলিও রক্ষা পায়নি অনুমান করি, বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে থাকবে। সেখানেই গল্প আটকে থাকতে পারতো, পরিত্যক্ত ও অসমাপ্ত খেলাটির মতো। প্রায় তিরিশ বছরের ব্যবধানে সেই গল্পের উপসংহার আমাকে লিখতে হবে তা কি জানতাম!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সারাজীবন একসঙ্গে এক দলের হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতি আপনাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে বাল্যকালে হয়েছিলো কি না জানা নেই, লেখার জন্যে সেটি তৎক্ষণাৎ কল্পনা করে নিতে হয়েছিলো সেদিন। তেমন প্রতিশ্রুতির ঘটনা থাকলেও তাকে বালখিল্য বলে বিবেচনা করাই সঙ্গত। বাস্তবতা ছিলো এই যে, স্বাধীনতার পর আবাহনী ক্রীড়াচক্র গঠিত হলে মঞ্জু ভাই সেখানে অন্তর্ভুক্ত হন, আপনি তখন মোহামেডানে। ৭৪-এ আপনিও চলে এলেন আবাহনীতে। ঢাকা ফুটবল লীগে ১৯৭৪-এর একটিমাত্র বছর আপনারা এক দলের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলা যদি হিসেবে ধরা না হয়, বাল্যকালে প্রতিশ্রুত হয়ে থাকলে তা বাস্তব হয়েছিলো এই একটি ফুটবল মৌসুমে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৫-এ দু’জনের পথ আলাদা হয়ে যায়, সে বছর মঞ্জু ভাই গেলেন মোহামেডানে, খেলোয়াড়ী জীবন তাঁর শেষ হলো ৮৫-তে। আর আপনি ৮২-তে অবসর নেওয়া পর্যন্ত থেকে যান আবাহনীতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ফুটবলে একটা নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাকিস্তান আমলে অন্য সবকিছুর মতো ফুটবলেও জাতীয় দলের হয়ে বাঙালির অংশগ্রহণ সীমিত ছিলো। ৭১-এ যুদ্ধের সময় ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ ভারতে অনেকগুলি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে স্বাধীনতার বার্তা তুলে ধরে এবং সেই অভিজ্ঞতা যে এক নতুন অনুভবের জন্ম দেয়, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ফুটবল নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠা এবং ইংল্যান্ড থেকে আসা আবাহনীর কোচ জন হার্ট পত্তন করে দিলেন সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের ফুটবল-শৈলীর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/p&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrgxEcKI/AAAAAAAAABI/-7AdnDrwNQY/s1600-h/%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5159935149403828386" style="DISPLAY: block; MARGIN: 0px auto 10px; CURSOR: hand; TEXT-ALIGN: center" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrgxEcKI/AAAAAAAAABI/-7AdnDrwNQY/s320/%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE.jpg" border="0" /&gt; &lt;p align="left"&gt;&lt;/a&gt;&lt;em&gt;                                                   ১৯৭৮ : স্টেডিয়াম পত্রিকায় দুই অধিনায়কের যুদ্ধঘোষণা &lt;/em&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবাহনীর জন্মের পর থেকে আমি তার সমর্থক। অবশ্য আমি সেই জাতের সমর্থক যার পক্ষে মোহামেডান গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনা ছিলো। সুতরাং দলানুগত্যের বাইরে থেকেও বলতে পারি, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের শুরু আবাহনীর হাত ধরে। ক্রমশ অন্য দলগুলিও এই ধারা অনুসরণ করতে শুরু করে। ফুটবল তখন বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ছিলো, এই নবযাত্রায় তা আরো বেগবান হয়। আপনাদের প্রজন্মের ফুটবলাররা এর অনুঘটক ছিলেন, এ কথা কেউ অস্বীকার করবেন বরে মনে হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শুধু খেলার ধাঁচ নয়, সেই সময়ের খেলোয়াড়দের চেহারা ও পোশাক-আশাকও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কাঁধসমান লম্বা চুল নিয়ে দ্রুতগামী অশ্বের মতো কেশর দুলিয়ে খেলোয়াড়দের ঢাকার মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে এর আগে কে কবে দেখেছে! পৃথিবীর অন্যসব দেশে যেমন হয়, বাংলাদেশেও সালাউদ্দিন-নান্নুর মতো ঝাঁকড়া চুল রাখা এবং খেলোয়াড়দের ফ্যাশন অনুকরণ করার রীতি প্রচলিত হয়ে যায় তখন। ফুটবল ভদ্রলোকের খেলা নয় বলে সেই সময়ে সাধারণভাবে প্রচলিত ধারণাও আপনারা ভাঙতে সক্ষম হলেন। খেলাপাগল মানুষ ও সমর্থকদের উন্মাদনা শুধু নয়, ফুটবল তখন এক ধরণের সামাজিক বিবর্তনের অনুঘটক হয়ে ওঠে। আমার পিতা খেলাধুলা বিষয়ে চরমতম উদাসীন মানুষ ছিলেন, তাঁকেও একসময় ফুটবল ও সালাউদ্দিনকে এক করে জানতে এবং মানতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংকীর্ণ রাজনীতি এবং ধারাবাহিক প্রশাসনিক ব্যর্থতায় আপনাদের হাতে শুরু হওয়া ফুটবলের উত্থান ও অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, তা অন্য প্রসঙ্গ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খেলোয়াড়ী জীবনে আপনি খেলেছেন মধ্যমাঠে গেমমেকার হিসেবে এবং রক্ষণভাগে লেফট ব্যাক ও স্টপার হিসেবে। মঞ্জু ভাই রাইটব্যাক খেলেছেন বরাবর। খেলোয়াড় হিসেবে আপনারা দুই ভাই নিজেদের পজিশনে তাঁদের সময়ের এবং সম্ভবত বাংলাদেশ ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। অথচ খেলার স্টাইল ও মাঠ-ব্যক্তিত্বের বিচারে দু’জন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। আপনি স্থিতি ও প্রশান্ত মেজাজের প্রতীক, আপনার খেলা ধীর অথচ ঋজু কবিতার মতো শিল্পসুষমামণ্ডিত, মনোহর। মঞ্জু ভাই আপনার ঠিক বিপরীতে। তাঁর মাঠ-ব্যক্তিত্ব ছিলো কিছুটা রূঢ়, তীক্ষ্ণমেজাজী ও পৌরুষদীপ্ত। মাথা-গরম ফুটবলার হিসেবে মঞ্জু ভাইয়ের এবং তার অব্যবহিত পরে টুটুলের খ্যাতি (নাকি কুখ্যাতি!) ছিলো। আগে অন্যদের কাছে শোনা ছিলো এবং এখন পরিচয় হওয়ার পর দেখছি, মাঠের মঞ্জুর সঙ্গে এই মঞ্জুকে একদমই মেলানো যায় না। টুটুলের বেলায়ও এই ঘটনা দেখেছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাইটব্যাক যে আক্রমণাত্মক খেলা খেলতে পারে, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ও আক্রমণে সহায়ক হতে পারে মঞ্জু ভাইয়ের খেলায় দেখে ঢাকার দর্শক তা প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিলো। এক অর্থে তা ছিলো এক ধরনের বিপ্লবাত্মক ঘটনা। মঞ্জু ভাই মোহামেডানে চলে গেলে আবাহনীতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন টুটুল, তিনিও মঞ্জু ভাইয়ের খেলার ধারাটিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। মনে পড়ছে, একবার একটি পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে মঞ্জু ভাই বলেছিলেন, ৭৫ ও ৭৬-এ টুটুল যে খেলা খেলেছিলো তা ধরে রাখতে পারলে মঞ্জু নামে ঢাকার মাঠে কেউ যে কোনোদিন খেলেছিলো তা আর কেউ মনে রাখতো না। রূঢ় ও তীক্ষ্ণমেজাজী বলে পরিচিত মঞ্জু ভাই বলছেন এই কথা তাঁরই সমসাময়িক এবং একই পজিশনের খেলোয়াড় সম্পর্কে। বাংলাদেশে এই বিনয় খুব বেশি দেখতে আমরা অভ্যস্ত নই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৪-এর আইএফএ শীল্ড টুর্নামেন্টের কথা আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে। আবাহনী গেছে কলকাতায় খেলতে। তখন টিভিতে খেলা দেখানোর চল হয়নি। বিটিভি ছিলো, কিন্তু কলকাতায় দূরদর্শন সম্ভবত চালুও হয়নি তখনো। রেডিওতে ধারাবর্ণনা শুনছিলাম, আবাহনী খেলছে কলকাতার অন্যতম সেরা দল ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে। দুর্দান্ত খেলেছিলো আবাহনী সেদিন। একসময় আকাশবাণীর ধারাভাষ্যকারকে যা বলতে শুনলাম তার বক্তব্যটি এরকম: ‘ঝাঁকড়া চুলের দীর্ঘদেহী বাংলাদেশের ছেলেটি মাঝমাঠে কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না, যেন এলাকাটি তার একান্ত নিজস্ব’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওই ধারাবর্ণনা আপনি শোনেননি, তখন আপনি মাঠে। ‘ঝাঁকড়া চুলের দীর্ঘদেহী ছেলেটি’ বলে যাকে বর্ণনা করা হচ্ছিলো, তার নাম নান্নু। তখন আপনি মাঝমাঠের খেলোয়াড়। হাঁটুতে আঘাতজনিত কারণে পরবর্তী বছরগুলিতে স্টপার হিসেবে খেলেছেন। মাঠে সবচেয়ে দ্রতগতির খেলোয়াড় আপনি ছিলেন না, তা আপনি নিজেও স্বীকার করবেন। আপনি খেলতেন নিজস্ব দক্ষতা, ফুটবলবোধ এবং বুদ্ধি ও সুবিবেচনা মেশানো এক অসাধারণ খেলা। দৃষ্টিনন্দন ছিলো আপনার পাসিং ও নিখুঁত হেডওয়ার্ক। হেড করে বলটি গোলমুখ থেকে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র কাজ নয়, বরং বলটিকে নিজ দলের খেলোয়াড়ের নাগালে পৌঁছে দিতে হবে, তা আপনার মতো করে আর কাউকে করতে ঢাকার মাঠ কখনো দেখেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সবচেয়ে দর্শনীয় ছিলো আপনার স্লাইড ট্যাকল, স্টপারের সর্বশেষ অস্ত্র। খানিকটা জুয়ার মতো। রক্ষণভাগের শেষ খুঁটি স্টপার, যার পরাস্ত বা ব্যর্থ হওয়ার অর্থ বিপক্ষের আক্রমণের সামনে গোলরক্ষক সম্পূর্ণ একা ও অরক্ষতি। অথচ জুয়াটি খেলতেন আপনি খুব হিসেব করে, পেশাদার জুয়াড়ির দক্ষতায়। অধিকাংশ সময়ে আপনি জিতে এসেছেন অসাধারণ সময়জ্ঞানের কারণে। এই অস্ত্রটি আপনি ব্যবহার করতে জানতেন নিখুঁতভাবে। আপনাকে অনায়াসে বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও স্টাইলিশ স্টপার বলতে আমাদের একটুও ইতস্তত করতে হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমনকি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সম্ভ্রম আদায় করে নিয়েছিলেন আপনি। ৮২-তে খেলা থেকে অবসর নেওয়ার আগে আপনার শেষ খেলাটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলাম, মনে আছে খেলার শেষে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আবেগময় বিদায় জ্ঞাপনের দৃশ্যটি। সারা স্টেডিয়ামের দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় অভিনন্দিত করেছিলো ঢাকার ফুটবলের রাজসিক খেলোয়াড়টিকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ আপনাকে লিখছি এই বিদায়ের প্রসঙ্গ নিয়েই। ডাক্তার জবাব দিয়েছে, আর কিছু করণীয় নেই – এর চেয়ে ভয়ংকর কোনো কথা আর হয় না। যার প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে তার জন্যে তো বটেই, তার আশেপাশের মানুষ, প্রিয়জন ও স্বজন-বন্ধুদের জন্যেও এক ভয়াবহ অসহায়তার অনুভব। আপনার জন্যে অচেনা, কোনোদিন না-দেখা অসংখ্য মানুষও কাতর হবে, অশ্রু বিসর্জন দেবে। আপনি তার কিছুই জানবেন না। জেনেই বা কী এসে যাবে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৯৮ সালে একদিন পত্রিকায় পড়ে চমকে উঠলাম, কর্কটরোগে আক্রান্ত আপনি। এমনই এক রোগ যার নামই অস্তিত্বের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। তবু চিকিৎসায় সেরে উঠলেন আপনি। কিছুকাল পরে আবার ফিরে এলো রোগ। এইভাবে ক্যানসারের সঙ্গে এক ধরনের লড়াই চলছিলো আপনার প্রায় দশ বছর ধরে। এই লড়াইয়ের মাশুল এখন গুনছে আপনার শরীর। কিডনি অকেজো হয়েছে, ডায়ালিসিস চলছে, তার সঙ্গে আরো আনুষঙ্গিক জটিলতা। স্টপার আজ ক্লান্ত, তার স্লাইড ট্যাকল হয়তো এবার ব্যর্থ হতে চললো। আজ একটু আগে জানলাম, সম্প্রতি আপনার ছোটোখাটো স্ট্রোকও হয়ে গেছে বার চারেক। ডায়ালিসিস চলছে ক্রমাগত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইসব সময়ে বোঝা যায় আমাদের মনুষ্যজীবনের নশ্বরতা ও সীমাবদ্ধতা। মতি নন্দীর ‘স্টপার’ উপন্যাসের পরাক্রান্ত স্টপার মাঠে অপরাজেয় হলেও বাস্তব জীবনের রূঢ় আক্রমণের সামনে সে প্রতিরোধহীন। মাঠে প্রতিপক্ষের দুরন্ত স্ট্রাইকারকে রুখে দেওয়ার কৌশল আপনার জানা ছিলো, কিন্তু এই যে চলে যাওয়ার কথা উঠছে সেখানে আপনার – বস্তুত সব মানুষেরই – কিছুই করণীয় নেই। অনিবার্য জেনেও এর জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এদিকে মঞ্জু ভাই কী করেন? তিনি নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ৯২ থেকে। গত বছর তাঁর ডালাস শহরে চলে আসার কথা, বাড়ি কিনে স্ত্রী-পুত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন, নিজে থেকে গেছেন নিউ ইয়র্কে। বিষণ্ণ মুখে বললেন, কী করে আসি? কখন নান্নুর কী খবর আসে, ওখান থেকে তৎক্ষণাৎ রওনা হয়ে যেতে পারবো। কখন যেতে হয়, কে জানে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৭২-এ শোনা আকাশবাণীর ধারাভাষ্যকারের বাক্যটি মনে আসে – মাঝমাঠে ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটি কাউকে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। মহামহিম সেই অন্তিম হয়তো বাস্তব হয়ে মাঝমাঠের কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছে, সেখানে যে সে কাউকে কখনো দাঁড়াতে দেয়নি। দেবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------------&lt;br /&gt;জানুয়ারি ২৪, ২০০৮ &lt;/p&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-964327546381995384?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11944' title='গল্পের শেষ যেভাবে : প্রস্থানোদ্যত আমাদের কালের একজন নায়ক'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/964327546381995384/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=964327546381995384' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/964327546381995384'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/964327546381995384'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post_967.html' title='গল্পের শেষ যেভাবে : প্রস্থানোদ্যত আমাদের কালের একজন নায়ক'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vFrAxEcII/AAAAAAAAAA4/B5nyeR_0U08/s72-c/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%A8.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-2131664113275837843</id><published>2008-01-26T17:25:00.001-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:04.011-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>৭১-এ তাহলে আমরা যুদ্ধ করে অপরাধ করেছিলাম?</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vD-wxEcHI/AAAAAAAAAAw/FWndkjEFB34/s1600-h/jammatiablami.jpg"&gt;&lt;img style="display:block; margin:0px auto 10px; text-align:center;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vD-wxEcHI/AAAAAAAAAAw/FWndkjEFB34/s320/jammatiablami.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5159933281093054578" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;আমার সারা শরীর কাঁপছে। সীমাহীন ক্রোধে। আক্রোশে। কিছু করতে না পারার অক্ষমতায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ প্রথম আলোতে ওপরের রিপোর্টটি ছাপা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাড়তে বাড়তে রাজাকাররা আজ কোথায় এসে পড়েছে। কলাগাছ কাটতে কাটতে নাকি মানুষ ডাকাত হয়। তারা আজ বলতে সাহস পাচ্ছে, যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া অপরাধ ছিলো না। তারা এখন আমাদের টুঁটি টিপে ধরতে উদ্যত। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধের সময় শত্রুর পক্ষ নেওয়া অপরাধ না হলে অপরাধ কোনটা? আমরা যারা যুদ্ধ করেছিলাম, তারাই তাহলে অপরাধী? বিজয়ীরা অপরাধী? পরাজিতরা নয়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথায় তাদের এই দুঃসাহসের উৎস আমার আর জানতেও ইচ্ছে হয় না ... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সত্যি আমি আর লিখতে পারছি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------------------&lt;br /&gt;জানুয়ারি ২৪, ২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-2131664113275837843?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11940' title='৭১-এ তাহলে আমরা যুদ্ধ করে অপরাধ করেছিলাম?'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/2131664113275837843/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=2131664113275837843' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/2131664113275837843'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/2131664113275837843'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post_26.html' title='৭১-এ তাহলে আমরা যুদ্ধ করে অপরাধ করেছিলাম?'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R5vD-wxEcHI/AAAAAAAAAAw/FWndkjEFB34/s72-c/jammatiablami.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-2298148741597585838</id><published>2008-01-14T22:38:00.001-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:04.340-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>‘ভাঙনের শব্দ শুনি’</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4w5Umke2WI/AAAAAAAAAAo/aOORPbmqH8g/s1600-h/Selim+Al+Deen+2.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4w5Umke2WI/AAAAAAAAAAo/aOORPbmqH8g/s320/Selim+Al+Deen+2.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5155558699546106210" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই রচনার শিরোনাম সেলিম আল দীনের লেখা একটি টিভি নাটক থেকে ধার করা। আশির দশকের গোড়ার দিকে বিটিভিতে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পাওয়া একটি মিনি সিরিয়াল। যতোদূর মনে পড়ে, এই টিভি পর্দায় হুমায়ূন ফরীদির সর্বপ্রথম খল চরিত্রে অভিনয়, অতি তরুণ বয়সে সে করেছিলো মধ্যবয়সী গ্রাম্য মাতবর সেরাজ তালুকদারের চরিত্রটি। ‘আমি তো জমি কিনি না, পানি কিনি, পানি’ সংলাপটি তখন মানুষের মুখে মুখে। নাটকের প্রযোজক ছিলেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলিম আল দীন চলে গেলেন, কোনো ঘোষণা না দিয়ে। ৫৮ বছর কি চলে যাওয়ার বয়স? আমাদের মতো কতো হেঁজিপেঁজি মানুষ পৃথিবীতে দীর্ঘকাল বেঁচে আছি, থাকবো। সময় না হতেই চলে যাবেন সেলিম আল দীনের মতো প্রতিভাবানরা। ঠিক সুবিচার মনে হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ আমার মন ভালো নেই। সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও গেলাম না, ইচ্ছে করলো না। সাতসকালে ঢাকা থেকে ফোন এলো পীযূষ ও ফরীদির। তার আগেই বিডিনিউজ আমাকে খবর দিয়ে দিয়েছে। পেনসিলভানিয়ায় আসাদকে ফোন করি, কানাডায় দিনু বিল্লাহকে, ন্যাশভিলে রেজাকে। কারো সঙ্গেই বেশিক্ষণ কথা বলা সম্ভব হয় না। নিকটজনের প্রয়াণে যেরকম হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না, সেলিম ভাই আমার রক্তসম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন না, ছিলেন আত্মার আত্মীয়। তাঁর সঙ্গে পরিচয়ও খুব গভীরে যায়নি। অথচ আশ্চর্য এক বাঁধনে তিনি বেঁধে ফেলেছিলেন আমাকে এবং আমার মতো আরো অনেককে তাঁর রচনা, প্রতিভা এবং অসামান্য কর্মদক্ষতায়। আমাদের মুগ্ধ ও মোহিত করে রাখলেন অনেকদিন ধরে। এবং অতঃপর প্রস্থান করলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭৩-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কেনা কয়েকটি বইয়ের মধ্যে ছিলো টিএসসি-র বুকস্টোর থেকে কেনা একটি পেপারব্যাক ‘সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য’। রচয়িতা সেলিম আল দীন। তখন তিনি উঠতি নাট্যকার, স্বাধীনতার পরে ঢাকার নতুন ধারার নাটকের প্রধান পুরুষদের একজন। ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ ততোদিনে অভিনীত হয়ে গেছে, গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটছে। ঢাকা থিয়েটার গঠিত হলো, সূচনাপর্ব থেকে অন্তিম দিন পর্যন্ত সেখানে জড়িত ছিলেন তিনি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলিম আল দীনের রচনা এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনার যে যুগলবন্দী তৈরি হলো ৭৩-এ, তা বাংলাদেশের নাটককে দিয়েছে অপরিমেয়। সেলিম আল দীনের রচনায় মঞ্চে এলো বাংলাদেশের প্রথম মিউজিক্যাল স্যাটায়ার ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘শকুন্তলা’, ‘কিত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘হাতহদাই’, ‘বনপ্রাংশুল’, ‘চাকা’, ‘সাইফুল মুলক বদিউজ্জামাল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘নিমজ্জন’। ৭৭-এ বাংলাদেশের প্রথম পথনাটক ‘চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি’। টিভিতে ‘রক্তের আঙুরলতা’, ‘গ্রন্থিকগণ কহে’। এই তালিকা নিতান্তই অসম্পূর্ণ, যা তাঁর রচনার ব্যাপ্তি ধারণ করে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলিম আল দীনের নাট্যরচনার শুরু ছিলো পাশ্চাত্য ধাঁচে, কিছুটা অ্যাবস্ট্রাক্ট ধরনের। অবিলম্বে তিনি নিজের পথ খুঁজে পেলেন দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ ধারা এবং প্রাচ্য দর্শনে। তাঁর সব উল্লেখযোগ্য কাজ এই ধারার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাহিত্যরচনা তিনি শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়ে, বেশিদিন থাকেননি সেখানে। রসিকতা করে বলতেন, আমি তো ব্যর্থ কবি, তাই গদ্যরচনা করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তবে তাঁর কিছু নাটকে আশ্চর্য কাব্যময় কিছু পংক্তি আমরা পেয়েছি। স্মৃতি থেকে উদ্ধার করি ‘শকুন্তলা’ নাটকের একটি সংলাপ : আমার প্রার্থনা চৈত্রের শিমুল তুলো – লক্ষ্যহীন কেবলই উড়ে যায়, স্পর্শ করে না!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঠিক তার বিপরীতে মানুষের প্রতিদিনের মুখের ভাষার একটি নমুনা ‘কিত্তনখোলা’ থেকে : ডালিমনের গায়ের ঘাম, চুকা চুকা গন্ধ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেক বড়ো ক্ষমতাবান লেখক ছাড়া এই বৈপরীত্য ধারণ করা সম্ভব নয়। পড়াশোনায় ছিলেন অক্লান্ত, আগ্রহ ছিলো তাঁর বিচিত্র বিষয়ে। সেলিম আল দীন কীরকম বিশুদ্ধতাপিয়াসী পরিশ্রমী লেখক ছিলেন তার পরিচয় দিতে এটুকু বললেই যথেষ্ট হবে যে শকুন্তলা নাটকটি তিনি সতেরো-আঠারোবার লিখেছিলেন। লিখতে বসলে আহার-নিদ্রা ভুলে যেতেন, লিখতেন ঘোরগ্রস্তের মতো। এমন ঘটনাও আছে, একটা লেখা রাত তিনটায় শেষ করে ফরীদিকে ডেকে আনছেন পড়ে শোনাবেন বলে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কবি রফিক আজাদ আজ পুত্রহারা হলেন। সেলিম আল দীনকে তিনি বলতেন বেটা, সেলিম ভাই তাঁকে বাপ ডাকতেন। বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছরের বন্ধুত্বে আজ ছেদ পড়লো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলিম ভাইকে আমি প্রথম দেখি ৭৪ বা ৭৫-এ টিএসসির দোতলায় ঢাকা থিয়েটারের রিহার্সালে। একদিকে নাটকের মহড়া চলছে, আর তিনি মেঝেতে বসে গভীর মনোযোগে কাগজপত্র ওল্টাচ্ছেন, পাণ্ডুলিপি সংশোধন করছেন। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। এরপর মগবাজারে আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়ে ঢাকা থিয়েটারের মহড়া হতো, সেখানেও প্রায় একই ভঙ্গিতে তাঁকে দেখতাম। বাচ্চু ভাইয়ের পুরানা পল্টনের বাসায়ও হুবহু এক ভঙ্গিতে তাঁকে দেখেছি। সেলিম ভাইকে ভাবলে মেঝেতে বসা তাঁর এই ছবিটিই আমার মনে আসে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটু আগে ঢাকা থেকে আমার আরেক বন্ধু আলমগীর ফোন করে বলে, আজ আমার ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে দোস্ত। সেলিম ভাই আমাদের কী ভালোবাসতেন, সেই মানুষ আজ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকায় তখন রাত একটা, বান্ধবহীন আলমগীর একা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে সেলিম ভাইয়ের জন্যে মন খারাপ করে। সেলিম ভাই আমাদের চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের বড়ো ছিলেন। হয়তো তাঁর এই প্রস্থান (নাটকীয় বলতে লোভ হয়, প্রস্থান শব্দটি নাটকে অপরিহার্য শব্দ) আমাদের ক্রমাসন্ন পরিণতির কথা ভাবায়। মনে হয় ভাঙনের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আর আমাদের কালের নায়করা কেউ কেউ প্রস্থান করেছেন, অনেকে প্রস্থানোদ্যত। মৃত্যুর খুব কাছে থেকে ফিরে আসা রাইসুল ইসলাম আসাদ প্রায় পঙ্গু অবস্থা কাটিয়ে নতুন করে হাঁটা শিখছে, ফরীদি হাঁপানি-নিউমোনিয়ার প্রকোপ সামলে হাসপাতাল থেকে সদ্য ফিরেছে, ফুটবলার নান্নুকে ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছে। আমরা সবাই আসছি কিছু আগে বা পরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদায়, সেলিম ভাই। একজন অনুরাগীর অভিবাদন নিন।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-2298148741597585838?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11745' title='‘ভাঙনের শব্দ শুনি’'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/2298148741597585838/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=2298148741597585838' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/2298148741597585838'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/2298148741597585838'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post_6277.html' title='‘ভাঙনের শব্দ শুনি’'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4w5Umke2WI/AAAAAAAAAAo/aOORPbmqH8g/s72-c/Selim+Al+Deen+2.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-4748026944888625388</id><published>2008-01-14T00:15:00.001-06:00</published><updated>2008-05-05T19:17:09.381-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>একটি সহজ-সরল কবিতা, আমাদের সবার গল্প</title><content type='html'>&lt;span style="font-size:180%;"&gt;এক জন্ম&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;তারাপদ রায়&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেকদিন দেখা হবে না&lt;br /&gt;তারপর একদিন দেখা হবে।&lt;br /&gt;দু’জনেই দু’জনকে বলবো,&lt;br /&gt;‘অনেকদিন দেখা হয়নি’।&lt;br /&gt;এইভাবে যাবে দিনের পর দিন&lt;br /&gt;বৎসরের পর বৎসর।&lt;br /&gt;তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে&lt;br /&gt;বা হয়ত জানা যাবে না,&lt;br /&gt;যে&lt;br /&gt;তোমার সঙ্গে আমার&lt;br /&gt;অথবাআমার সঙ্গে তোমার&lt;br /&gt;আর দেখা হবে না।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-4748026944888625388?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11698' title='একটি সহজ-সরল কবিতা, আমাদের সবার গল্প'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/4748026944888625388/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=4748026944888625388' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/4748026944888625388'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/4748026944888625388'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post_14.html' title='একটি সহজ-সরল কবিতা, আমাদের সবার গল্প'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3898939236755959353</id><published>2008-01-12T10:28:00.001-06:00</published><updated>2008-05-05T19:24:47.914-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>দুশ্চিন্তায় কিছু হয়?</title><content type='html'>সকালের কফিসহ কমপিউটারে বসেই খবরটা দেখলাম। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, সেটি কিনে নিয়েছে আরেকটি কোম্পানি। এদেশে এরকম হরহামেশাই হয়। বড়ো মাছ ছোটো মাছকে গিলে খায়, তাতে নতুনত্ব কিছু নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত মাসকয়েক ধরে অফিসে এইসব নিয়ে নানারকম গুজগুজ, ফিসফাস এবং সশব্দ জল্পনা চলছিলো, শেয়ার মার্কেটে কোম্পানির স্টক দ্রুত পড়ে যাচ্ছে, কোম্পানি টিকবে কি না, ব্যাংকরাপটসি করবে কি না - এইসব। কিছু লে-অফ হলো, কয়েকজন দ্রুত অন্যত্র কাজ নিয়ে চলে গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ অফিসে এসে দেখি, ফিসফাস আর নেই, জোর আলোচনা। অনেকে উদ্বিগ্ন। এই ধরনের মার্জারের ফলে অবধারিতভাবে কিছু কর্মী উদ্বৃত্ত হয়ে পড়ে পদ-পদবীর ডুপ্লিকেশনের কারণে। আরো ঘটে আইটি-ঘটিত এলাকায়, বিশেষত যখন দুই মিলিত প্রতিষ্ঠানের আইটি সংস্কৃতি (সিস্টেমস ইত্যাদি) ভিন্নমুখী হয়। অসম সংস্কৃতির বিবাহের মতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অফিসে কেউ কেউ দেখলাম রীতিমতো চিন্তিত, যত্রতত্র জটলা করে আলোচনা চলছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার বোধহয় বোধবুদ্ধি একটু ভোঁতা ধরনের। এইসব আমাকে স্পর্শ করে না, আমি নিশ্চিন্ত মনে ব্লগ পড়ছি, লিখছি। একজন এসে জিজ্ঞেস করলো, তোমার চিন্তা হচ্ছে না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বললাম, চিন্তা করে করবো কি? যা হচ্ছে বা হবে তার ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সুতরাং ভেবে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমার রেজু্যমেটি আপডেট করে প্রস্তুত থাকা ছাড়া আর তো কিছু করণীয় দেখছি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উদ্বিগ্ন সহকর্মী কোনো সান্ত্বনা পায় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত বছর আমার বন্ধু পীযূষ এলো ঢাকা থেকে, তাকে নিয়ে যাচ্ছি হিউস্টনে। পথে ছোটোখাটো একটা দুর্ঘটনায় পড়ি, গাড়ির সামনের বাম্পার গেলো। পরে পীযূষ জানালো, ধাক্কা লাগার পরে তুমি যেভাবে নিশ্চিন্তমনে গাড়ি থেকে নামলে যেন এসব তোমার প্রতিদিনের ঘটনা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে তা নয়। আমি চিন্তা এবং দুশ্চিন্তাকে পরিষ্কার দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। মানুষ হিসেবে চিন্তাশক্তি আছে, তার চর্চা করবো। কিন্তু দুশ্চিন্তায় কার কি উপকার হয় আমি জানি না। দুশ্চিন্তা কোনো সমাধান দেয় না, বরং চিন্তাশক্তিকে ধোঁয়াচ্ছন্ন করে, শরীরে তার প্রভাব পড়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরপর পাঁচবার উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন &lt;span style="font-size:+0;"&gt;বিয়র্ন বর্গ&lt;/span&gt; খ্যাত হয়েছিলেন আইসবার্গ নামে। একেকটি ম্যাচ শেষ করার পর নাকি তাঁর পালস রেট থাকতো মিনিটে পঞ্চাশের নিচে। আমার স্ত্রীও আমাকে সেই গোত্রের একজন মনে করে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3898939236755959353?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11651' title='দুশ্চিন্তায় কিছু হয়?'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3898939236755959353/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3898939236755959353' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3898939236755959353'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3898939236755959353'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post_12.html' title='দুশ্চিন্তায় কিছু হয়?'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-3258422473709159406</id><published>2008-01-06T23:45:00.001-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:04.599-06:00</updated><title type='text'>‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে…’</title><content type='html'>&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4G8xWke2VI/AAAAAAAAAAg/qAsKID5bryw/s1600-h/Akhtaruzzaman+Elias2.jpg"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5152607004746766674" style="FLOAT: left; MARGIN: 0px 10px 10px 0px; CURSOR: hand" alt="" src="http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4G8xWke2VI/AAAAAAAAAAg/qAsKID5bryw/s320/Akhtaruzzaman+Elias2.jpg" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হলো। রাত এগারোটা পার হয় হয়, এখনো রাস্তার রিকশা চলছে ছল ছল করে যেনো গোটিয়ার বিলে কেউ নৌকা বাইছে, ‘তাড়াতাড়ি করো বাহে, ঢাকার গাড়ি বুঝি ছাড়ি যায়।’ আমার জানালায় রোদন-রূপসী বৃষ্টির মাতাল মিউজিক, পাতাবাহারের ভিজে গন্ধভরা সারি, বিষাদবর্ণ দেওয়াল; অনেকদিন পর আমার ভারি ভালো লাগছে। ছমছম করা এই রাত্রি, আমারি জন্যে তৈরি এরকম লোনলী-লগ্ন আমি কতোদিন পাইনি, কতোকাল, কোনোদিন নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গল্পের প্রথম বাক্যে ‘মনোরম’ শব্দটির ঠিক পরে ‘মনোটোনাস’ লিখতে প্রচুর সাহস লাগে। ‘রোদন-রূপসী বৃষ্টির মাতাল মিউজিক’, ‘লোনলী-লগ্ন’ – এই শব্দ ও শব্দবন্ধগুলিও লক্ষ্য করার মতো। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো কেউ একজন তা পারেন। সর্বসাকুল্যে ৫টি গল্পগ্রন্থে (‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’, ‘খোঁয়ারি’, ‘দুধভাতে উৎপাত’, ‘দোজখের ওম’ ও ‘জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল’) সংকলিত ২৮টি গল্প, ২টি উপন্যাস (‘চিলেকোঠার সেপাই’ ও ‘খোয়াবনামা’) ও একটি প্রবন্ধ সংকলনগ্রন্থ (‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’) নিয়ে যিনি সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গদ্যলেখকদের একজন হিসেবে স্বীকৃত ও অমরত্বের দাবিদার হবেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;*******************************************&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটু আগে কনফুসিয়াসের ব্লগ লাট্টু ২ পড়ছিলাম। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মৃত্যুবার্ষিকীর উল্লেখ দেখে নিজের ওপর রাগ হলো, কী করে ভুলে গেলাম? মাত্র ১০ বছরে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;*******************************************&lt;br /&gt;১৯৭৬-এর মে মাসে প্রকাশিত হলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’। যথার্থ নামকরণ, এই স্বর বাংলা সাহিত্যে এর আগে শোনা যায়নি। আগুন একেকটা গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই মুগ্ধ পাঠক তখন সেই বই বালিশের তলায় রেখে ঘুমায়, এমন অবস্থা। তখনো লেখককে চাক্ষুষ দেখিনি। এই বইয়ের প্রচ্ছদ করেছিলেন কাজী হাসান হাবিব, তাঁকেও তখন শুধু নামে চিনি, পরবর্তীকালে যিনি আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠবেন। হাবিবকে নিয়ে একটি পোস্ট ক’দিন আগে সচলে দিয়েছিলাম – হাবিব, বন্ধু আমার ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ দু’জনের কেউ আর পৃথিবীতে নেই। নয় বছরের ব্যবধানে দু’জনেই গেছেন ক্যানসারে – আগে হাবিব, পরে ইলিয়াস। ৯৬ সালের জানুয়ারিতে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পায়ে ক্যানসার ধরা পড়ে, দু’মাস পরে ডান পা সম্পূর্ণ কেটে বাদ দেওয়া হয়। মৃত্যু হলো ৯৭-এর ৪ জানুয়ারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;*******************************************&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখকের সঙ্গে চাক্ষুষ পরিচয় তাঁর হাটখোলার বাসায় ৭৮-এর এক দুপুরে। উপলক্ষ মনে নেই, সুকান্ত চট্টোপাধ্যায় ও সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে গিয়েছিলাম। ঘনিষ্ঠতা তেমন কিছু হয়নি, হওয়ার কথাও নয়। তবে দুটি স্মরণীয় বিকেল তাঁর সঙ্গে কেটেছিলো বগুড়া শহরে তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে। বগুড়া আমারও শহর, গ্রীষ্মের ছুটিতে গেছি। ইলিয়াস ভাইও এসেছেন। পরপর দুই বিকেলে তাঁদের বাড়ির পুবদিকে গাছপালায় ঘেরা খোলা বারান্দায় বসে আড্ডা হয়েছিলো। তাঁর ছোটো ভাই খালিকুজ্জামান ইলিয়াসও অল্পক্ষণ বসে কোথাও বেরিয়ে গেলেন। আমরা দু’জনে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনন্ত বকবক চালিয়ে যাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইলিয়াস ভাইদের জলেশ্বরীতলার বাড়িটির অবস্থান কিছু বিচিত্র। পুবমুখো একতলা বাড়ি বাইরে এলে প্রথম চোখ ধাক্কা খাবে রাস্তার উল্টোদিকে জেলখানার বিশাল উঁচু দেওয়ালে। তার পাশে জেলর সাহেবের বাসস্থান। তার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অফিসার্স ক্লাব, টেনিস কোর্ট, পাশে জেলা প্রশাসকের বাংলো। এগুলির পুব সীমানা ঘেঁষে করতোয়া নদী, ইলিয়াস ভাইদের বাড়ির দরজা থেকে তার দূরত্ব পাঁচশো গজের বেশি হবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেই দুই বিকেলের আলাপের দুটি বিষয় মনে আছে। ইলিয়াস ভাই জিজ্ঞেস করলেন, জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ পড়েছি কি না। বললাম, পড়তে শুরু করেছিলাম, কিছুদূর গিয়ে দম ফুরিয়ে গেছে। তিনি ‘ইউলিসিস’ পাঠের সহজ রাস্তা বাতলে দিয়ে বললেন, ওই বইয়ে কিছু রগরগে অংশ আছে, খুঁজে খুঁজে ওগুলি আগে পড়ে ফেলো। তারপর গোড়া থেকে শুরু করতে পারো!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকটি প্রসঙ্গ এলো গল্প-উপন্যাসে সংলাপে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারের অসুবিধা বিষয়ে। বগুড়া অঞ্চলের ভাষা কিছু দুরূহ ও তার একটি নিজস্ব টান আছে যা লেখায় আনা কঠিন বলে আমি মত দিই। মন্তব্য করি, বগুড়ার ভাষায় সংলাপ লিখলে সঙ্গে স্বরলিপি করে দিতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন ইলিয়াস ভাই মুচকি হেসেছিলেন। আমার ধারণা ও মন্তব্য যে কতোটা অর্বাচীন ছিলো তার প্রমাণ পাওয়া গেলো তাঁর ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসে। তিনি অবলীলায় কী চমৎকারভাবে বগুড়ার পূর্বাঞ্চলের ভাষা সেখানে তুলে আনলেন। কোনো স্বরলিপি দরকার হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;*******************************************&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাঁর লেখায় যেমন তির্যক রসিকতা ও শ্লেষের সন্ধান পাওয়া যায়, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়ও তার নমুনা অনেক আছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কলকাতায় তাঁর একটি পা কেটে বাদ দেওয়ার পর সেখানকার বন্ধু-শুভার্থীদের বললেন, আপনাদের এখানে একটা পা রেখেই গেলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরেকবার বললেন, আমার নেই পা-টাতে চুলকানোর অনুভূতি হচ্ছে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ষাটের একজন বিখ্যাত কবি-কাম-গদ্যকারের রচনা আমার পছন্দ নয়। একদিন এক আড্ডায় ইলিয়াস ভাইকে ওই লেখকের লেখা বিষয়ে মন্তব্য করতে বলি। ইলিয়াস ভাই বললেন, ও খুব ভালো লোক, খুব ভালো লোক!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;*******************************************&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলা সাহিত্য অল্পবিস্তর যা পড়া আছে, তাতে দেখেছি অনেক নমস্য লেখকও অনেক আজেবাজে লেখা লিখেছেন। মানিক-বিভূতি-ওয়ালীউল্লাহ-সমরেশ সবাই। অথচ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সম্পূর্ণ রচনাবলী পড়েও একটি অসার্থক রচনার সন্ধান পাইনি। এটি অবশ্য আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। তুলনামূলক বিচারের প্রশ্ন নয়, শ্রেষ্ঠত্বের কথাও নয়। কিন্তু এই অসম্ভব কর্মটি তিনি কীভাবে সম্পন্ন করলেন? দুই উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’ ও ‘খোয়াবনামা’ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা পৃথিবীর ছবি। গল্পগুলির মধ্যে ‘খোঁয়ারি’, ‘উৎসব’, ‘অসুখ-বিসুখ’, ‘তারাবিবির মরদ পোলা’, ‘দোজখের ওম’ – কোনটা ছেড়ে কোনটার কথা বলি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই জাতের লেখকরা খুব পাঠকপ্রিয় হন না। তারও একটি নমুনা দিই। লতায়-পাতায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় কিছুদিন আগে আমার কাছ থেকে ‘গল্পের বই’ চেয়ে বসলেন। আমি বিপদগ্রস্ত, কারণ সবাইকে বই ধার দিতে আমার মন ওঠে না – বিশেষত যারা বইয়ের যত্ন করে না, আঙুলে থুথু লাগিয়ে পাতা ওল্টায় বা বইয়ের পাতা ভাঁজ করে কদ্দুর পড়া হলো তার চিহ্ন রাখে। আমার এই আত্মীয়টি সেই দলের একজন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এড়ানোর জন্যে বলি, আমার কাছে যেসব বই আছে আপনার ভালো লাগবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাল্টা প্রশ্ন এলো, কার লেখা আপনার ভালো লাগে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উত্তরে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নাম বলি ইচ্ছে করেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আত্মীয় বললেন, তাঁর লেখা চার-পাঁচটা উপন্যাস পড়েছি, আমারও ভালো লাগে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে একটু সময় লাগে। তারপরেও না বলে পারলাম না, এই লেখক সারাজীবনে সাকুল্যে দুটি উপন্যাস লিখেছেন। আর যে লিখবেন সে সম্ভাবনাও নেই, কারণ তিনি মৃত।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-3258422473709159406?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11525' title='‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে…’'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/3258422473709159406/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=3258422473709159406' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3258422473709159406'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/3258422473709159406'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2008/01/blog-post.html' title='‘এই মনোরম মনোটোনাস শহরে…’'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R4G8xWke2VI/AAAAAAAAAAg/qAsKID5bryw/s72-c/Akhtaruzzaman+Elias2.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-1963513091273177404</id><published>2007-12-30T00:48:00.001-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:04.762-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>ছবিতা (শহীদ কাদরীর কবিতা + কাজী হাসান হাবিবের ছবির যুগলবন্দী)</title><content type='html'>&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R3c_3Gke2TI/AAAAAAAAAAM/iPrxm-RAYhE/s1600-h/%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF.bmp"&gt;&lt;img id="BLOGGER_PHOTO_ID_5149654914810435890" style="DISPLAY: block; MARGIN: 0px auto 10px; CURSOR: hand; TEXT-ALIGN: center" alt="" src="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R3c_3Gke2TI/AAAAAAAAAAM/iPrxm-RAYhE/s320/%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF.bmp" border="0" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;span style="font-size:180%;"&gt;বৃষ্টি, বৃষ্টি&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size:130%;"&gt;শহীদ কাদরী&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে&lt;br /&gt;যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে&lt;br /&gt;ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মত যেন বা মড়কে&lt;br /&gt;শহর উজাড় হবে, – বলে গেল কেউ – শহরের&lt;br /&gt;পরিচিত ঘণ্টা নেড়ে খুব ঠাণ্ডা এক ভয়াল গলায়&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবং হঠাৎ&lt;br /&gt;সুগোল তিমির মতো আকাশের পেটে&lt;br /&gt;বিদ্ধ হলো বিদ্যুতের উড়ন্ত বল্লম!&lt;br /&gt;বজ্র-শিলাসহ বৃষ্টি, বৃষ্টি : শ্রুতিকে বধির ক’রে&lt;br /&gt;গর্জে ওঠে যেন অবিরল করাত-কলের চাকা,&lt;br /&gt;লক্ষ লেদ-মেশিনের আর্ত অফুরন্ত আবর্তন!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নামলো সন্ধ্যার সঙ্গে অপ্রসন্ন বিপন্ন বিদ্যুৎ&lt;br /&gt;মেঘ, জল, হাওয়া, –&lt;br /&gt;হাওয়া, ময়ুরের মতো তার বর্ণালী চিৎকার,&lt;br /&gt;কী বিপদগ্রস্ত ঘর-দোর,&lt;br /&gt;ডানা মেলে দিতে চায় জানালা-কপাট&lt;br /&gt;নড়ে ওঠে টিরোনসিরসের মতন যেন প্রাচীন এ-বাড়ি!&lt;br /&gt;জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় জনারণ্য, শহরের জানু&lt;br /&gt;আর চকচকে ঝলমলে বেসামাল এভিনিউ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই সাঁঝে, প্রলয় হাওয়ার এই সাঁঝে&lt;br /&gt;(হাওয়া যেন ইস্রাফিলের ওঁ)&lt;br /&gt;বৃষ্টি পড়ে মোটরের বনেটে টেরচা,&lt;br /&gt;ভেতরে নিস্তব্ধ যাত্রী, মাথা নীচু&lt;br /&gt;ত্রাস আর উৎকণ্ঠায় হঠাৎ চমকে&lt;br /&gt;দ্যাখে, – জল&lt;br /&gt;অবিরল&lt;br /&gt;জল, জল, জল&lt;br /&gt;তীব্র, হিংস্র&lt;br /&gt;খল,&lt;br /&gt;আর ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায় শোনে&lt;br /&gt;ক্রন্দন, ক্রন্দন&lt;br /&gt;নিজস্ব হৃৎপিণ্ডে আর অদ্ভুত উড়োনচণ্ডী এই&lt;br /&gt;বর্ষার ঊষর বন্দনায়&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাজত্ব, রাজত্ব শুধু আজ রাতে, রাজপথে-পথে&lt;br /&gt;বাউণ্ডুলে আর লক্ষ্মীছাড়াদের, উন্মূল, উদ্বাস্তু&lt;br /&gt;বালকের, আজীবন ভিক্ষুকের, চোর আর অর্ধ-উন্মাদের&lt;br /&gt;বৃষ্টিতে রাজত্ব আজ। রাজস্ব আদায় করে যারা,&lt;br /&gt;চিরকাল গুণে নিয়ে যায়, তারা সব অসহায়&lt;br /&gt;পালিয়েছে ভয়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্দনা ধরেছে, – গান গাইছে সহর্ষে&lt;br /&gt;উৎফুল্ল আৎধার প্রেক্ষাগৃহ আর দেয়ালের মাতাল প্ল্যাকার্ড,&lt;br /&gt;বাৎকা-চোরা টেলিফোন-পোল, দোল খাচ্ছে ওই উৎচু&lt;br /&gt;শিখরে আসীন, উড়ে-আসা বুড়োসুড়ো পুরোন সাইনবোর্ড&lt;br /&gt;তাল দিচ্ছে শহরের বেশুমার খড়খড়ি&lt;br /&gt;কেননা সিপাই, সান্ত্রী আর রাজস্ব আদায়কারী ছিল যারা,&lt;br /&gt;পালিয়েছে ভয়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পালিয়েছে, মহাজ্ঞানী, মহাজন, মোসাহেবসহ&lt;br /&gt;অন্তর্হিত,&lt;br /&gt;বৃষ্টির বিপুল জলে ভ্রমণ-পথের চিহ্ন&lt;br /&gt;ধুয়ে গেছে, মুছে গেছে&lt;br /&gt;কেবল করুণ ক’টা&lt;br /&gt;বিমর্ষ স্মৃতির ভার নিয়ে সহর্ষে সদলবলে&lt;br /&gt;বয়ে চলে জল পৌরসমিতির মিছিলের মতো&lt;br /&gt;নর্দমার ফোয়ারার দিকে, –&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভেসে যায় ঘুঙুরের মতো বেজে সিগারেট-টিন&lt;br /&gt;ভাঙা কাচ, সন্ধ্যার পত্রিকা আর রঙিন বেলুন&lt;br /&gt;মসৃণ সিল্কের স্কার্ফ, ছেঁড়া তার, খাম, নীল চিঠি&lt;br /&gt;লন্ড্রির হলুদ বিল, প্রেসক্রিপশন, শাদা বাক্সে ওষুধের&lt;br /&gt;সৌখীন শার্টের ছিন্ন বোতাম ইত্যাদি সভ্যতার&lt;br /&gt;ভবিতব্যহীন নানাস্মৃতি আর রঙবেরঙের দিনগুলি&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইক্ষণে আঁধার শহরে প্রভু, বর্ষায়, বিদ্যুতে&lt;br /&gt;নগ্নপায়ে ছেৎড়া পাৎলুনে একাকী&lt;br /&gt;হাওয়ায় পালের মতো শার্টের ভেতরে&lt;br /&gt;ঝকঝকে, সদ্য, নতুন নৌকার মতো একমাত্র আমি,&lt;br /&gt;আমার নিঃসঙ্গে তথা বিপর্যস্ত রক্তেমাংসে&lt;br /&gt;নূহের উদ্দাম রাগী গরগরে গলা আত্মা জ্বলে&lt;br /&gt;কিন্তু সাড়া নেই জনপ্রাণীর অথচ&lt;br /&gt;জলোচ্ছ্বাসে নিঃশ্বাসের স্বর, বাতাসে চিৎকার,&lt;br /&gt;কোন আগ্রহে সম্পন্ন হয়ে, কোন শহরের দিকে&lt;br /&gt;জলের আহ্লাদে আমি একা ভেসে যাবো?&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-1963513091273177404?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11232' title='ছবিতা (শহীদ কাদরীর কবিতা + কাজী হাসান হাবিবের ছবির যুগলবন্দী)'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/1963513091273177404/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=1963513091273177404' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1963513091273177404'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1963513091273177404'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2007/12/blog-post_30.html' title='ছবিতা (শহীদ কাদরীর কবিতা + কাজী হাসান হাবিবের ছবির যুগলবন্দী)'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/R3c_3Gke2TI/AAAAAAAAAAM/iPrxm-RAYhE/s72-c/%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF.bmp' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-1387139518122922272</id><published>2007-12-30T00:35:00.002-06:00</published><updated>2008-05-05T19:27:53.108-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>পড়ো অথবা পরো</title><content type='html'>'র' এবং 'ড়' নিয়ে একটা বিভ্রাট আমাদের প্রায়ই ঘটে, বিশেষ করে কথা বলার সময় হয়তো কিছু আলস্যবশেই 'ড়'-কে 'র' উচ্চারণ করে ফেলি। তো এই সত্যিকারের ঘটনাটি 'পরা' আর 'পড়া'-র গোলমাল সংক্রান্ত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ধরা যাক ছেলেটির নাম অরূপ  । তাদের বাড়িতে গ্রাম থেকে এসেছেন এক বয়স্ক আত্মীয়। তার নাম জুবায়ের। জুবায়েরের কীর্তিকলাপে আর ক্রমাগত বকর বকরের ঠেলায় অরূপ ভয়াবহ রকমের বিরক্ত। কিন্তু কিছু করার নেই, মুরুব্বিকে অসম্মান করা যায় না। এই অবস্থায় নিম্নরূপ সংলাপ বিনিময় হচ্ছে:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জুবায়ের: তুমি কী পরো (পড়ো অর্থে)?&lt;br /&gt;অরূপ: জ্বি এই লুঙ্গি পরি, প্যান্ট পরি, পাজামা পরি...&lt;br /&gt;জুবায়ের: না না তুমি কোথায় পরো (পড়ো)?&lt;br /&gt;অরূপ: এই নাভির দুই ইঞ্চি নিচে।&lt;br /&gt;জুবায়ের: তুমি নামাজ পরো (পড়ো) না?&lt;br /&gt;অরূপ: জ্বি না, টাইট হয়!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-1387139518122922272?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/11287' title='পড়ো অথবা পরো'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/1387139518122922272/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=1387139518122922272' title='2 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1387139518122922272'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/1387139518122922272'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2007/12/blog-post.html' title='পড়ো অথবা পরো'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-6410277791500560446</id><published>2007-11-14T08:33:00.001-06:00</published><updated>2008-05-05T19:29:01.299-05:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>হেলথ রিপোর্ট, মেয়ের হাতে</title><content type='html'>মেয়ে তার ইংরেজি ক্লাসে রচনা লিখে ১০০-তে ১০০ পেয়েছে। সগর্বে সে মাকে দেখায়, বাবাকে নয়। কারণ রচনাটি তার বাবাকে নিয়ে। মেয়ের মা গোপনীয়তা রক্ষায় খুব পটু বা ইচ্ছুক নয় বলে একসময় প্রকাশিত হয়ে পড়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বঙ্গানুবাদে মার খাওয়ার সম্ভাবনা, তাই মূল ইংরেজিতেই রচনাটি উদ্ধৃত করা গেলো:&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;Iris Zubair&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;English 1301&lt;br /&gt;10/23/2007&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;The Sound of Solace&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;I lay awake in the midst of the night, frustrated and at my wits end with the booming sound of my father coughing in the adjacent room. I listen to him struggle to regain his breath as the coughs get more frequent and violent. I am aware that I should be feeling sympathy for him, maybe even getting him a glass of water and a cough drop. Instead, I cannot help feeling utterly annoyed. It is 4 o’clock in the morning and I only have three more hours of imperative sleep before I have to wake up for school. I feel my anger rising as I think of all the nights he has kept my mother and I awake with his incessant coughing, failing to realize that he is depriving us of our much needed rest. The only person that seems capable of sleeping through the thunderous sounds of my father’s cough is my 10-year-old brother, who ironically crashes in the same room as him. It must be a guy thing.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;My father has been smoking cigarettes for over thirty-five years. He started when he was around the age of seventeen, smoking packs with his friends in Bangladesh. Given my father’s niche for writing, I have always liked to think that cigarettes have added to the allure of his artistic persona. I remember looking at an old black and white photograph taken of him in Singapore right after he and my mother were married. In it, he is sitting at his desk with an expression of extreme focus on his face, busy on his typewriter with a cigarette carelessly held in his right hand. His face is that of a twenty-five-year-old. The fine lines, the dark bags under his eyes, and the gray hairs sprouting from his temples have yet to show themselves. His hair is as unruly as it is long, making him seem as if he is putting forth a half-ass attempt at being George Harrison. The smoke from the tip of the cigarette floats and swirls and gets lost among the rays of sunlight illuminating his face. I can always look at that photograph and believe without a doubt, that my father was the epitome of cool.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;The coughing began about three years ago and has gradually getting worse. The sound of my father’s coughing has become so implanted in my memory that I cannot remember what it was like to not hear it. Although the evidence of his illness lies within the sound of his raspy breathing and in the echoes of his booming convulsions, he is relentless in keeping his medical information private. Whenever he does visit the doctor, the prognosis is always lost on us as he remains withdrawn so as not to cause us distress. But isn’t confusion in the midst of a catastrophe more distressing than being informed of it? However, I gave up all hope of convincing my father of anything when I was very young. I used to beg him to stop smoking when I was six years old, even going so far as to cut deals with him. I agreed to stop asking for new Barbie dolls if he agreed to throw away his pack. But even a promise to his daughter couldn’t keep him from cigarettes. I held up my end of the bargain and bit my tongue from asking for a new doll, but I remember watching him put on his shoes and open the door to the backyard with a cigarette ready in his hand. “You said you’d stop,” I inquired. He could only smile and say, “Okay, I’ll stop when you stop liking chocolate.” I understood my father was telling me he would never stop smoking and this only enraged me further. The idea of my father putting his addiction before the wishes of his family made me resent him in a way that I never had before.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;As I am writing this paper, I can hear my father in a fit of coughing while he is sleeping in the next room. I listen to him gasping for air and I feel like somebody is beating his chest with a hammer while another person is choking him, wrapping their hands tighter and tighter around his neck. He continues struggling to keep himself contained so as not to wake up my brother. But as I stated before, my brother never wakes up at my father’s coughing. Turning off my stereo, I listen as the silence of our house is broken by the jarring sounds of my father struggling to regain a normal breathing pattern and suddenly, I realize exactly why my brother is able to sleep through this. I understand that this haunting cough gives my brother a feeling of safety, of comfort, of reassurance that our father is still here. This sound, the one that usually causes tension and anger and annoyance and worry, is the same sound that is now providing me with the relief of knowing that my dad is alive and even when he is gasping for air, at least he is still breathing. I listen intently as he finally regains his composure and begins to breathe fluidly again, at least for now. &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;Maybe the very least is all I will ever receive from my father. He has shown the very least of promises, the very least of explanations, and the very least of reassurances. But as I sit here in the deafening silence after this latest episode, I listen to the sounds of my father breathing heavily and slightly wheezing. I can’t help but feel grateful. It is through gratitude that I have come to accept that the very least of him is enough.&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-6410277791500560446?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/10243' title='হেলথ রিপোর্ট, মেয়ের হাতে'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/6410277791500560446/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=6410277791500560446' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6410277791500560446'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/6410277791500560446'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2007/11/blog-post_14.html' title='হেলথ রিপোর্ট, মেয়ের হাতে'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-65208061270928014</id><published>2007-11-12T19:01:00.002-06:00</published><updated>2008-12-13T01:02:05.105-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='স্মরণ-বরণ-বিস্মরণ'/><title type='text'>‌‌‌প্রলয়ের একরাত্রি : ‘ঘুমো বাছা ঘুমো রে / সাগর দিলো চুমো রে...’</title><content type='html'>&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-nJFFz6BI/AAAAAAAAABY/B7lKmpSAXwA/s1600-h/nov_12_1970.jpg"&gt;&lt;img style="display:block; margin:0px auto 10px; text-align:center;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-nJFFz6BI/AAAAAAAAABY/B7lKmpSAXwA/s320/nov_12_1970.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5197056269436053522" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-nJVFz6CI/AAAAAAAAABg/KE4qEQmyaZU/s1600-h/nov_12_1971-Bhasani.jpg"&gt;&lt;img style="display:block; margin:0px auto 10px; text-align:center;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://2.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-nJVFz6CI/AAAAAAAAABg/KE4qEQmyaZU/s320/nov_12_1971-Bhasani.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5197056273731020834" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৭০ সাল। আর মাসখানেক পর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন। ৪৭-এ পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ২৩ বছরে এই দ্বিতীয়বার। আগের বছর প্রবল গণঅভ্যুত্থানে লৌহমানব বলে কথিত আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের জগদ্দল ভেসে গেছে খড়কুটোর মতো। এই বিজয়ের জন্যে মূল্য অবশ্য কম দিতে হয়নি পূর্ব বাংলাকে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নির্দয় প্রহার, টিয়ারগ্যাস, গুলি সবই বিপুল পরিমাণে জুটেছিলো। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে এই নির্বাচন। স্পষ্ট মনে আছে, আসন্ন এই নির্বাচনটিকে অনেকে বাঙালির অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছিলেন। তাদের দূরদর্শিতা প্রমাণিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তা অন্য প্রসঙ্গ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং উপলক্ষ করে যখন সারা দেশ জেগে উঠেছে, তখন এসেছিলো এক মরণ ছোবল। এই ভূখণ্ডের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় সমগ্র সমুদ্র-উপকূলে হারিকেন ও প্রবল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে মাত্র এক রাতে কয়েক লক্ষ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ঘরবাড়ি, গবাদি পশু কিছুই রক্ষা পায়নি। তারিখ ১২ নভেম্বর। ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশিত হতেও সময় লেগেছিলো। যখন জানা গেলো যে মৃত মানুষের সংখ্যা বারো লক্ষ (মতান্তরে দশ লক্ষ), তখন পৃথিবী থমকে যাওয়ার অনুভূতি হওয়াই স্বাভাবিক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতির আঘাত যখন আচমকা আসে তখন মানুষ সত্যিই অসহায়। কিছু সতর্কতা হয়তো সম্ভব, তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছু কমে। কিন্তু ১২ নভেম্বরের ওই দুর্যোগের আভাস খুব সামান্যই জানা গিয়েছিলো। পরে প্রকাশিত হলো এই অবিশ্বাস্য তথ্য যে এই ঝড় সম্পর্কে তথ্য থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার তা আমলে নেয়নি, যথাসময়ে সতর্কতাও আসেনি। ঝড়ের পূর্বাভাস ছিলো, তার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুমাত্র আভাসও ছিলো না। ফলে এই অঞ্চলের মানুষ যারা এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেচে থাকে তারা এই পূর্বাভাস নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামায়নি। অনিবার্য ফল হিসেবে কয়েক লক্ষ মানুষ নেই হয়ে গেলো একরাত্রির ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে। এই সেদিনের হারিকেন কাটরিনার তুলনায় সে দুর্যোগ কিছুমাত্র খাটো ছিলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরেও পাকিস্তানী শাসকদের ত‌‌‌‌ৎপরতা খুব বেশি দৃশ্যমান হয়নি, তা ত্রাণে, না সহানুভূতিতে। আরো একবার বোঝা গিয়েছিলো পূর্ব বাংলা ঠিক পাকিস্তান নয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের বাড়িতে তখন দৈনিক পূর্বদেশ রাখা হতো। এই কাগজটি এই দুর্যোগের অসাধারণ কাভারেজ করেছিলো মনে আছে। বিশাল ব্যানার হেডিং করেছিলো : ‘কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো’ এবং সেদিন কাগজের প্রথম পাতার মাস্টহেড নামিয়ে দেয় একেবারে তলায়। বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এই ঘটনা আমার জানামতে ওই একবারই ঘটেছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন কেন্দ্রীয় সরকারে ছয়জন বাঙালি মন্ত্রী ছিলেন। একদিন প্রথম পাতায় পাশাপাশি তাঁদের ছোটো ছবি ছাপা হলো, তার নিচে জনসভায় বক্তৃতারত ভাসানীর বিশাল ছবি, তাঁর উদ্যত তর্জনী ওই ছবিগুলোকে নির্দেশ করছে। সঙ্গে হেডিং : ‘ওরা কেউ আসেনি’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে পড়ে গেলো এইসব কথা। আসলে ভোলা তো হয় না। এই কাগজগুলি আমাদের বাড়িতে এখনো সযত্নে রক্ষিত আছে। হাজার হাজার মাইলের ব্যবধানে না থাকলে এগুলি স্ক্যান করে তুলে দেওয়া যেতো। তা তো আর হওয়ার নয়, পরবাস যাপনের মাশুল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পূর্বদেশ-এ দিনের পর দিন ওই দুর্যোগে নিহত মানুষের, গবাদি পশুর পড়ে থাকা লাশের ছবি ছাপা হয়েছে। একদা কোলাহলময়, এখন বিরান সব জনপদের ছবি দেখে মন ভারি হয়ে ওঠে। একদিন এরকম কিছু ছবির সঙ্গে রফিকুল হক লিখলেন একটি অবিস্মরণীয় ছড়া :&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলে ঘুমলো বুড়ো ঘুমলো ভোলাদ্বীপের চরে&lt;br /&gt;জেগে থাকা মানুষগুলো মাতম শুধু করে&lt;br /&gt;ঘুমো বাছা ঘুমো রে&lt;br /&gt;সাগর দিলো চুমো রে&lt;br /&gt;খিদে ফুরোলো জ্বালা জুড়লো কান্না কেন ছি&lt;br /&gt;বাংলাদেশের মানুষ বুকে পাষাণ বেঁধেছি।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-65208061270928014?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/10203' title='‌‌‌প্রলয়ের একরাত্রি : ‘ঘুমো বাছা ঘুমো রে / সাগর দিলো চুমো রে...’'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/65208061270928014/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=65208061270928014' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/65208061270928014'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/65208061270928014'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2007/11/blog-post_12.html' title='‌‌‌প্রলয়ের একরাত্রি : ‘ঘুমো বাছা ঘুমো রে / সাগর দিলো চুমো রে...’'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-nJFFz6BI/AAAAAAAAABY/B7lKmpSAXwA/s72-c/nov_12_1970.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-8552704499488069886</id><published>2007-11-02T00:20:00.001-05:00</published><updated>2008-12-13T01:02:05.570-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='বিবিধ'/><title type='text'>হিরোশিমার সেই অ্যাটম বোমারু মারা গেলো</title><content type='html'>&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-n11Fz6DI/AAAAAAAAABo/YdSLwBylaTE/s1600-h/Paul_W_Tibbets_thumbnail.jpg"&gt;&lt;img style="float:left; margin:0 10px 10px 0;cursor:pointer; cursor:hand;" src="http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-n11Fz6DI/AAAAAAAAABo/YdSLwBylaTE/s320/Paul_W_Tibbets_thumbnail.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5197057038235199538" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পল টিবেটস নামের লোকটি আজ মারা গেলো। ৯২ বছর বয়সে। তার যখন ৩০ বছর বয়স তখন সে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে সর্বাধিক মানুষকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার কাজে শামিল হয়েছিলো। জাপানের হিরোশিমায় ১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট সর্বপ্রথম যে আণবিক বোমা ব্যবহার করা হয়, সেই বোমাবাহী বিমানের চালক ছিলো পল টিবেট। এই বোমায়, আদর করে যেটির নাম দেওয়া হয়েছিলো "ছোট্টো বালক" (লিটল বয়), নিমেষে এক লক্ষ মানুষ পৃথিবী থেকে নেই হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমেরিকান বিমান বাহিনীর সদস্য হিসেবে পল টিবেট তখন আদেশ পালন করেছিলো মাত্র - এইভাবে হয়তো ঘটনাটিকে দেখা চলে। কিন্তু এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একদিনের জন্যেও কিছুমাত্র অনুতাপ-পরিতাপ তার হয়নি। অথচ তার জবানিতেই জানা যাচ্ছে ধ্বংসের পরিধি কী বিশাল ছিলো। তাকে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিলো এই মর্মে যে, এই বোমাটি বিস্ফোরিত হবে ২০ হাজার টন ডিনামাইটের ধ্বংসক্ষমতা নিয়ে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পল জানাচ্ছে, "দান্তে সেদিন আমাদের বিমানে থাকলে আতংকিত হতেন। কয়েক মিনিট আগেও সকালের উজ্জ্বল রোদে যে শহরটি দেখিছলাম তা এখন অতি কদর্য একটি দৃশ্যে পরিণত হয়ে গেছে। আগুন আর ধোঁয়ায় আর কিছু দেখা যায় না। সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।"&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এতোবড়ো ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে গেছে জেনেও পল বলেছিলো, সেই রাতে সে খুব ভালো ঘুমিয়েছিলো। ঘটনার পর আরো ৬২ বছর বেঁচে ছিলো সে, তার কখনো অনুতাপ হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খবরের কাগজ এবং আলোচনা-প্রতিবাদের শিরোনামে থাকা আমাদের দেশের কোনো কোনো টিবেট-শাবককে কি মনে পড়ে যায় না? এক হিসেবে পল টিবেট এদের পিতৃস্থানীয় তো বটেই!&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/477352010079346255-8552704499488069886?l=muhammedzubair.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sachalayatan.com/zubair/9946' title='হিরোশিমার সেই অ্যাটম বোমারু মারা গেলো'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/feeds/8552704499488069886/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=477352010079346255&amp;postID=8552704499488069886' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8552704499488069886'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/477352010079346255/posts/default/8552704499488069886'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://muhammedzubair.blogspot.com/2007/11/blog-post.html' title='হিরোশিমার সেই অ্যাটম বোমারু মারা গেলো'/><author><name>মুহম্মদ জুবায়ের</name><uri>http://www.blogger.com/profile/17916040595775831649</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_0zE3JHBfH-4/SB-n11Fz6DI/AAAAAAAAABo/YdSLwBylaTE/s72-c/Paul_W_Tibbets_thumbnail.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-477352010079346255.post-1331673402163404286</id><published>2007-10-27T19:18:00.000-05:00</published><updated>2007-11-25T17:31:18.098-06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='উপন্যাস'/><title type='text'>যদি সে ভালো না বাসে</title><content type='html'>&lt;strong&gt;নিশি&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডিমের ভাঙা কুসুমের মতো রং আজ সকালের। কতোদিন পর সূর্য উঠলো। যেন কোনোদিন সাক্ষাৎ হয়নি, এমন অপরিচিত লাগে। হিয়ার কামস দ্য সান! করমর্দন করে তাকে স্বাগত জানানো যেতে পারে, হাউ ডু ইউ ডু? পরিষ্কার নীল শরৎকালের আকাশ, আশপাশের গাছপালাগুলো ভেজা গায়ে রোদ খাচ্ছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কয়েকদিন টানা বৃষ্টি গেছে। আকাশ ছিলো গাঢ় ধূসর বর্ণের, বৃষ্টি থামেনি এক মুহূর্তের জন্যে। ইলশেগুঁড়ি, টাপুর-টুপুর, ঝিরিঝিরি, ঝমঝম ও ঝমাঝম - বাংলা বইয়ে যতো আছে, পালা করে সবরকম বৃষ্টি হলো এই ক'দিন। কীভাবে কে জানে, মেঘলা আকাশ মন খারাপের উপলক্ষ তৈরি করে দেয়। বৃষ্টি আমার এমনিতে খারাপ লাগে না, সব মৌসুমেই দিনে এক-আধ পশলা হলে ভালোই হয়। গভীর রাতের বৃষ্টি আমার সবচেয়ে প্রিয়, বাইরে বৃষ্টির শব্দ ছাড়া তখন আর কোনো শব্দ নেই। আমার নিশীথরাতের বাদলধারা। ঘুম ভেঙে কী যেন কী মনে হয়। ভুলে যাওয়া কোনো কথা মনে আসতে চায়, তবু আসে না। বুকের ভেতরে কী এক অনুভব উঠে আসে, নিষ্কৃতি চায়। অল্প অল্প বেদনা ও বিষাদের ছায়া-অনুভব। এমন দুঃখ-দুঃখ সুখ আর কিছুতে নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার ভালো লাগবে বলেই সব রাতে বৃষ্টি হয় না। দিনে এক-আধবার, তা-ও না। গত ক'দিনের মতো এরকম টানা বর্ষণে বিশুদ্ধ মন খারাপ, ভালো লাগার মিশেল একদম নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাল রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও বাইরে টিপটিপ হচ্ছিলো শুনেছি। আজ জেগে উঠে এই সোনালি আলোর সকাল। আদুরে বেড়ালের বাচ্চার মতো নরম-নরম। এরকম রোদকে হয়তো রোদ্দুর বলা যায়। মন ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ডিমের ভাঙা কুসুমের কথা মনে এলো কেন জানি না। ডিম আমার দুই চক্ষের বিষ। দেখতে পারি না। ভাঙা ডিমের আস্ত কুসুমটুকু তবু দেখতে তেমন খারাপ লাগে না। কিন্তু ভাঙা কুসুমের হলুদের সঙ্গে স্ববচ্ছ ট্যালটেলে বিবর্ণ অংশটা মিলেমিশে গেলে কী গা ঘিনঘিন! দেখলে বমি আসে। সেই জিনিস খাওয়ার জন্যে মায়ের প্রতিদিনের পীড়াপিড়ি, শরীর-গঠনে ডিমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাষণ। এড়ানোর জন্যে নাশতার টেবিলে একটা ছোটোখাটো যুদ্ধ লড়তে হয় আমাকে। বারো বছরের ঋষি কিন্তু দিব্যি তৃপ্তি নিয়ে খায়। আমার ভাগেরটা তার পাতে পাচার করে দিলেও আপত্তি করে না। ছেলে বলেই কি? হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবাও ডিম খুব ভালোবাসে, তা সে যে কোনো চেহারা নিয়ে টেবিলে আসুক - অমলেট, পোচ, ঝুরি ঝুরি, এমনকী হালুয়া রূপে হলেও। আজকাল বাবার প্রিয় ডিম তার খাদ্যতালিকা থেকে ছাঁটতে হয়েছে। ডাক্তার বলে দিয়েছে সপ্তাহে একটার বেশি কিছুতেই নয়। হাই কোলেস্টেরলের রোগীদের জন্যে বিষ। আমারও বিষ লাগে, তবু মা শুনবে না। বুঝবেও না। আচ্ছা, মানুষ ডাক্তারের বারণ বুঝতে পারে, কারো ভালো-লাগা মন্দ-লাগা বোঝে না কেন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাঁঠালবাগানের ফ্রী স্কুল স্ট্রীটে ছয়তলা এই ভাড়া ফ্ল্যাটবাড়ির দোতলায় আমরা আছি পাঁচ বছর। আমরা চারজন। দুই বেডরুমের ছোটো বাসা, তার একটা বাবা-মা'র। অন্যটায় আমি আর আমার ছয় বছরের ছোটো ঋষি। দুই ভাইবোন দুটি বিছানায়, পড়ার টেবিল ও আলনা ভাগাভাগি হয়। আগে অসুবিধা হতো না। ঘুমানোর সময় দু'জনে অনেকরাত পর্যন্ত বকবক করা যেতো। এখন দু'জনেই বড়ো হয়ে উঠছি, ঘর আলাদা হওয়া দরকার। পড়ার টেবিল পালা করে ব্যবহার করতে অসুবিধা হচ্ছে। আলনায় আমার কিছু পরিধেয় জিনিস এখন ঋষিকে আড়াল করে রাখতে হয়। ঘর আলাদা না হলে আর চলছে না। দেনদরবার করছি। মা বলেছে, হবে। বড়ো বাসায় গেলেই তোকে আলাদা ঘর দেবো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একই কথা দুই বছর ধরে শুনছি। আরো কতোদিন শুনবো, কে জানে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যালকনি আছে এরকম একটা ঘর যদি আমার থাকতো! এই বাসায় ছোটো একটা ব্যালকনি আছে, বসার ঘরের সঙ্গে লাগানো। কেউ যায় না, সেখানে স্তূপ করা আছে ঘরে সবসময় লাগে না এইসব জিনিসপত্র। রোদবৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্যে বড়ো একটা পলিথিনে ঢাকা। ঋষির ছোটোবেলার তিন-চাকার সাইকেল পড়ে আছে একলা, পরিত্যক্ত। আর আছে দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা দুটো ফোল্ডিং চেয়ার। এমনিতে ব্যবহার হয় না, বাসায় বেশি লোকজন কখনো এলে চেয়ারগুলো ভেতরে আসার অধিকার পায়। সোফার পাশে পেতে বাড়তি বসার ব্যবস্থা। তা-ও আজকাল আর তেমন হয় না। কয়েক বছর আগেও বাবা ছুটির দিনগুলোতে বাসায় থাকতো, তার বন্ধুবান্ধবদের আনাগোনার শেষ ছিলো না। এখন কেউ আসে কালেভদ্রে। এই বাসায় উঠে আসার পর থেকে আমাদের জীবন অনেক বদলে গেছে। হয়তো বদলে গেছে বলেই আমাদের এখানে আসা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকালে নাশতা পর্যন্ত বাবার বাসায় থাকা, নয়টার মধ্যে বেরিয়ে যাওয়া, ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত এগারোটা। তখন তার হতক্লান্ত চোখমুখ দেখে ভারি মায়া লাগে। বাবা যখন ফেরে, তার মুখ থাকে বিষণ্ণ ও চিন্তাক্লিষ্ট। এরকম দিন আমাদের ছিলো না, কয়েক বছরে কতোটা বদলে যেতে হলো বাবাকে। এই মানুষ ব্যালকনিতে যায় কখন, যাওয়ার কথা হয়তো মনেও আসে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা বাইরে যাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে, দরকার না পড়লে ব্যালকনিতেও যায় না। পর্দা করার ঝোঁক হয়েছে আজকাল, ধর্মকর্মে মন দিচ্ছে। বাইরে গেলে হেজাব পরে, তখন তাকে খুব অচেনা লাগে। মনে হয় আমার মা নয়, অন্য কাউকে দেখছি। মাকে একসময় টিভিতে নজরুল আর লালনের গান গাইতে দেখেছি। ঋষিও দেখেছে খুব ছোটোবেলায়, ওর হয়তো মনে নেই। তখনকার উঠতি গায়িকা নীলাঞ্জনা সুলতানা কীভাবে যেন নেই হয়ে গেলো। কী সুন্দর সুর উঠতো তার গলায়। নিয়ম করে রেওয়াজে বসতো, এখন যেমন নামাজে বসে। আমি নিজেও মাঝেমধ্যে গলা মেলানোর জন্যে পাশে বসেছি। আমাকে গান শেখানোর শখ ছিলো, কিন্তু তা পূরণ করা আমার হলো না। সারেগামা শিখতেই ধৈর্য ফুরিয়ে যায়। বাক্সবন্দী হারমোনিয়াম পড়ে আছে মার ঘরে খাটের তলায়। গান-বাজনার কথা মা আর মুখে তোলে না, হয়তো শুনতেও চায় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদিন মা নামাজ শেষ করে উঠেছে তখন বললাম, তুমি না আমাকে গান শেখাতে চেয়েছিলে। ছোটোবেলায় ইচ্ছে করেনি, বুঝিওনি ভালো। এখন শেখাবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা খর চোখে কতোক্ষণ তাকিয়ে থেকে বোধহয় আমার মতলব বোঝার চেষ্টা করলো। কী বুঝলো বলা মুশকিল। তারপর আলগা গলায় বললো, তোর বাবাকে বলিস মাস্টার দেখতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবাকে বলতে হলে আমাকে বলতে হবে। মা বলবে না। তাদের দু'জনের মধ্যে কথা কম হয়, খুব দরকার না পড়লে একদম বন্ধ। চোখে দেখা যায় না, কিন্তু বাসার ভেতরটা কেমন যেন গুমোট হয়ে থাকে টের পাওয়া যায়। বাবা-মা দু'জনেই বাসায় থাকলে ঋষি আর আমি নিজেদের ঘরের ভেতরে থাকি, গান শুনি। ঋষি টিভি দেখার জন্যে মাঝেমধ্যে বসার ঘরে যায়, আমি যাই না। কখনো-সখনো দু'চারদিন আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যায়, বাবা-মা দু'জনেই বেশ হাসিখুশি। আমরা দুই ভাইবোনও তখন তাদের সঙ্গে বসে গল্প করি। তখনো আমার ভয় ভয় করতে থাকে, এই বুঝি লেগে গেলো আবার। অনেক বছর ধরে এরকম দেখে আসছি। হয়ও তাই, কোনো ব্যতিক্রম নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সবসময় বোঝা যায় না, বুঝতে চাইও না কী নিয়ে গলা চড়ে যায় তাদের। তারাও হয়তো বোঝে না, বুঝতে চায় না - আমরা দুই ভাইবোন কাছাকাছি আছি, শুনতে না চেয়েও সব শুনতে পাচ্ছি। আমরা তখন নিজেদের অদৃশ্য করতে দিতে পারলে, এই বাসার বাইরে কোথাও পালাতে পারলে বেঁচে যাই। এইসব চিৎকার-হল্লা চলে, যতোক্ষণ না বাবা উদভ্রান্তের মতো বেরিয়ে যায়। মা তখনো একা একা বাতাসের সঙ্গে, হয়তা কল্পনায় বাবাকে সামনে রেখে সরব থাকে। সব বাড়িতে কি এরকম হয়? জানি, হয় না। আমার নিজের জন্যে, ঋষির জন্যে মন খারাপ হয়। আমাদের বাবা-মা এরকম কেন? ভালো লাগে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গানের মাস্টারের কথায় মনে মনে মাকে বলি, তুমি বাবাকে বলো না কেন? মায়ের উত্তরও আমার জানা। বলবে, বাপসোহাগী মেয়ে, বাপের জন্যে তো জান দিয়ে দিস, তুই বল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবার জন্যে আমার আলাদা টান আছে, অস্বীকার করি কী করে? অন্য কারো কাছে, মায়ের কাছে তো নয়ই, প্রকাশ করতে চাই না। তবু লুকিয়ে রাখা যায় না, কীভাবে যেন সবাই জেনে যায়। এমনকি ঋষিও জানে। তবে তার পক্ষপাত কার দিকে এখন পর্যন্ত বুঝতে পারি না। এই দিক দিয়ে ও হয়তো আমার চেয়েও পরিপক্ক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনের কথা মনেই থাক। মুখে বলি, আমি তোমার কাছে আগে শিখে নিই, তারপর মাস্টার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি তো গান ছেড়ে দিয়েছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছাড়লে কেন মা? কী সুন্দর গলা তোমার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যালকনিতে আমার যাওয়া নিষেধ। মা ঠিক মায়ের মতো বলে, ধাড়ি মেয়েকে এতো বাইরে যেতে হবে না। দেখিস না পাড়ার ছেলেগুলো কেমন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথায় কী দেখে মা, কে জানে। মোটেই কেউ আমাদের ব্যালকনিতে তাকিয়ে বসে নেই, দূরবীণে চোখ লাগিয়েও কেউ দেখছে না। রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে একটা মেয়েকে কেউ চোখ তুলে দেখতেই পারে। তাতে কী দোষ হলো? আমিও তো বাইরে গেলে কোনো ছেলেকে লক্ষ্য করতে পারি। কী এসে যায়? মেয়ে বড়ো হয়ে উঠতে থাকলে সব মা-ই মনে হয় এরকম বোকা বোকা কথা বলে, বানিয়ে বানিয়ে ভয় পায়। সোজাসাপটা পরিষ্কার চোখে দেখে না, সবকিছুতে শুধু দোষ খুঁজতে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোনো কারণে রেগে না থাকলে মায়ের সঙ্গে হালকা মজা করা যায়। মেজাজের সর্বশেষ খবর সবসময় রাখতে হয়, দৈনিক পত্রিকায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখার মতো। বিপদসংকেত ধরতে না পারলে পরিণতি খুবই খারাপ হয়। পরিষ্কার মেঘমুক্ত মন-টন দেখে একদিন বললাম, আমি তো কাউকে কোনোদিন এদিকে তাকিয়ে থাকতে দেখি না। তুমি দেখো কেমন করে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চোখ থাকলে ঠিকই দেখতে পাবি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার কিন্তু মা মনে হয় ওরা তোমাকেই দেখতে আসে। আমাকে দেখলে পালায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফাজলামো হচ্ছে, না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে এই ব্যালকনিতে এখন আমার নিজেরও আর যেতে ইচ্ছে করে না। রাস্তার ওপারে ডোবাসহ ছোটো একটা ফাঁকা জায়গা ছিলো। সেসব ভরাট হয়ে গেছে, দশতলা অ্যাপার্টমেন্ট উঠছে সেখানে। তিনতলা পর্যন্ত হয়ে গেছে, দিনভর খাটছে একদল ঘামে ভেজা মানুষ। নানারকমের ব্যস্ততা, হৈ চৈ, হাঁকডাক। ফাঁকা জায়গা কোথাও আর ফাঁকা থাকবে না মনে হয়। সামনে চোখ আটকে দেওয়া নির্মীয়মান দালানে দেখার কিছু নেই। তবু একা কখনো-সখনো গেলে ফোল্ডিং চেয়ার দুটো দেখে মন খারাপ হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদিন বিকেলে ইন্দিরা রোডে মিতালিদের বাসায় গিয়েছিলাম। স্কুল থেকে একসঙ্গে আমাদের ওঠাবসা। সন্ধ্যার আগে দেখি তার বাবা-মা ব্যালকনিতে বসেছে। হাতে চায়ের কাপ, চোখেমুখে আনন্দের দীপ্তি। কী কথা হচ্ছিলো জানি না, কিন্তু মুখ দেখেই মন ভরে যায়। মন খারাপও কি কম? আমার বাবা-মাকে এরকম কখনো দেখিনি। মায়ের কাছে শোনা, তারা নাকি দু'জনকে চিনেশুনেই পছন্দ করে বিয়ে করেছিলো। বাবার অবশ্য দ্বিতীয়বার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাতে ঘরের জানালা বন্ধ ছিলো, বৃষ্টির ছাঁট যাতে ঢুকতে না পারে। জানালা খুলে বাইরে সকালের রোদ দেখে ডিমের ভাঙা কুসুমের কথা কেন যে মনে এলো! সবার হয় কি না জানি না, আমি দেখেছি অনেক সময় অসম্ভব আজগুবি একেকটা কিছু যেগুলি মনের ভেতরে কোথায় লুকিয়ে ছিলো, আচমকা লাফিয়ে পড়ে সামনে। এমনকি অপছন্দের কিছু, যা ভাবতে চাই না, ইচ্ছেও করে না, সেইসব ভেবে বসি। কোথাও পড়েছিলাম, যা কিছু তোমার অপছন্দের, তা তুমি চাইলেও কিন্তু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে না। কোথাও কোনোভাবে, চোখের আড়ালে হলেও, তারা আছে। দুই চোখ তুমি বন্ধ করে রাখতে পারো, ওদের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় এরকম রাস্তা এড়িয়ে ঘুরপথে যেতে পারো, তবু তুমি জানো কাছেই কোথাও তারা ওৎ পেতে আছে। সময়ে ঠিক এসে উপস্থিত হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হয়তো তাই, মানলাম। কিন্তু যেসবে আমার ভালো লাগা, তা-ও চোখের সামনে না থাকলেও কোথাও আছে। আমার নাগালে না থাকতে পারে, তবু আছে তো। আমার পছন্দে সব হয় না, হবে না। যেমন ব্যালকনিসহ নিজস্ব একটা ঘর। হবে কি হবে না, জানা নেই। নিশুত রাতের বৃষ্টি, তা-ও হবে হঠাৎ হঠাৎ কখনো, আমার ইচ্ছায় নয়। বৃষ্টিভাঙা সকালে সোনা রঙের রোদ দেখে ডিমের ভাঙা কুসুমের উপমা মনে পড়বে, তা-ও আমার অনিচ্ছায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দিনটা কাটবে কী করে, এখন ভাবতে হবে। ইউনিভারসিটি বন্ধ, কবে খুলবে তার ঠিক নেই। মাঝেমধ্যেই কী সব গোলমালে এরকম ছুটি পাওয়া যায়। রোজা আসছে সামনে, এই ছুটিটা মনে হয় এমনিতেই রোজা পর্যন্ত গড়াবে। তাহলে ঈদের আগে আর ক্লাসে যাওয়া নেই। বৃষ্টিতে ক'দিন অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে ঘরবন্দী হয়ে থাকা হলো। বৃষ্টি মাথায় প্যাচপেচে কাদাপানি এড়িয়ে হাঁটো রিকশার জন্যে গ্রীন রোডের মোড় পর্যন্ত, তারপর রিকশায় বসে বৃষ্টির ছাঁট থেকে কাপড় সামলাও। কে যায়? ক্লাস থাকলে অবশ্য যেতেই হতো। নেই বলে বাইরে না গিয়ে বৃষ্টির দিনগুলো পার হলো। আজ কোথাও যাওয়া যায়? কী করা যায়? আপাতত হাতমুখ ধুয়ে খাওয়ার টেবিলে যেতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা সেদিন জিজ্ঞেস করছিলো, এবার আমি রোজা রাখবো কি না। এই বাসায় শুধু মা রোজা রাখে। আমি একদম পারি না, খিদে সহ্য হয় না, পাগল হয়ে যাই। এমনিতে হয়তো কখনো অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা হয়ে যায়, কিন্তু ইচ্ছে হলেও সারাদিনে কিছু খেতে পারবো না ভাবলে পেটের মধ্যে সারাক্ষণ খিদে-খিদে। গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ আছে বলে ডাক্তারের নিষেধ, সেই নিষেধাজ্ঞা আমাকে রক্ষা করে। এবারও হয়তো করবে, মা কিছু বলতে পারবে না। না হলে রোজার দিনে আমার খাওয়া জুটতো কোথায়? মা ঋষিকেও রোজা করাতে চায়। বলে, এতো বড়ো ছেলে, নামাজ-রোজার নাম নেই, যাবি তো দোযখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা তাকে রক্ষা করতে বলে, বারো বছরের বাচ্চারা দোযখে যায় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মা গজগজ করতে থাকে। বাবা-মায়ের সরাসরি কথা না বলাবলির সময়টা হয়তো ঋষির সমান বয়েসী, বা তার চেয়েও বেশি। মাঝেমধ্যে মা-বাবার মধ্যে কখনো হাসিঠাট্টা হতে দেখলে ভাবি, নকল নয় তো! নাকি অভিনয়! বহুদিনের অভ্যাসে সত্যি ও অভিনয়ের তফাৎ দেখতে পাই না। তবু ভাবি, সুসময়টা স্থায়ী হোক। প্রাণপণে চাই, হয় না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মোবাইল বাজছে। এতো সকালে কে? জানালা থেকে সরে আসি। এসএমএস। মেসেজের রচয়িতা এবং প্রেরক ইরফান। লিখেছে, তোর ঘুম ভেঙেছে? না ভাঙলে সাতসকালে ঝাড়ি দিবি, তাই ভয়ে ভয়ে ফোন না করে এসএমএস বাবাকে পাঠিয়ে দিলাম। ঝাড়ি-নাশতায় আমার খুব অরুচি। জেগে থাকলে এক্ষুণি ফোন কর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘড়িতে সাতটা চল্লিশ। ইরফানের এখন মাঝরাত হওয়ার কথা। রাতভর কমপিউটারে বসে থাকে, রাশি রাশি ইমেল, আইএম চ্যাট। পারেও। আর আছে তার সঙ্গীত রচনা। দেশের বাইরে কোথা থেকে একটা ইলেকট্রনিক কীবোর্ড আনিয়েছে, সেটা কমপিউটারে জুড়ে দিয়ে কম্পোজ করে। এই দুই যন্ত্র মিলে গীটার, ড্রাম, সিনথেসাইজার এইসব শব্দ প্রস্তুত করে, সঙ্গীতকারের কাজ সেগুলিকে সুসংবদ্ধ করে ছাঁচে ফেলা, সুর তৈরি করা। এইসব কারিগরি সে প্রচুর উৎসাহ নিয়ে সবিস্তারে বোঝানোর চেষ্টা করে। সব আমার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়, ধরতে পারি না। নিজের কয়েকটা কম্পোজিশন বন্ধুবান্ধব সবাইকে একদিন শুনিয়েছিলো। তার ঝিং-চাক যন্ত্রসঙ্গীত মন্দ লাগে না শুনতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার মানে বান্দা রাতভর ঘুমায়নি। পাঁঠা একটা। ইরফান নাম বলে মেহরীন হঠাৎ তাকে ইরফান পাঠান ডাকতে শুরু করে। একদিন সাব্বির তাকে পাঠান থেকে পাঁঠায় রূপান্তরিত করে দেয়। অবিলম্বে তা গৃহীত ও প্রচলিত হয়ে গেলো সর্বসম্মতিক্রমে। ইরফান এইসব একদম গায়ে মাখে না। পাঠান বললে বলবি, পাঁঠা বললেও আপত্তি নেই, ইরফান তবু ইরফানই থেকে যাবে - এই তার ঘোষণা। এইরকম প্রবল আত্মবিশ্বাস তার। হওয়ার কথা অবশ্য। এতোসব নিয়ে যে দিনমান কাটায়, পড়াশোনা সে করে কখন? সুযোগ পেলে ক্লাসও ফাঁকি মারে। অথচ পরীক্ষায় বরাবর সবাইকে ছাড়িয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার হঠাৎ রাগ হয়। এঃ, কে আমার এসে গেলেন, কোথাকার গোঁসাই। বললেন এক্ষুণি ফোন করবি। আমি তোর হুকুমে চলি? আমাকে এখন হাতমুখ ধুয়ে খাওয়ার টেবিলে যেতে হবে। বাবা বসে থাকবে, মা তাড়া লাগাবে। কাজের লোকের অভাব আজকাল, মা একহাতে সব করে। আলাদা আলাদা সময়ে খেতে বসার নিয়ম এই বাসায় নেই। নাশতা সেরে তখন ইচ্ছে হলে ফোন করবো। ততোক্ষণ তুই বসে থাকবি, ঠিক আছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দাঁত ব্রাশ করে চোখেমুখে পানি দিতে দিতে বুঝি, আমি আসলে অতোটা শক্ত নই। যা করবো ভাবি, তা আঁকড়ে থেকে পালন করা হয়ে ওঠে না আমার। মাঝপথে এসে আগের সিদ্ধান্ত ভুলে যাই, পাল্টে ফেলি। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ফোন তুলে নিই। মা ডাকাডাকি করলে তখন দেখা যাবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একবার রিং হতেই ইরফানের গলা, মহারানীর ঘুম ভাঙলো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মহারানী হলাম আবার কবে থেকে? এতোদিন তো ঘুঁটেকুড়ানি পেত্নী বলেছিস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বলতে হয় তাই বলা। আমার কথায় তুই পেত্নীও হবি না, মহারানীও না। মেসেজ পেয়েছিলি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না হলে তোকে এই সাতসকালে ফোন করতে যাবো কোন দুঃখে? তুই না মাঝে মঝে সত্যিই পাঁঠা হয়ে যাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাঃ হাঃ করে গলা খুলে হাসে, পাঁঠার হাসিটা দরাজ। বলে, তোর মুখে পাঁঠা শুনলে আমার সবচেয়ে বেশি মজা লাগে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবার প্রমাণ দিলি। আমি কী এমন আলাদা? আর সবার মতোই তো বলি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী জানি, অন্যরকম শোনায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুঝলাম। এখন বল, কেন ফোন করতে বলেছিস? সারারাত জেগে কী উদ্ধার করলি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্লুটোর সর্বনাশ হয়ে গেছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কার সর্বনাশ হয়েছে বললি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্লুটোর। সৌরজগতের সেই সবচেয়ে ছোটো গ্রহটা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তো তার কী হয়েছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তার জাত গেছে। এতোদিন সবাই জানে প্লুটো ন'টা গ্রহের একটা। এখন ইউরোপের বিজ্ঞানীরা বলছে, প্লুটো আসলে গ্রহ নয়। এদিকে আমেরিকার নাসা বলছে, তারা সেটা মানে না, প্লুটো এখনো গ্রহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার এখন মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা, হাত থেকে ফোন পড়ে যায় আর কি। ইরফান একটু ছিটগ্রস্ত সে, আমরা সবাই জানি। এখন দেখছি সত্যি পাগল হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, তুই কি পাঁঠা থেকে পাগল হলি? সেটা প্রমোশন, না ডিমোশন?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে মনে ভাবা, বলা হয় না। বললেও তার কানে উঠতো, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এক নাগাড়ে কথা বলে যাচ্ছে, যেন ঘোরগ্রস্ত। এইরকমই সে, যে বিষয়ে উৎসাহ তার শেষ দেখা চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইরফান বলে, ১৯৩০ সাল থেকে প্লুটো গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত। ভাবতে পারিস ইউরোপীয়দের সিদ্ধান্ত টিকে গেলে আমাদের এতোদিনের জানা সৌরজগৎ পাল্টে যাবে? পৃথিবীর যাবতীয় পাঠ্য বই সংশোধন করতে হবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাতে তোর কী ক্ষতি হবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছোটোবেলা থেকে প্লুটো আমার সবচেয়ে প্রিয়, তা তো তুই জানিস না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেন, যে পৃথিবীর বাতাস খাচ্ছিস সে প্রিয নয়? চাঁদই বা কী দোষ করলো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুই বুঝতে পারছিস না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাগলকে থামানো দরকার। বলি, ঠিক আছে। পরে বুঝিয়ে দিস। এখন মা ডাকছে, যেতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে মা ডাকেনি। প্রলাপ থামানোর জন্যে বানিয়ে না বলে উপায় ছিলো না। ফোন রেখে দিয়ে আমার খারাপ লাগতে থাকে। পাগল এই নিয়ে রাতভর ইন্টারনেট ঘেঁটেছে, আমি ঠিক জানি। সেই কথা কারো সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চায়। প্লুটো নিয়ে ওর এই আবেগে আমার কোনো অংশ নেই। তবু কী এমন হতো আরেকটু সময় দিলে? কতো অদরকারি কথা তো শুনি, না চাইলেও শুনতে হয়। ওগুলোতেই বা আমার কী প্রয়োজন? একটু পরে ফোন করে পুষিয়ে দেবো ঠিক করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এতোক্ষণে আমার মাথায়ও ঘুরতে শুরু করেছে, প্লুটো আর গ্রহ নয়। ইরফানও পাঠান নয়, পাঁঠাও নয়, সে পাগল!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;জামাল&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টাকাপয়সা গুনে একটা পেটমোটা ব্যাগে ভরে রাখা আছে। টাকার অংকসহ ব্যাংকের ডিপোজিট স্লিপও তৈরি। টাকাগুলো ব্যাংকে জমা করে দেওয়া সকালের প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটা। দরকার নেই, তবু নিজে আরেকবার গুনি। আগের রাতের গোনাগুনতি সকালে মিলিয়ে নেওয়া। টাকাপয়সা জিনিসটাকে বিশ্বাস নেই, তা-ও আবার যদি একাধিক হাতে নাড়াচাড়া হয়ে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গুলশানের এই নামী থাই রেস্টুরেন্টে ম্যানেজারের কাজ আমার। সকালে দশটার মধ্যে চলে আসি। কিচেনে শেফ ও তার সাহায্যকারীরা ন'টার মধ্যে এসে কাজ শুরু করে দেয়। দুপুরের আহারার্থীদের জন্যে প্রস্তুতি। রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে সকাল এগারোটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত। বন্ধ হওয়া পর্যন্ত আমাকে থাকতে হয় না, ন'টার পরে মালিকের ছেলে আসে সারাদিনের হিসেব-নিকেশ করতে। তখন সব বুঝিয়ে দিয়ে আমার ছুটি। কোনো কোনোদিন মালিক নিজে হঠাৎ এসে হাজির হয়, ভালোমন্দ সব খবর নেয়, কর্মচারীদের সবার সঙ্গে কথা বলে। সেদিন আমার বেরোতে দেরি হয়ে যায়। রেস্টুরেস্টের দরজা বন্ধ হলে আমার তৈরি করে রাখা পরদিনের বাজারের ফর্দটা দেখে নিয়ে মালিকের ছেলে তালা ঝুলিয়ে যায়। টাকাপয়সার হিসেব সেরে ব্যাগে ভরে রেখে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টাকাপয়সা নিয়ে সতর্কতার ফল একদিন পেয়েছিলাম। চাকরিতে তখন আমার মাসখানেক হয়েছে। একদিন সকালে গুনে দেখি, টাকার অংক মেলে না। ব্যাংকের স্লিপে যা লেখা, ব্যাগে তার চেয়ে দেড় হাজার টাকা বেশি। তিনবার গুনেও একই ফল। ফোন করি মালিকের ছেলেকে। ঘুমভাঙা গলায় ফোন ধরে সে জানায়, ব্যাংকের ডিপোজিট স্লিপটা ঠিক করে নিলেই হবে। সন্ধ্যায় মালিক নিজে আসে। তখন জানা যায় ভুলটা তার নির্দেশেই করা হয়েছিলো। সততার পরীক্ষায় আমি পাশ, বেতন বাড়ার খবরও আমাকে জানানো হয়। তখন মনে পড়েছিলো, সকালে ফোনে মালিকের ছেলের গলায় কোনো বিস্ময়ের রেশ ছিলো না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মালিককে বলা সম্ভব হয়নি যে, পরীক্ষা নেওয়ার দরকারই ছিলো না। এইসব ছোটোখাটো লোভের ফাঁদে আমাকে ফেলা যাবে না। আমি নির্লোভ মানুষ নই, সেরকম দাবি করার সাহস নেই। লোভ-টোভ আমারও ঠিকই আছে, ফেরেশতা নই। তবে এতো ছোটো অংকের টাকাপয়সায় আমার অরুচি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টাকা গোনা তখনো শেষ হয়নি, টেবিলে রাখা মোবাইল ফোন সজাগ হয়। কোনো নম্বর দেখাচ্ছে না। কার ফোন, বোঝার উপায় নেই। তুলে হ্যালো বলি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওপার থেকে শোনা যায়, নিউ ইয়র্ক থেকে সাজিদ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী খবর রে, বাবা? তুই যে নিউ ইয়র্কে, তা কি আর জানি না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাজিদের হাসির শব্দ পাওয়া যায়। বলে, ঢাকা থেকেও তো করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তা পারিস, কিন্তু এলে তো জানতাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি কিন্তু বাবা আসছি ঢাকায়। সেই খবর দিতেই ফোন করা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই? কবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাসখানেকের মধ্যে চলে আসবো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুই একা? না তোর মায়ের সঙ্গে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেন, আমি একা আসতে পারি না? আমার বয়স এখন ঊনত্রিশ, বোধহয় তোমার মনেই থাকে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চুপ করে থাকি। মনে থাকা কঠিন বটে। কতো বছর দেখা নেই। ছেলেটা চোখের আড়ালেই বড়ো হয়ে উঠলো। চোখের দেখা না থাকলে মনের আর দোষ কি? বলি, তোর মা কেমন আছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুদ্ধিমান ছেলে সে। প্রশ্নটা এড়িয়ে বলে, তুমি কেমন আছো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আছি, চলে যাচ্ছে। তা বাপ, বললি তোর ঊনত্রিশ বছর বয়স, বিয়েশাদীর কথা ভাবতে হবে না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলের সঙ্গে বন্ধুর মতো একটা সম্পর্ক রাখা গেছে। হয়তো দূরের বলে। অথবা যে পরিবেশে সে বড়ো হয়েছে, তা-ও কারণ হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাজিদ বলে, বিয়েতে আমার একটু ভয়ই লাগে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কীরকম?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেখছি তো তোমাদের। জিনিসটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুঝতে বুঝতে একদিন দেখবি বুড়ো হয়ে গেছিস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাতেই বা কী ক্ষতি হবে? সব বিয়ে তো তোমরাই করে ফেললে। দাদা, তুমি, মা, কস্তা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রিনির বর রাশিয়ায় পড়াশোনা করেছে। সে দেশে বাবাকে কস্তা বলে, সে-ই শিখিয়েছে সাজিদকে। ভালোই করেছে। বাবা তো একজনই হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নাজুক জায়গায় হাত দিয়ে ফেলেছে সাজিদ। প্রসঙ্গ পাল্টাতে হয়, আসার দিনতারিখ ঠিক করেছিস?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখনো ঠিক হয়নি, তবে মাসখানেকের মধ্যেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কতোদিন থাকবি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লম্বা সময়ের জন্যে আসছি। তেমন হলে থেকে যাবো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানে কিছু নেই। বাংলাদেশটা কি আমার দেশ নয়? থেকে যেতেই পারি, যদি সুযোগ থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটু অবাক হই। ছেলের জন্ম এ দেশে, তা ঠিক। এ দেশ ওর নিজের দেশ, তা-ও ভুল নয়। কিন্তু তার সত্যিকারের বেড়ে ওঠা আমেরিকায়, সেটাও তার দেশ। আমার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার সময় রিনি ছেলেকে নিয়ে তার বাপের বাড়িতে উঠে যায়। বছর তিনেক পর তার আবার বিয়ে হয় আমেরিকাবাসী একজনের সঙ্গে। সালাম সাহেবেরও দ্বিতীয় বিয়ে, আগের পক্ষের এক মেয়ে আছে, সাজিদের সমবয়সী। শুনেছি ভালো আছে রিনি। সাজিদের সঙ্গে বরাবর যোগাযোগ রেখেছি, রিনি কখনো আপত্তি করেনি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একবার ফোনে কথা বলার সময় বলেছিলো, তোমার সঙ্গে আমার জীবনযাপন অসম্ভব হয়েছিলো তা তুমি আমি দু'জনেই স্বীকার করবো। কিন্তু ছেলেটা যে তোমারও তা-ও মানতে হবে। তুমি সাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, আমি আপত্তি করবো কেন? একটাই ছোটো অনুরোধ, আমার কোনো অশান্তির কারণ যেন না ঘটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিয়ের আগে রিনির সঙ্গে আমার তিন বছরের সম্পর্ক। বিয়ে করতে হয়েছিলো লুকিয়ে কোর্টে গিয়ে, তাদের বাসার কারো মত ছিলো না। দেড় বছরের মাথায় সাজিদ জন্মালে নাতির মুখ দেখে রিনির বাবা-মা বিয়েটা মেনে নিয়েছিলেন। আমাদের সংসার টেকেনি, তার দায় আমার একার। বিয়ে জিনিসটা যে দুই নারী-পুরুষের মধ্যে এক ধরনের দায়বদ্ধতা এবং চাইলেই তা ভাঙা যায় না, ভাঙতে নেই, এই বোধ আমার খুব গাঢ় ছিলো না। হয়তো আমার পারিবারিক ইতিহাস এর পেছনে কাজ করে থাকবে। আমি বিশ্বস্ত থাকতে পারিনি। এই জিনিস আমার মধ্যে কোথা থেকে এলো জানি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুঝেছি দেরিতে, আগে জানলে হয়তো রিনিকে আমার জীবনের অভ্যন্তরে টেনে আনতাম না। ওর জন্যে আমার ভালোবাসা ছিলো খাদহীন। প্রকাশ্যে স্বীকার করা চলে না, কিন্তু হয়তো আজও সেই ভালোবাসার কিছু অবশিষ্ট আছে আমার ভেতরে। আমার জীবনের অংশ সে আর নয়, কিন্তু সাজিদের মা হিসেবে একটা অংশীদারিত্ব জীবনভর থেকে যাবে, কোনোকিছুতেই তা পাল্টাবে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হঠাৎ একটা অদ্ভুত চিন্তা আসে। এতো বছর দূরে থাকা সাজিদকে কি আমি নিশি-ঋষির চেয়ে কম ভালোবাসি? নাকি সমান সমান? প্রথম সন্তানের জন্যে কিছু আলাদা দুর্বলতা সব বাবা-মায়েরই থাকে। তাহলে সাজিদের জন্যে আমার আলাদা টান থাকলে রিনিরও তাই। আমাদের জীবন আলাদা হয়ে গেলেও এখানে তাহলে আমরা এখনো যুক্ত আছি। নীলার বেলায় সে দুর্বলতা নিশির জন্যে। কে জানে এসব কি দিয়ে ওজন করা যায়, মাপা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাজিদের কথা শুনে একটু উদ্বেগ হয়, তা অস্বীকার করতে পারি না। ওর বয়সী ছেলেমেয়েরা এখন বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে পারলে আর কিছু চায় না। অথচ সে আমেরিকায় এতো বছর বাস করার পর বাংলাদেশে ফিরতে চায়, তা খুব স্বাভাবিক লাগে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জিজ্ঞেস করি, কেন, মায়ের সঙ্গে কিছু হয়নি তো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;না বাবা, না। মা-র সঙ্গে কথা বলেই তোমাকে জানাচ্ছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সংশয় তবু যায় না। মনে হয়, সালাম সাহেবের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হলো কি না। ভদ্রলোক খুবই ভালো শুনেছি, সাজিদকে নিজের ছেলের মতোই দেখেন। তবু যুবক বয়সী সৎপুত্রের সঙ্গে খটোমটো লাগতে কতোক্ষণ? ছেলে আমার সঙ্গে থাকলেও তা হতে পারতো।&lt;br /&gt;সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায় না। পরের প্রশ্নটা এমনভাবে করি যা দিয়ে পৃথিবীর যে কোনো সম্ভাবনাকে বেড় দিয়ে ধরা যায়। বলি, অন্য কোনো ঝামেলা বাধিয়ে বসিসনি তো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদম না। আমি ভালো ছেলে, বাবা। ইংরেজির আই অক্ষরের মতো সোজা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের বসতি পৃথিবীর দুই প্রান্তে হলেও সম্পর্ক সহজ রাখা গেছে। ছোটোখাটো রসিকতা চলে। তার কথায় পাল্টা জিজ্ঞেস করি, বড়ো হাতের আই তো? ছোটো হাতেরটা কিন্তু খুব সোজা লাগে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাপ-ব্যাটা মিলে হাসি হয়। আমার কিছু নিশ্চিন্ত লাগে। জিজ্ঞেস করি, তা বাপ তুই উল্টোদিকে হাঁটা দিলি কেন, বল তো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী রকম?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই দেশের অর্ধেক মানুষ আমেরিকা যেতে চায়, আর তুই আসছিস বাংলাদেশে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা, যে কোনো সময় এখানে ফিরে আসার পথ আমার খোলা থাকছে। আমি আসলে তোমার সঙ্গে অন্তত কিছু সময় থাকতে চাই। তোমাকে আরেকটু বুঝতে চাই। ছোটোবেলার কথা কিছু মনে আছে, দূর থেকে যতোটা বুঝি সেই বোঝাটাও যাচাই করা দরকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুব ভালো কথা। কিন্তু এখানে এসে কি টিকতে পারবি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশ তো আমার অচেনা জায়গা নয়, বাবা। দেখি সেখানে নিজে কিছু করতে পারি কি না। এখন তুমি আমাকে খোলাখুলি বলো, তোমার আপত্তি নেই তো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কী আশ্চর্য, আমার ছেলে এতোদিন পর আসছে, আপত্তি হবে কেন? পাগল নাকি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাজিদের হাসির শব্দ শোনা যায়। বলে, ছোটোবেলায় তুমি আমাকে পাগলা বলতে মনে আছে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;থাকবে না কেন? তোর মনে আছে দেখে অবাক হচ্ছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাবা, আরেকটা কথা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি কিন্তু এসে তোমার বাসায় উঠবো। তোমার অসুবিধা হবে না তো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মায়ের সঙ্গে সাজিদ বেশ কয়েকবার এসেছে ঢাকায়। তখন থেকেছে রিনির সঙ্গেই। এই প্রথম সে একা আসছে। আমার অসুবিধা বলে সে কী জানতে চায়, বুঝতে পারি। নীলার সঙ্গে তার দেখা হলেও তেমন জানাশোনা তো হয়নি। নিশি-ঋষির সঙ্গেও খুব অল্প দেখা হয়েছে। নীলা কীভাবে নেবে, হয়তো তাই সাজিদ জানতে চায়। কী বলবো? সে বিষয়ে আমি নিজেও খুব নিশ্চিত হতে পারি না। সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলি, সেসব তোর ভাবার বিষয় না, আমি দেখবো। শুধু জানিয়ে দিস কবে তোকে আনতে এয়ারপোর্টে যেতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কথা শেষ করে ভাবি, সাজিদ এলে তাকে থাকতে দেওয়া হবে কোথায়? দুটি ঘরে কোনোমতে থাকা আমাদের, তার কোথায় জায়গা হবে, কী করে? তার আসতে আরো মাসখানেক দেরি, সেসব পরে ভাবা যাবে। আপাতত কাজে মন দিই। চাকরিটা তো সবার আগে রাখতে হবে, তারপর অন্য কথা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘড়িতে দেখি সাড়ে দশটা। ব্যাংক থেকে তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। এদিকে লাঞ্চের আয়োজন শেষ করে রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে দিতে হবে এগারোটায়। দেরি হয়ে যাচ্ছে, আজ আর টাকা গোনার সময় নেই। ব্যাংকে তো গুনবেই, তখন দেখা যাবে। টাকা ব্যাগে ভরে কিচেনের কাজকর্ম এক নজর দেখে নিই। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে বসে আছে। ঢাকা শহরে টাকাপয়সা নিয়ে চলাফেরা নিরাপদ নয়, কোনোকালে যে ছিলো তা-ও আজকাল আর মনে পড়ে না। রোজ সকালে এইরকম সময়ে মালিকের বা তার ছেলের গাড়ি আসে, ব্যাংকের কাজ শেষ হলে আমাকে নামিয়ে দিয়ে ফিরে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাচের দরজা দিয়ে বাইরে দেখে নিই, যতোদূর চোখ চলে। কাছাকাছি অচেনা লোকজন ঘোরাফেরা করছে দেখলে অপেক্ষা করার নিয়ম, যতোক্ষণ না নিরাপদ লাগে। আশেপাশে কাউকে না দেখে কালো পলিথিনে মোড়া টাকার ব্যাগ নিয়ে গাড়িতে উঠে বসি। আকাশে মেঘ করে আসছে। বৃষ্টি হবে নাকি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;strong&gt;নীলা&lt;/strong&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফোন বাজছে। একটু আগে নিশি-ঋষির ঘর গোছাতে গিয়েছিলাম, তখন হাতে ছিলো। সেখানে ভুলে রেখে এসেছি। দুই ছেলেমেয়ের কেউ বিছানা গোছাতে শিখলো না। ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে খাওয়া সেরে বেরিয়ে যায়। বিছানার চাদর বালিশ এমন দোমড়ানো মোচড়ানো যে বিছানা দুটোকে ঘূর্ণিঝড়-উপদ্রুত এলাকা বলে মনে হয়। তবু দয়া করে যে সেগুলো মেঝেতে ফেলে যায় না, এই বেশি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলেমেয়েরা, তাদের বাবা বেরিয়ে গেলে দ্বিতীয় কাপ চা বানাই। একা একা বসে খাই। সকালের চা খাওয়া হয় কোনোমতে, দশটা কাজ করতে করতে। কোনো কোনোদিন ভুলে যাই, অর্ধেক খাওয়া ঠাণ্ডা চা পরে ফেলে দিতে হয়। দ্বিতীয় কাপটা খাওয়া হয় নিজের মতো করে। চা শেষ না হওয়া পর্যন্ত টিভির সামনে থাকি। নির্দিষ্ট কোনোকিছু দেখা নয়, রিমোট টিপে শুধু এ-চ্যানেল ও-চ্যানেল ঘোরাফেরা। দেশী-বিদেশী কতো চ্যানেল আসে এখন, চাইলে দিনভর রাতভর দেখা যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেশিক্ষণ টিভি দেখতে আমার ভালো লাগে না, কেমন যেন একটু মন খারাপ হয়। এই তো কয়েক বছর আগেও টিভি বলতে ছিলো এক বিটিভি, সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টা চালু থাকতো। আমাদের সময়ে এতোগুলো চ্যানেল থাকলে আমার জীবন কেমন হতো কে জানে! হয়তো অন্যরকম কিছু হতো না। টিভি চ্যানেলের সংখ্যা তো সমস্যা ছিলো না, ছিলো অন্যকিছু। টিভি দেখতে গেলে পুরনো কথা মনে পড়ে, পরিচিতদের কাউকে পর্দায় দেখলেও। দূরে থাকা, ভুলে থাকা ভালো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চা শেষ করে রান্নাঘরে কিছু ধোয়া-মোছার কাজ সারতে হচ্ছিলো, এই সময় মোবাইল বাজলো। আজকাল বাসায় কাজের লোক পাওয়া আর দূর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া একই রকম অসম্ভব হয়ে গেছে। সব নিজেকে করতে হয়। উঠে নিশি-ঋষির ঘরের দরজায় পৌঁছাতেই ফোন থেমে গেছে। কে হতে পারে? তুলে দেখি, নম্বর অচেনা। ইচ্ছে করলে কল ব্যাক করা যায়, করি না। যে-ই হোক, দরকার হলে আবার করবে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের বাসায় ল্যান্ডলাইন ফোন নেই। আজকাল মোবাইল শস্তা হওয়াতে ল্যান্ডফোন না হলেও চলে। তিন মোবাইলের দুটো জামাল আর নিশির কাছে, আরেকটা আমার কাছে। ঋষির বায়না, তাকেও একটা দিতে হবে। স্কুলে তার অনেক বন্ধুর মোবাইল আছে। তাকে আরো বছর দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে বলা হয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চাই তো অনেককিছু। সবারই। আসবে কোত্থেকে? ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে, তাদের আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা দরকার। ঘর ও পড়ার টেবিলের মতো একটামাত্র কমপিউটার তারা ভাগাভাগি করে। তা-ও নাকি পুরনো হয়ে গেছে, বদলাতে হবে। সামনে শীত, ঋষির শীতের জামাকাপড় দরকার, আগেরগুলো ছোটো হয়ে গেছে। কোথা থেকে কীভাবে ব্যবস্থা হবে জানি না। জামালের একার উপার্জনে আর চলছে না, মাসের শেষে যা ঘরে আনে তাতে কায়ক্লেশে চলে। বাসাভাড়া, গ্যাস-ইলেকট্রিক-বাজার খরচ, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা এইসবের বাইরে সবকিছুই বাড়তি কয়েক বছর ধরে। আরো কতোদিন এইভাবে চলবে, চালানা যাবে কে জানে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলেমেয়ে দুটোর মুখের দিকে তাকাতে কষ্ট হয়। এইরকম দিন এনে দিন খাওয়ার অবস্থা আমাদের সবসময় ছিলো না। ঋষি তখনো ছোটো, মনে থাকার কথা নয়। কিন্তু নিশি এই বদলটা নিজের চোখে দেখেছে, কোথা থেকে কোথায় নামতে হলো আমাদের। প্রথম প্রথম কী মনমরা হয়ে থাকতো। বড়ো আদরে বড়ো হয়ে উঠছিলো সে। মুখ ফুটে বলামাত্র তার বাবা জিনিসটা এনে হাজির করে দিতো। সেই মেয়ে ক্রমে একেবারে কিচ্ছু না চাইতেও শিখে গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইসব ভাবলে নিজেকে শান্ত রাখা কঠিন হয়ে যায়। তাই মনে করতে চাই না। অথচ উপায় কী? মনে পড়ার কতো অজুহাত কীভাবে যেন তৈরি হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইচএসসি দিয়ে আমি বিএ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলাম। জামালের সঙ্গে বিয়ে হলে লেখাপড়া আর করা হয়নি। বিদ্যার জোর থাকলে বা তেমন কোনো কাজ জানলে আমি কিছু আয়-উপার্জনের চেষ্টা করতে পারতাম। সে উপায় নেই। জানার মধ্যে জানি এক গান, তা-ও আর আমার গাওয়া হবে না। বিশুদ্ধ গৃহবধূ হতে আমি চাইনি, হওয়ার কথা ছিলো না, অথচ তাই হয়ে বসে আছি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজকের যে জামাল, তাকে আমি বিয়ে করিনি। এখনকার এই জামালকে চিনি না, চিনতে কষ্ট হয়। সে নিজেও কি নিজেকে আর চিনতে পারে? ঊনিশ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়, তখন সে অন্য মানুষ ছিলো। হয়তো অন্য কেউ। স্বাস্থ্যবান সুপুরুষ সুখী চেহারার জামাল এখন পুরনো কাঠামোর ওপরে অন্য কেউ। হাসিখুশি মুখচোখ চোয়াড়ে কর্কশ হয়ে গেছে, ফরসা মুখে পোড়া তামাটে রঙের পরত, শরীর-স্বাস্থ্য ভেঙেচুরে পড়ার দশা। সহজ আরামপ্রিয় জীবনে অভ্যস্ত মানুষটার চেহারায় খেটে খাওয়া মানুষের রুক্ষ্মতা এখন। শুধু বয়সের কারণে যে সবটা নয়, তা আমার চেয়ে বেশি আর কে জানে? ওর বন্ধুদের কারো মুখে ওরকম ধস দেখি না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রান্নাঘরের ধোয়ামোছা শেষ করে বসার ঘরে ফ্যান চালিয়ে বসেছি। ভ্যাপসা গরম পড়েছে আজ। আবার মোবাইল বাজে। এবার ফোন হাতের কাছেই আছে। তুলে হ্যালো বলি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওপারে অচেনা পুরুষের গলা। ভদ্রোচিত বিনয়ে জিজ্ঞেস করে, আমি কি নীলাঞ্জনা সুলতানার সঙ্গে কথা বলছি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হ্যাঁ, আমি নীলাঞ্জনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি সৈকত আহমেদ কথা বলছি সাপ্তাহিক অষ্টপ্রহর পত্রিকা থেকে। আপনার একটা সাক্ষাৎকার নিতে চাই আমাদের কাগজের জন্যে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অষ্টপ্রহর পত্রিকার নাম শুনেছি বলে মনে করতে পারি না। কতো রকমের কাগজ যে হয়েছে এখন! সে কথা মুখের ওপর বলা যায় না। বলি, আমি তো ভাই গান-বাজনা ছেড়ে দিয়েছি নয়-দশ বছর হয়ে গেলো। আর গাইবোও না কোনোদিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা সেরকম বিষয় নিয়েই একটা বিশেষ ফিচার চালু করেছি আমাদের পত্রিকায়। এই বিভাগে শুধু তাঁদের কথা থাকবে যাঁরা একসময় গানে বা অভিনয়ে নাম করেছিলেন, কিন্তু এখন হারিয়ে গেছেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবি, হারিয়ে গেছি? কোথায়? কীভাবে? আশ্চর্য তো, আমি জানলামই না?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিনীতভাবে বলি, আমি অপারগ। আমাকে ছেড়ে দিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সৈকত আহমেদ নাছোড়বান্দার মতো বলে, বেশি সময় নেবো না। আপনার সুবিধামতো আধ ঘণ্টা সময় দিন। আমি এই কাগজ
